কোলেস্টেরল— শব্দটির সঙ্গে কম-বেশি সবাই পরিচিত। কিছুক্ষেত্রে এটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর আবার কিছুক্ষেত্রে উপকারিও। আসলে কোলেস্টেরল ভালো হয় আবার খারাপও হয়। ভালো কোলেস্টেরল (এইচডিএল) হরমোনের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে, ভিটামিন ডি তৈরিতে সাহায্য করে। অন্যদিকে খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) হার্টের ধমনীতে জমতে জমতে রক্ত চলাচলের পথে বিঘ্ন ঘটায়। ফলে বাড়ে হৃদরোগের ঝুঁকি।
শরীরচর্চার অভাব, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণ বেড়ে যায় খারাপ কোলেস্টেরল। তবে রান্নার কিছু ভুলও এর জন্য দায়ী থাকতে পারে। বাড়িতে হার্টের রোগী কিংবা উচ্চ কোলেস্টেরল সমস্যায় ভোগা রোগী থাকলে কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন, চলুন জেন নিই-
বেশি তেল:
শরীরের জন্য ফ্যাটের প্রয়োজন, তবে তা অবশ্যই স্বাস্থ্যকর ফ্যাট হতে হবে। দৈনন্দিন রান্নায় অতিরিক্ত তেলের ব্যবহার পেট ও হার্ট, দুইয়ের জন্যই ক্ষতিকর হতে পারে। চিকিৎসকরা বলেন, কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে তেল যত কম খাওয়া যায় ততই ভালো। অলিভ অয়েল, বাদামে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকে। এগুলি পরিমিত খেতে পারেন।
ভাজাভুজি:
অনেকেই মনে করেন, বাইরের খাবার তো খান না, ঘরে একটু বেগুনি, পেঁয়াজু ভেজে নিলে কী ক্ষতি! কেউ আবার ভাত, রুটির সঙ্গে নিয়মিত কোনো না কোনো ভাজা খানই। খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা যদি বেশি থাকে তাহলে রোজ রোজ ভাজাপোড়া খাবার খাওয়া ছাড়ুন। খেতে ইচ্ছে করলে মাঝেমধ্যে খেতে পারেন।
ফাইবারের অভাব:
খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে ফাইবারের। ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল শোষণে বাধা দেয়। তাই দৈনন্দিন খাবারে ফাইবার থাকা জরুরি। বিভিন্ন রকমের শাক, সবজি ফাইবার মেলে। এ ছাড়াও, রাগি, ওটস, ডালিয়া, ডাল এই ধরনের খাবারগুলোও ফাইবারের ভালো উৎস।
বেশি লবণ ও চিনি:
খাবারে স্বাদ আনার জন্য লবণ ও চিনি দুইয়ের দরকার হয়। কিন্তু কোনোটিই বেশি খাওয়া ভালো নয়। বিশেষত চিনির মাত্রা যতটা সম্ভব কমানো ভালো। লবণের ব্যবহার হওয়া উচিত পরিমিত। তবে লবণ খাওয়া পুরোপুরি ছাড়া যাবে না। এতে দেহে সোডিয়ামের ঘাটতি হতে পারে।
বার বার গরম:
অনেকেই ভাজাভুজি জাতীয় খাবার গরম করে খান। খাবার ঠান্ডা হলে তেল বা ফ্যাট জমে যায়। সেটি যখন আবার গরম করা হয়, সেই জমে যাওয়া তেল বা ফ্যাট ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। এই ধরনের খাবার ধমনীর জন্য ক্ষতিকর, কারণ এতে ধমনীতে প্লাক বা ফ্যাট সঞ্চিত হতে পারে। তাই ভাজাভুজি জাতীয় খাবার বার বার গরম করা থেকে বিরত থাকুন।