ইরানে এরফান সোলতানি নামে এক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তারের তিনদিনের মধ্যে বিচার শেষ করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যা আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) কার্যকর হবে। তার এই মৃত্যুদণ্ড নিয়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বেগ জানিয়েছে।
কে এই এরফান সোলতানি?
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, সোলতানি পেশায় একজন দোকানদার। বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় গত ৮ জানুয়ারি তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তেহরানের উপকণ্ঠের কারাজ শহরে তার বাসা। সেখান থেকে তাকে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী। এরপর তিনদিনে বিচার করে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো দাবি করেছে বিক্ষোভে শুধুমাত্র স্বাধীনতার জন্য স্লোগান দেওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ১১ জানুয়ারি সোলতানিকে নিয়ে আদালতে শুনানি হয়। ওইদিন আদালত তাকে মোহারেবেহ বা ‘আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ করার অপরাধে অভিযুক্ত করে এবং মৃত্যুদণ্ড দেয়।
তার পরিবারকে পাঁচদিন আগে মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপারে অবহিত করা হয় এবং তাদের বলা হয় যেদিন দণ্ড কার্যকর হবে ওইদিন সকালে মাত্র ১০ মিনিটের জন্য তাদের সঙ্গে তাকে দেখা করতে দেওয়া হবে।
ইরফান সোলতানি মধ্য ইরানে একটি কাপড়ের দোকান চালান। কিছু সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে তিনি একজন ফটেগ্রাফারও। তবে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
গ্রেপ্তারের কয়েকদিন পর্যন্ত তার পরিবার তার সম্পর্কে কোনো খোঁজ খবর পাচ্ছিল না। এরপর সরকারি কর্মকর্তারা গ্রেপ্তার ও মৃত্যুদণ্ড সম্পর্কে তাদের অবহিত করেন।
মানবাধিকার সংস্থা হেংগো অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলকে জানিয়েছেন, সোলতানির মৃত্যুদণ্ডের ঘটনায় তার পরিবার ভেঙে পড়েছে। তাদের শঙ্কা, সোলতানিকে কোনো সিটি স্কয়ারে প্রকাশ্যে ফাঁসিতে ঝোলানো হতে পারে, যেন অন্যান্য বিক্ষোভকারীর ভয় পান।
সোলতানির বোন একজন আইনজীবী। তবে তাকে ভাইয়ের পাশে দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি।