42878

01/17/2026 ৮০০ বিক্ষোভকারীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছে ইরান

৮০০ বিক্ষোভকারীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৬ জানুয়ারী ২০২৬ ১১:০৪

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় গ্রেফতারকৃত ৮০০ বিক্ষোভকারীর ফাঁসি কার্যকর স্থগিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট গতকাল মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ক্যারোলিন লিভিট বলেন, ‘আমাদের প্রেসিডেন্টের কাছে তথ্য এসেছে যে ইরান ৮০০ জন বিক্ষোভকারীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করা স্থগিত করেছে। এই বিক্ষোভকারীদের আজ (বুধবার) ফাঁসি হওয়ার কথা ছিল।’

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদের চাপের জেরে ইরানে ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

গত প্রায় ২০ দিন ধরে দেশজুড়ে তীব্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জেরে রীতিমতো ফুঁসে উঠেছে ইরান। ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসীন হওয়া ইসলামি প্রজাতন্ত্রি সরকার তাদের শাসনামলের ৪৭ বছরে এত বড় মাত্রার বিক্ষোভ-আন্দোলন প্রত্যক্ষ করেনি।

এই আন্দোলন-বিক্ষোভ ফুঁসে ওঠার প্রাথমিক কারণ দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতি । বছরের পর বছর ধরে অবমূল্যায়নের জেরে ইরানের মুদ্রা ইরানি রিয়েল বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রার স্বীকৃতি পেয়েছে। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫। অর্থাৎ ইরানে এখন এক ডলারের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল।

জাতীয় মুদ্রার এই দুরাবস্থার ফলে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি চলছে ইরানে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন ইরানের সাধারণ জনগণ।

এই পরিস্থিতিতে গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেয় রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। সেই ধর্মঘট থেকেই উত্তাল বিক্ষোভের সূত্রপাত।

এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ এবং প্রতিনিয়ত বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে। বর্তমানে পুরো দেশকে কার্যত অচল করে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

বিক্ষোভ দমনে ইতোমধ্যে ইন্টারনেট-মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করেছে ইরান, সেই সঙ্গে দেশজুড়ে পুলিশ-নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি মোতায়েন করেছে সেনাবাহিনী। জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সংঘাতে ইতোমধ্যে দুই হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সেই সঙ্গে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার হয়েছে।

এই ব্ল্যাকআউটের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি’ (এইচআরএএনএ) হতাহতের একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির দাবি, এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৪১৭ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১২টি শিশুও রয়েছে।

সংঘর্ষের মাঝে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন বিক্ষোভে অংশ না নেওয়া আরও ১০ সাধারণ নাগরিক। অন্যদিকে নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকার-সমর্থিত অন্তত ১৫০ জন নিহত হয়েছেন। সংস্থাটির তথ্যমতে, এই অস্থিরতার মধ্যে অন্তত ১৮ হাজার ৪৩৪ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি-এজেই বিক্ষোভকারীদের ‘দাঙ্গাবাজ’ আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার তিনি বলেন, ‘যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, তাদের বিচার ও শাস্তির বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে। মূল অভিযুক্তদের বিচারপ্রক্রিয়া সংবাদমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।’

এদিকে, বিক্ষোভের শুরু থেকেই ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়ে আসছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ২৮ ডিসেম্বর বিক্ষোভ উস্কে ওঠার পর থেকে এ পর্যন্ত বেশ কয়েক বার এমন হুমকি দিয়েছেন তিনি।

তবে বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, সরকারবিরোধী বিক্ষোভের কারণে ইরানে মার্কিন হামলার আশঙ্কা কম।

সম্পাদক: মো. জেহাদ হোসেন চৌধুরী
যোগাযোগ: রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১১ তলা) ৫১-৫১/এ, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৭১১-৯৫০৫৬২, ০১৯১২-১৬৩৮২২
ইমেইল: [email protected], [email protected]