42978

01/19/2026 ভোটের মাঠে এখনও ৪০ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী, কী ভাবছে বিএনপি?

ভোটের মাঠে এখনও ৪০ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী, কী ভাবছে বিএনপি?

ডেস্ক রিপোর্ট

১৯ জানুয়ারী ২০২৬ ১৪:২৪

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভোটের আবহও জমে উঠেছে চারদিকে। পুরোদমে প্রচারণা শুরু হবে শিগগিরই। সবশেষ ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি এবার ভোটের মাঠে অন্যতম ফেভারিট। তবে দলটির দুশ্চিন্তা হয়ে আবির্ভাব ঘটেছে বিদ্রোহী প্রার্থী ইস্যু। এরকম অনেকে সরে দাঁড়ালেও, এখনও ৪০টি আসনে ভোটের মাঠে বিএনপির অর্ধ-শতাধিক বিদ্রোহী। তাদের বুঝিয়ে একক প্রার্থী নিশ্চিতে দলটির হাতে আছে মাত্র একদিন।

এরইমধ্যে মরার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে নতুন ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ তিন আসনে প্রার্থিতা বাতিলের ঘটনা। তবে, বিএনপির নেতারা বলছেন, ফ্যাক্টর হবে না বিদ্রোহীরা। অপরদিকে, আইনি লড়াইয়ে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করবেন তিন আসনের নেতারা।

মূলত, তফসিলের পর আসনভিত্তিক প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপি। এরপর থেকেই দলটির দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়ায় বিদ্রোহীরা। দলটির হিসাবে, দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে অন্তত ৫২টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৯১ জন। যাদের বেশির ভাগই দলের পদধারী এবং সাবেক হেভিওয়েট নেতা।

বিদ্রোহী ঠেকাতে ৩০ ডিসেম্বর দলটির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দিনই বহিস্কার করা হয় ১০ নেতাকে। কিন্তু তাতেও মেলেনি সুফল। শেষমেষ সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে হয়, দলীয় প্রধান তারেক রহমানকে। বেশকিছু দিন ধরে বিদ্রোহীদের ডেকে বৈঠক করছেন তিনি। চেয়ারম্যানের আশ্বাসে, এরমধ্যেই ভোটের মাঠ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন অন্তত ১০ জন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, 'এখনও সময় আছে। তারা সময়মতো সিদ্ধান্ত নিবে আমরা সেটা বিশ্বাস করি। আর কেউ যদি সিদ্ধান্ত না নেয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিদ্ধান্তে আসতে হবে।'

তবে, এর উল্টো উদাহরণও রয়েছে। তারেক রহমানের সাথে বৈঠক করেও ভোটের মাঠ থেকে সরে আসেননি ঢাকা-১২ আসনের বিদ্রোহী প্রার্থী সাইফুল আলম নিরব। এখনও সক্রিয় এরকম বেশকিছু বহিস্কৃত নেতা। বিদ্রোহী দমনে, বেশ কয়েকটি উপজেলা ও জেলা কমিটিও বিলুপ্ত করেছে দলটি। কিন্তু তারপরও মাঠে রয়ে গেছে আরও অর্ধশতাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী।

আমীর খসরু বলেন, 'স্বাভাবিকভাবে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ যায় না। যারা যায় তারা ছোট একটি অংশ। নির্বাচনে এদের কোন প্রভাব নেই।'

এদিকে, বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে টালমাটাল অবস্থার মধ্যে ঋণ খেলাপ আর দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে কুমিল্লা-৪, কুমিল্লা-১০ এবং চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থীদের অযোগ্য ঘোষণা করেছে ইসি। তবে উচ্চ আদালতে রিট করে প্রার্থীতা ফিরে পাওয়ার সুযোগ এখনও আছে বলছেন দলটির আইনজীবী।

বিএনপির আইন সহায়তা উপকমিটির প্রধান ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবি ব্যারিস্টার রুহুল কদ্দুছ কাজল বলেন, 'আমিতো মনে করি এটাই শেষ না। আইনি প্রক্রিয়ার সূযোগ এখনো রয়েছে। ২০২৪ সালের আমি ডামি নির্বাচনেও কিন্ত ২ জন প্রার্থী আপীল বিভাগ পর্যন্ত লড়াই করেছেন। তাই নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও অনেক রিট পিটিশন দায়ের হবে।'

উল্লেখ্য, তফসিল অনুযায়ী মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি। বিএনপি ভোটের মাঠ থেকে বিদ্রোহীদের সরাতে সময় পাবেন আর মাত্র ১ দিন। এখন দেখার বিষয়, একাধিকবার রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা দলটি নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে কীভাবে, কেমন করে এই পরিস্থিতি সামাল দেয়।

সম্পাদক: মো. জেহাদ হোসেন চৌধুরী
যোগাযোগ: রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১১ তলা) ৫১-৫১/এ, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৭১১-৯৫০৫৬২, ০১৯১২-১৬৩৮২২
ইমেইল: [email protected], [email protected]