সোমবার, ২৫শে মে ২০২৬, ১০ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে গরীবের চেয়ে ধনীদের সামাজিক সরক্ষায় প্রায় দ্বিগুণ বরাদ্দ হয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রতিবেদন তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতীয় বাজেট থেকে সামাজিক সুরক্ষায় ধনীদের পেছনে খরচ হয় ৪ শতাংশ। সেখানে গরীবদের পেছনে খরচ হয় মাত্র ২ শতাংশ।
রোববার (২৪ মে) ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জাতীয় বাজেট ভাবনা শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমাদের দেশে স্বাধীনতার প্রায় ৫৫ বছর পরও বাজেটের বড় সমস্যা হলো এটি গতানুগতিক ধারায় রয়ে গেছে। যদি এই ধারা থেকে আমরা বের হতে না পারি তাহলে বড় বড় বাজেট দিয়েও আসলে প্রকৃত অর্থে কোন উন্নতি হবে না। ধীরে ধীরে বাজেট হয়ে উঠেছে মানুষকে শোষণের হাতিয়ার। বড় বাজেট দিয়ে অতীতে লুটপাট এবং অর্থপাচারের একটা সুস্পষ্ট পরিকল্পিত বন্দোবস্ত আমরা দেখতে পেয়েছি। বাস্তবে এতে জনগণের ভাগ্যে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
তিনি বলেন, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যারা ট্যাক্স কালেক্ট করছেন, তারা পদে পদে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। আবার ব্যয়ের ক্ষেত্রেও বড় অংকের দুর্নীতি হচ্ছে। এতে স্বাধীনতা ৫৫ বছরে বাজেটের আকার প্রায় হাজার গুণ বাড়লেও দেশের মানুষ সেই তুলনায় সুবিধা পাচ্ছে না।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, আমরা বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সরকারের বাজেট এবং দেশের অর্থনৈতিক চালিকা শক্তিকে অন্তর্নিহিতভাবে আরেকটু মজবুত ও শক্তিশালী করার কাজে সাহায্য করতে চাই। আমাদের বাজেট ডিসকাশন তারই একটা অংশ এবং আমরা এরই মধ্যে অন্তত ৭-৮টা বাজেট ডিসকাশনের আয়োজন করেছি। এই আলোচনা থেকে কিছু রিকমেন্ডেশন (সুপারিশ) নিচ্ছি, এগুলোই আমরা কনসাইজ (সংক্ষিপ্ত) করে পার্লামেন্টারি পার্টির মাধ্যমে উপস্থাপন করতে চাই।
তিনি বলেন, আমরা বাজেটকে সুন্দর করতে একটু অংশগ্রহণ করতে চাই। যদিও আমরা এটাও বুঝি যে মেজরিটির জোরে যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেন, পার্লামেন্টে যারা ভূমিকা রাখেন সেখানে বিরোধী দল হিসেবে কথা বলা কিংবা পরামর্শ দেওয়া গেলেও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা যায় না। তবে আমাদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আমরা কেমন বাজেট চিন্তা করি, সেটা জাতি জানুক। সেজন্যই আমরা বাজেটে নিজেদের মতো করে অংশগ্রহণ করতে চাই।
তিনি আরও বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইউনোসকো বলছে, একটি দেশের মোট বাজেটের অন্তত ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ হওয়া উচিত। অথচ আমরা সেখানে ২ শতাংশও দিতে পারছি না। স্বাস্থ্য খাতে ১৫ শতাংশ বরাদ্দ থাকা উচিত হলেও সেখানে ১ শতাংশের কম বরাদ্দ হয়। কৃষি খাতেও ৫ শতাংশের কম বরাদ্দ হয় না। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া উচিত। এই খাতেও অনেক কম বরাদ্দ হয়।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আগামী বাজেটকে একটু অন্তর্নিহিত করে জাতীয় অর্থনীতিকে কিভাবে আরেকটু শক্তিশালী করা যায় আমরা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সেই চেষ্টাটা করবো। রাজস্ব সংগ্রহের পদ্ধতিগত দুর্বলতা দূর করা, আয়ের আওতা বাড়ানো, ব্যয়ের ক্ষেত্রে অদক্ষতা দূর করা এবং দুর্নীতি-অপচয় শক্তিকে থামাতে আমরা আমাদের পক্ষ থেকে যতটুকু করা সম্ভব তা করবো। এই বিষয়গুলো গুরুত্ব না পেলে আগামী বাজেট কার্যকর সম্ভব হবে না।
সভায় জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহনগরের দক্ষিণের আমির এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ এর সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, আমাদেরকে বিরোধী দল হিসেবে ট্রাডিশনাল বাজেট থেকে বের হওয়ার পথ দেখিয়ে দেওয়া উচিত। আমরা বিরোধী দল হিসেবে সেই দায়িত্ব পালনে কাজ করছি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে যেসব আমলারা বাজেট প্রণয়ন করেন, বাজেটে কেবলমাত্র তাদের চিন্তাভাবনার প্রতিফলনই দেখা যায়। এখানে জণগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ থাকে না। বাজেটকে ওপর থেকে পার্সেন্টেজ বাড়ানো নয়, বস্তুতপক্ষে সমাজের মধ্যে মৌলিকভাবে কোন দিকগুলোতে মূল্যায়ন দেয়া উচিত, সেটি পাধাণ্য পায় না।
তিনি বলেন, আমরা দুর্নীতি বন্ধ না করতে না পারলে, বাজেটের আয়তন বাড়লেও সঙ্গে সঙ্গে দুর্নীতিও বাড়বে। এতে বস্তুতপক্ষে কোন উন্নতি হবে না। বাজেটে অপচয় রোধ পরিকল্পনা থাকা উচিত। পরনির্ভরশীলতা ও বৈদেশিক ঋণ নির্ভর বাজেট থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। বাজেটে একটি পরিকল্পনা থাকা উচিত যে, কত বছরের মধ্যে আমরা বৈদেশিক ঋণ কি পরিমান কমিয়ে আনতে সম্ভব হবো।
তিনি আরও বলেন, সার্বিকভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে দুর্নীতিকে কমিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগোতে হবে। আমরা সংসদে ও বাইরে এই বিষয়টি বলে যাচ্ছি। পাশাপাশি দেশীয় সম্পদের অনুসন্ধান ও ব্যবহারে গুরুত্ব বাড়াতে হবে। এছাড়া কৃষি ও শিল্প সেক্টরে উৎপাদন বাড়াতে হবে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকেও শক্তিশালী করতে হবে।