রবিবার, ২৪শে মে ২০২৬, ১০ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


বলেছিলেন ম্যারাডোনা

‘স্কালোনি ট্রাফিকও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না’

খেলা ডেস্ক

প্রকাশিত:২৪ মে ২০২৬, ১১:২৭

ছবি ‍: সংগৃহীত

ছবি ‍: সংগৃহীত

লিওনেল স্কালোনিকে খুব কম সময়ই আবেগের নিয়ন্ত্রণ হারাতে দেখা গেছে। তিনি যেন আত্মসংযমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে যখন আর্জেন্টিনা সাড়ে তিন দশকের খরা কাটিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, তখনও যেন কিছুই ঘটেনি এমন ভাব স্কালোনির। লুসাইলে ফ্রান্সের বিপক্ষে টাইব্রেকারে গঞ্জালো মন্টিয়েল শেষ পেনাল্টিতে সফল হতেই উল্লাসে মাতে লিওনেল মেসি-বাহিনী। তখনও স্থির–নীরব ছিলেন স্কালোনি, কেউ একজন এসে জড়িয়ে ধরতেই আবেগের বাঁধ ভেঙে আপ্লুত হন এই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন কোচ।

কীভাবে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করেন স্কালোনি? ঘনিষ্ঠদের মতে– ফুটবলের বাইরে একটি শখই স্কালোনিকে তাকে আত্মসংযম শিখিয়েছে। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে তিনি প্রতিদিন ২-৩ ঘণ্টা সাইক্লিং করেন। যা স্কালোনির বন্ধু সাবেক স্প্যানিশ টেনিস তারকা কার্লোস মোয়া’র পরামর্শে শুরু করা অভ্যাস। মায়োর্কা দ্বীপের পাহাড়ি পথে কিংবা নিজের শহর পুজাতোর ট্রেইলে সাইকেল চালাতে চালাতে স্কালোনি মন পরিষ্কার করেন, নানা বিষয় নিয়ে ভাবেন।

যা নিয়ে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারেও বলেছিলেন স্কালোনি, ‘সাইকেলে থাকলে দল, প্রতিপক্ষ ও ম্যাচের প্রস্তুতি– সবকিছু নিয়ে ভাবা যায়। এতে মাথা পরিষ্কার হয়। আমি এটাকে থেরাপি হিসেবে ব্যবহার করি। এটা ভালো এক মুক্তির পথ…প্রত্যাশার চাপ কমাতে এবং শান্ত থাকতে সাহায্য করে।’

আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই স্কালোনি টানা দুই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দেওয়া তৃতীয় কোচ হতে যাচ্ছেন। এর আগে এই কীর্তি গড়েছেন সিজার লুইস মেনোত্তি (১৯৭৮ ও ১৯৮২) এবং কার্লোস বিলার্দো (১৯৮৬ ও ১৯৯০), তাদের দুজনই আবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন কোচ। তবে সবচেয়ে কমবয়সী কোচ স্কালোনি নিজেকে তাদের সমপর্যায়ে মনে করেন না। তার ভাষায়, ‘আমি মনে করি না আমরা একই স্তরে আছি। তারা প্রতিষ্ঠিত ক্যারিয়ারের মানুষ, তারা একটা যুগ নির্ধারণ করেছেন।’

এর আগে ২০১৮ সালে কোনো পেশাদার দল পরিচালনার অভিজ্ঞতা ছাড়াই অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে আর্জেন্টিনার দায়িত্ব নেন স্কালোনি। তার কয়েক মাস আগে তারা ২০১৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছিল। তখন আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) সিনিয়র দলের কোচ হিসেবে মরিসিও পচেত্তিনো বা দিয়েগো সিমিওনে–র কথা ভাবছিল। সে সময় স্কালোনির প্রসঙ্গ এলে বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা’র মন্তব্য ছিল, ‘স্কালোনি? সে তো ট্রাফিকও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।’

এরপর অনভিজ্ঞ কোচ স্কালোনির অধীনেই আর্জেন্টিনা জিতে নেয় ২০২১ কোপা আমেরিকা এবং সফলভাবে ২০২২ বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব পার হয়। বিশ্বকাপের শুরুতে সৌদি আরবের কাছে হেরে ধাক্কা খাওয়ার পর মেসিকে সামনে রেখে এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও হুলিয়ান আলভারেজদের সুযোগ দেন আর্জেন্টাইন কোচ। পরে বিশ্বকাপ জয়ের পর ম্যারাডোনার মন্তব্য নিয়ে স্কালোনির বিনয়ী জবাব, ‘সমালোচনা স্বাভাবিক ছিল, আমি কোথাও কোচিং করাইনি। (ম্যারাডোনা) খুব ভুলও বলেননি।’

২০২০ সালে পৃথিবী থেকে বিদায় নেওয়া ফুটবল-ইশ্বর ম্যারাডোনা অবশ্য উত্তরসূরীদের তৃতীয় শিরোপা জয় দেখে যেতে পারেননি। এদিকে, সবশেষ ১৯৬২ বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার রেকর্ড গড়েছিল ব্রাজিল। এর আগে একমাত্র ইতালি ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ আসরে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। একই রেকর্ড গড়ার সামনে আছেন স্কালোনি, তার দল আর্জেন্টিনাও। পরপর বিশ্বকাপ জেতা কঠিন হলেও, অসম্ভব নয় বলে মনে করেন ৪৮ বছর বয়সী এই কোচ।

এবারও প্রত্যাশা বড় স্কালোনির। ৩৮ বছর বয়সে পৌঁছে যাওয়া মহাতারকা মেসিকে নিয়ে শিরোপা রক্ষার মিশনে নামার পাশাপাশি সামলাতে হবে আর্জেন্টাইন ফুটবল প্রশাসনের অস্থিরতাও। কনমেবলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপ খুব, খুব কঠিন। বিশ্বকাপ জিততে হলে শুধু ভালো খেললেই হয় না, অনেক কিছু একসঙ্গে মিলতে হয়। আর্জেন্টিনা যখনই বিশ্বকাপে যায়, সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করে। কাজটা কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়।’

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়