শনিবার, ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬ই ফাল্গুন ১৪৩২


পদ্মা-মেঘনায় মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

ঋণগ্রস্ত জীবনে নতুন বিপদ: রুবেল-জসিমদের নদীতে যাওয়ার পথ বন্ধ

ভোলা থেকে

প্রকাশিত:২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০৫

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে ভোলার মেঘনা-তেতুলিয়া নদীর ১৯০ কিলোমিটারে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরার ওপর টানা ২ মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞা। এতে আগামী ২ মাস কর্মহীন হয়ে পড়বেন ভোলার ৭ উপজেলার প্রায় ২ লক্ষাধিক জেলে। তবে এবারই প্রথম ১৩ হাজার ৬০০ জেলে পাবেন বিভিন্ন ধরনের খাদ্যসামগ্রী।

এদিকে আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নিষেধাজ্ঞার খবরে চরম দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে জেলে পল্লীগুলোতে। তবে নিষেধাজ্ঞার শুরু থেকেই জেলেদের ঋণের কিস্তি বন্ধ ও প্রথম সপ্তাহে সরকারি খাদ্য সহায়তা চালের দাবি জানিয়েছেন কর্মহীন থাকা জেলেরা।

এর আগে জেলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ২ মাসের (মার্চ-এপ্রিল) নিষেধাজ্ঞা শুরু হবে শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে। শেষ হবে আগামী ৩০ এপ্রিল দিনগত রাত ১২টায়। এ দুই মাস ভোলার মেঘনা নদীর চর ইলিশা থেকে চর পিয়াল পর্যন্ত ৯০ কিলোমিটার ও তেঁতুলিয়া নদীর চর ভেদুরিয়া থেকে চর রুস্তম পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটারসহ মোট ১৯০ কিলোমিটার এলাকায় ইলিশের অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ শিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

ভোলা মৎস্য বিভাগের তথ্য মতে, জেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজার ২৮৩ জন। এর মধ্যে ভোলা সদর উপজেলায় জেলে রয়েছেন ২২ হাজার ৪১২ জন, দৌলতখানে ২৪ হাজার ৩ জন, বোরহানউদ্দিনে ১৯ হাজার ৮৩৮ জন, তজুমদ্দিনে ১৯ হাজার ৫৭২ জন, লালমোহনে ২৪ হাজার ৮০৬ জন, চরফ্যাশনে ৪৪ হাজার ৩১১ জন ও মনপুরা উপজেলায় নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন ১৫ হাজার ৩৪১ জন। তাদের অনুকূলে মাসে ৪০ কেজি করে ৯০ হাজার ২শ জেলে পরিবারের জন্য ভিজিএফ চাল বরাদ্দ পেয়েছে মৎস্য বিভাগ।\

সরেজমিনে সদর উপজেলার শিবপুরের ভোলার খাল ও ধনিয়ার তুলাতুলি মেঘনা তীরে ঘুরে দেখা যায়, নিষেধাজ্ঞার খবরে সারি সারি নৌকা-ট্রলার নিয়ে তীরে ফিরছেন জেলেরা। তীরে আসার পর তাদের ট্রলার নিরাপদ স্থানে এনে ট্রলার থেকে ইঞ্জিন জালসহ মাছধরার সব সরঞ্জামাদি উঠিয়ে নিচ্ছেন। কেউ জাল মেরামত করছেন,কেউ কেউ প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যেন চলছে এক মহা কর্মযজ্ঞ তবে কারও মুখেই নেই হাসি।

জেলে মো.খোরশেদ, রফিকউল্লাহ রুবেল ও জসিম, বাবুল, কাঞ্চন ও সিরাজ বলেন, এ সিজনে গাঙ্গে আশানুরূপ ইলিশসহ অন্যান্য মাছ পাইনি। বিগত দিনের দেনা রয়েই গেছে, সুদও বাড়ছে। আজ রাত থেকে দুইমাসের অভিযান শুরু হবে, খুবই চিন্তায় আছি। চলছে রমজান মাস আবার সামনে আসতেছে ঈদ। কিভাবে যে সংসার চালাব বুঝতেছি না। জেলে কাজ ছাড়া অন্য কোনো কাজ আমরা জানি না। অভিযান চলাকালে আড়ৎদারের দেনার জন্য চাপ না দিলেও এনজিওর লোকজন বাড়িঘর থেকে যায় না। তারপরও সরকারের আদেশ মেনে জাল ট্রলার নিয়ে নদী থেকে উঠে গেছি। অভিযান চলাকালে আর গাঙ্গে যাব না।

তারা আরও বলেন, গাঙ্গে অভিযান মানেই আমরা কর্মহীন। অনেক কষ্টে দিন কাটাতে হয়। অভিযানের সময় মাসে ৪০ কেজি করে আমাদের চাল দেওয়া হয়। তা আবার সঠিক সময়েও পাই না। তাছাড়া শুধু চালে তো আর সংসার চলে না। সরকারের কাছে অভিযান শুরুর প্রথম সপ্তাহে চালসহ ঋণের কিস্তি বন্ধ রাখার দাবি জানাই। এছাড়া চালের সঙ্গে চাল-ডালসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাবিও জানাই। কারণ ঘরে অভাব দেখা দিলে জেলেরা বাধ্য হয়েই অভিযানের মধ্যে গাঙ্গে মাছ ধরতে যায়।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, এবারের অভিযান সফল করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা ও সচেতন সভা করেছি। ফেব্রুয়ারি থেকে মে, চারমাসের প্রতিমাসে প্রতিজন জেলে ৪০ কেজি করে ভিজিএফ চাল পাবে। ইতোমধ্যে বরাদ্দ পেয়েছি। অভিযানের প্রথম সপ্তাহে চাল বিতরণ করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, এ বছরই প্রথম ইলিশ সম্পদ প্রকল্পের আওতায় ভোলার ১৩ হাজার ৬০০ জেলেকে বিভিন্ন ধরনের খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে। সর্বোপরি অভিযান সফল করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়া জেলেদের ঋণের কিস্তি বন্ধ রাখার দাবির বিষয়ে জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে,আশা করি শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে।

প্রসঙ্গত, দেশে ইলিশের মোট ৬টি অভয়াশ্রম রয়েছে। এর মধ্যে ভোলাতেই রয়েছে ২টি অভয়াশ্রম, যা হলো মেঘনা তেতুলিয়া।

সম্পর্কিত বিষয়:

আপনার মতামত দিন:

(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)
আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়