বৃহস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল ২০২৬, ১৭ই বৈশাখ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
শ্রেণিকক্ষে জলাবদ্ধতার মাঝেই পানিতে পা ডুবিয়ে পরীক্ষা দিয়েছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অনার্সের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে নগরীর ধর্মপুরে অবস্থিত কলেজের ডিগ্রি ও অনার্স শাখার ক্যাম্পাসে এ চিত্র দেখা গেছে।
গত কয়েকদিনের টানা ঝড়-বৃষ্টির ফলে কুমিল্লা নগরীর বেশিরভাগ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানি প্রবেশ করেছে বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অফিস-আদালতে।
এর আগে কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় রামমালা এলাকার ইশ্বর পাঠশালা (উচ্চ বিদ্যালয়) কেন্দ্রে জলাবদ্ধতায় বেঞ্চে পা উঠিয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেওয়ার ছবি ভাইরাল হয়। যা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুকে ফোন করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়। বুধবার ইশ্বর পাঠশালা পরিদর্শন করেন সিটি করপোরেশন প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু। এসবের মধ্যেই কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ডিগ্রি ও অনার্স শাখার ক্যাম্পাসে একই চিত্র ভেসে উঠল।
শিক্ষার্থীরা জানান, বৃহস্পতিবার অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার ও বুধবারের টানা বৃষ্টিতে কলেজে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। কলেজের কলাভবন, বিজ্ঞান ভবনের নীচ তলার পরীক্ষার হলে জলাবদ্ধতার ফলে পানিতে পা ডুবিয়েই পরীক্ষা দিতে হয়েছে ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থীদের। বিজ্ঞান ভবন এবং কলাভবনে সবচেয়ে বেশি পানি ছিল। সেকারণে অনেকটা বাধ্য হয়ে পানিতে পা ডুবিয়ে পরীক্ষা দিতে হয়েছে। এছাড়াও কলেজে পানি মাড়িয়েই চলাফেরা করতে হচ্ছে সবাইকে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কেবল কলেজ ক্যাম্পাস নয়, পানি ঢুকে পড়েছে বেশ কয়েকটি ভবনেও। দক্ষিণ পাশে সীমানাপ্রাচীর না থাকায় সেদিক দিয়ে পানি প্রবেশ করে। কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা ভবন, কলাভবন, মিলেনিয়াম ভবন এবং কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির নীচ তলার ফ্লোর পানিতে ডুবে আছে।
কয়েকজন অভিভাবক বলেন, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এতে প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। কিন্তু ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটির মানোন্নয়ন থমকে আছে। একটু বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এখানে বর্ষার জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। এগুলোর স্থায়ী সমাধান না করতে পারলে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমবে না৷
কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বাসার ভূঁঞা বলেন, আশপাশের সকল স্থাপনা, বসতবাড়ি কলেজ ক্যাম্পাসের থেকে উঁচু। তাছাড়া দক্ষিণ পাশে কোনো সীমানাপ্রচীর নেই। কলেজ ক্যাম্পাস নিচু হওয়ায় সকল পানি কলেজের দিকে চাপে। কলেজের বেশিরভাগ ভবনই পুরাতন। হাঁটু পানি মাড়িয়ে কলেজে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সকল শিক্ষককেও আসতে হয়। অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা চলছে। শুধু ব্যবসা শিক্ষা ভবনে পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। বাকি সব ভবনে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধানে রাস্তার মতো বাঁধ নির্মাণে বরাদ্দ আনা হয়েছে। খুব শিগগির সেটির কাজ শুরু হলে এই সংকট কেটে যাবে।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)