মঙ্গলবার, ১২ই মে ২০২৬, ২৯শে বৈশাখ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
চলতি বছরের শেষের দিক নাগাদ কৌশলগত নতুন পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘সারমাত’ মোতায়েন করবে রাশিয়া। মঙ্গলবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নতুন এই অস্ত্র মোতায়েনের সময়সীমা ঘোষণা করেছেন। রাশিয়ার নিজের তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্রকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী’ অস্ত্র হিসেবেও অভিহিত করেছেন তিনি।
কয়েক হাজার মাইল দূরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইউরোপের যেকোনও লক্ষ্যবস্তুতে পারমাণবিক ওয়ারহেড নিয়ে আঘাত হানতে সক্ষম এই আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম)। কয়েক বছরের কারিগরি জটিলতা ও বারবার পিছিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে এটি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রেমলিন।
মঙ্গলবার রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে পুতিন বলেছেন, এই ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেডের বিধ্বংসী ক্ষমতা যেকোনও পশ্চিমা অস্ত্রের চেয়ে চার গুণেরও বেশি। এছাড়া এর পাল্লা ৩৫ হাজার কিলোমিটারের (২১ হাজার ৭৫০ মাইল) বেশি। তিনি বলেছেন, সারমাত ক্ষেপণাস্ত্রর বর্তমান সময়ের, এমনকি ভবিষ্যতের যেকোনও অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করার সক্ষমতা রয়েছে।
যদিও পশ্চিমা নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, পুতিন প্রায়ই রাশিয়ার নতুন প্রজন্মের এই পারমাণবিক অস্ত্রের সক্ষমতা নিয়ে অতিরঞ্জিত দাবি করেন। ২০১৮ সালে তিনি যখন প্রথম রাশিয়ার অস্ত্রাগার আধুনিকায়নের এই উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন, তখন থেকেই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।
অতীতের কিছু পরীক্ষায় ‘সারমাত’ ব্যর্থ হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। পশ্চিমা বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এক পরীক্ষার সময় উৎক্ষেপণ স্থলেই সারমাত ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণ ঘটেছিল। এতে সেখানে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়। এমনকি ২০১৫ সালের নভেম্বরেও আরেকটি পরীক্ষা ব্যর্থ হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
তবে মঙ্গলবার রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সেখানে দেখা যায়, রাশিয়ার কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার সের্গেই কারাকায়েভ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে বলছেন, সারমাতের সর্বশেষ পরীক্ষা সফল হয়েছে।
কারাকায়েভ বলেন, সারমাত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় সজ্জিত এসব লাঞ্চার মোতায়েনের ফলে আমাদের স্থলভিত্তিক কৌশলগত পারমাণবিক বাহিনীর যুদ্ধ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এটি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের নিশ্চয়তা এবং কৌশলগত প্রতিবন্ধকতা তৈরির সমস্যা সমাধানে বড় ভূমিকা রাখবে।
২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পুতিন বারবার রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তি ও বিশাল ভাণ্ডারের কথা বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। পশ্চিমা দেশগুলো পুতিনের এই হুমকিকে ইউক্রেনের পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে হস্তক্ষেপ থেকে তাদের বিরত রাখার জন্য এক ধরনের ‘পারমাণবিক হুমকি’ হিসেবে দেখছে।
সূত্র: রয়টার্স।