রোহিঙ্গাদের জন্য ২.৯ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছে সুইডেন
প্রকাশিত:
১২ জানুয়ারী ২০২৬ ২০:২২
আপডেট:
১২ জানুয়ারী ২০২৬ ২৩:০৬
রোহিঙ্গা সহায়তায় এসএএফই প্লাস টু (পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানি) যৌথ কর্মসূচির জন্য ২.৯ মিলিয়ন ডলারের অনুদান দিয়েছে সুইডেন সরকার।
সুইডিশ সরকারের এই অনুদানকে স্বাগত জানিয়ে সোমবার (১২ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর)।
ইউএনএইচসিআর জানায়, এসএএফই প্লাস টু কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে ইউএনএইচসিআর-কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে জীবনরক্ষাকারী কার্যক্রম এবং সবুজ জ্বালানির সমাধান এগিয়ে নিতে সুইডেন সরকারের ২.৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তাকে স্বাগত জানিয়েছে।
এসএএফই প্লাস টু কর্মসূচির লক্ষ্য হলো— পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানি, বিশেষ করে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি), ব্যবহার বৃদ্ধি, ক্ষতিগ্রস্ত বনাঞ্চল পুনরুদ্ধার, এবং রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য সবুজ দক্ষতা উন্নয়ন। জাতিসংঘের এই কর্মসূচিটি ইউএনএইচসিআর, এফএও, আইওএম এবং উব্লিউএফপি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে, বাংলাদেশ সরকারের ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউএনএইচসিআরের রিপ্রেজেনটেটিভ ইভো ফ্রেইসেন বলেন, প্রয়োজন বাড়তে থাকা সত্ত্বেও অর্থায়ন হ্রাসের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সুইডেনের উদার সহায়তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রোহিঙ্গা সংকটের আট বছর পরেও ১.১৭ মিলিয়ন রোহিঙ্গা এখনো বেঁচে থাকার জন্য মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। রোহিঙ্গা পরিবারগুলো প্রায়ই আমাকে বলে যে, তাদের দৈনন্দিন জীবনে এলপিজি কতটা গুরুত্বপূর্ণ-বিশেষ করে নারী ও কন্যাশিশুরা, যাদের আর জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের ঝুঁকিপূর্ণ পথে যেতে হয় না।
তিনি বলেন, এই অনুদান তাদের টিকিয়ে রাখতে এবং সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করছে, যতদিন না স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবর্তনের উপযুক্ত পরিবেশ মিয়ানমারে নিশ্চিত হয়।
বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক্স বলেন, বৈশ্বিক মানবিক তহবিল ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে, তাই আমাদের সর্বাধিক প্রয়োজনগ্রস্তদের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে এবং গত কয়েক বছরে অর্জিত সাফল্যগুলো বজায় রেখেই জীবন রক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এই অবদান শরণার্থীদের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহার করে রান্না চালিয়ে যেতে সহায়তা করবে, যা বন সংরক্ষণ ও তাদের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, তারা যতদিন না স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই উপায়ে মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারছে, ততদিন রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাদের আশ্রয়দাতা বাংলাদেশি জনগণের পাশে থেকে সংহতি জানাতে পেরে সুইডেন গর্বিত, মানবিক মর্যাদা ও পরিবেশ সংরক্ষণে অঙ্গীকারবদ্ধ।
জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ইউএনএইচসিআর সুইডেন সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে। শরণার্থীদের প্রতি তাদের দীর্ঘস্থায়ী প্রতিশ্রুতি ও সংহতির জন্য। বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যেভাবে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে, তা অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সহায়তা, বিশেষত সুইডেনের মতো দেশের সমর্থন, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: