বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন ২০২৬, ২৭শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ফাইল ছবি
দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে আগামী জুন-আগস্ট ২০২৬ সময়ের জন্য প্রায় ১৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকার জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে- গ্যাস অয়েল, জেট ফুয়েল, ফার্নেস অয়েল ও গ্যাসোলিন। আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এসব জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে।
বুধবার (১০ জুন) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এসব জ্বালানি তেল আমদানি করবে।
অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইউনিপেক সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড থেকে প্যাকেজ নং-পি জি-০১-এর আওতায় গ্যাস অয়েল (০.০০৫ শতাংশ সালফার) ও জেট এ-১ আমদানি করা হবে। এতে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৬৭২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।
একই ধরনের গ্যাস অয়েল ও জেট এ-১ আমদানির জন্য প্যাকেজ নং-পি জি-০২-এর আওতায় আনুমানিক ৬ হাজার ৭১১ কোটি ৭৫ লাখ টাকার ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্যাকেজের দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে সিঙ্গাপুরের ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড।
এ ছাড়া প্যাকেজ নং-পি জি-০৩-এর আওতায় ফার্নেস অয়েল (১৮০ সিএসটি) আমদানির জন্য ১ হাজার ৯০০ কোটি ৫ লাখ টাকার প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। এই তেল সরবরাহ করবে সিঙ্গাপুরের আরেক প্রতিষ্ঠান ট্রাফিগুরা প্রাইভেট লিমিটেড।
বৈঠকে প্যাকেজ নং-পি জি-০৪-এর আওতায় গ্যাসোলিন-৯৫ আনলেডেড আমদানির জন্য ৭৪৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকার ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এ চালানের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানও হচ্ছে সিঙ্গাপুরের ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড।
সব মিলিয়ে চারটি প্যাকেজের আওতায় মোট ১৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকার জ্বালানি তেল আমদানির পথ খুলে গেল। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বড় ক্রয় আদেশ পাচ্ছে ইউনিপেক সিঙ্গাপুর, যার মূল্য প্রায় ৭ হাজার ৬৭৩ কোটি টাকা। অন্যদিকে ভিটল এশিয়া দুটি প্যাকেজের মাধ্যমে প্রায় ৭ হাজার ৪৬১ কোটি টাকার সরবরাহ আদেশ পেতে যাচ্ছে।
জানা গেছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প খাত এবং পরিবহন ব্যবস্থার জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত আমদানি কর্মসূচির অংশ হিসেবে এসব তেল কেনা হচ্ছে। জুন থেকে আগস্ট সময়কালে দেশের জ্বালানি মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে এ ক্রয়প্রস্তাবগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।