সোমবার, ১৫ই জুন ২০২৬, ১লা আষাঢ় ১৪৩৩


এসপি মাসুদ

চুক্তিপত্র ছিনিয়ে নিতেই মা-মেয়ে খুন, অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:১৫ জুন ২০২৬, ১৪:৩৬

ছবি ‍: সংগৃহীত

ছবি ‍: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চাঞ্চল্যকর মা-মেয়ে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। ঋণের চুক্তিপত্র (স্ট্যাম্প) ছিনিয়ে নিতেই এই জোড়া খুন করা হয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রিমন বড়ুয়া ওরফে তেজ্যপ্রিয় বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৫ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম।

এর আগে গত রাতে পটিয়া থানা এলাকা থেকে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার রিমন বড়ুয়া আনোয়ারার পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি এলাকার বেশান্ত বড়ুয়ার ছেলে। তিনি ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার রিমন বড়ুয়া জানান, ভিকটিম এনি বড়ুয়ার বাড়িতে সুজন বড়ুয়া নামের এক ব্যক্তির ঋণ সংক্রান্ত স্ট্যাম্প (চুক্তিপত্র) সংরক্ষিত ছিল। সেই চুক্তিপত্রটি চুরি করার উদ্দেশ্যেই একটি চাকু নিয়ে ওই বাড়ির পেছনের দরজায় ওত পেতে ছিলেন রিমন।

এ সময় গৃহকর্ত্রী এনি বড়ুয়া ঘর থেকে বের হয়ে রিমনকে দেখে ফেলেন এবং চিৎকার শুরু করেন। ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে রিমন তাকে চাকু দিয়ে আঘাত করেন। মায়ের চিৎকার শুনে মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া ঘটনাস্থলে ছুটে এলে তাকেও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম স্পষ্ট করে বলেন, টাকা-পয়সা ধার ও চুক্তিপত্র ছিনিয়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করেই ঘটনাটি ঘটেছে। তাদের নিজেদের মধ্যকার অন্তর্দ্বন্দ্বের বাইরে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক বা ভিন্ন উদ্দেশ্য আমরা পাইনি। এটি একেবারেই সামাজিকভাবে ঘটে যাওয়া একটি অপরাধ।

হত্যাকাণ্ডের পর আসামি দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপনের চেষ্টা করছিলেন। জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও আনোয়ারা থানা পুলিশের যৌথ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পটিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

জিজ্ঞাসাবাদে আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু এবং ভিকটিমের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এসপি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর ভিকটিমের মোবাইল ফোনটি নিয়ে পালিয়ে যান আসামি। পরে পুলিশ যাতে ট্র্যাক করতে না পারে, সেজন্য পটিয়া রেললাইনের পাশের একটি ডোবায় সেটি ফেলে দেন। অন্যদিকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকুটি বাড়ির পেছনের খালে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। পানির নিচে থাকায় লোহা শনাক্তকারী শক্তিশালী চৌম্বক দণ্ড ব্যবহার করে খাল থেকে চাকুটি উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে, গত শনিবার (১৩ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি গ্রামের বড়ুয়া পাড়ার নিজ বসতঘর থেকে এনি বড়ুয়া (৪০) ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়ার (১৬) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রিয়ন্তী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গুরুতর আহত অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার আগে মা এনি বড়ুয়া উপস্থিত লোকজনকে হামলাকারী তেজ্যপ্রিয় বড়ুয়ার নাম বলে গিয়েছিলেন।

পুলিশ জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আনোয়ারা থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলার রহস্য উদ্ঘাটন ও মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। আজই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবেন বলে আশা করছে পুলিশ।

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়