শনিবার, ১৪ই মার্চ ২০২৬, ৩০শে ফাল্গুন ১৪৩২


যুদ্ধ-সহিংসতা অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে কীভাবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:১৪ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৬

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

২০২৬ সালের শুরু থেকেই বিশ্ব রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সেই সাথে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এক জটিল সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা আধুনিক অর্থনীতিবিদের কাছে আলাদা কিছু নয়।

যেহেতু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি একে অন্যের সাথে জড়িত, তাই এখানে দুটি ঘটনা ঘটতে পারে—এক রাজনৈতিক অস্থিরতা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমিয়ে দিতে পারে এবং দেশীয় ও বৈদেশিক-উভয় বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করতে পারে, অন্যদিকে দুর্বল অর্থনীতির ফলে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হতে পারে এবং ফলশ্রুতিতে ক্ষমতাসীন সরকারের উৎখাত হতে পারে।

বর্তমানে বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা, দেশের শাসনব্যবস্থা ও নেতৃত্বের ঘন ঘন পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক ওঠানামা, একে রাজনৈতিক অর্থনীতির দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখলে ভালো অনুধাবন করা যাবে।

রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে বৈদেশিক হস্তক্ষেপ আসে, এর সাথে সাথে অর্থনৈতিক কার্যক্রম—বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সরবরাহ শৃঙ্খলা (সাপ্লাই চেইন) এবং পরিবহন—ব্যাহত হয়ে সার্বিক ধ্বস নেমে আসে। উদাহরণস্বরূপ সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ, যা ২০১৫ সালে শুরু হয়েছিল।

এর ফলে খাদ্য ঘাটতি, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন, দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানির ঘাটতি, খরা এবং মানবিক সংকটের সাথে সাথে সিরিয়ার অর্থনীতি  সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। একইভাবে, ১৯৪৭ সালের পর থেকে পাকিস্তানে ২৯ জন প্রধানমন্ত্রী দেশ পরিচালনা করলেও, কিন্তু কেউই পূর্ণ মেয়াদ দায়িত্ব পালন করতে পারেননি (WION, 2022)।

সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকেও অর্থনৈতিক সংকট ও গণবিক্ষোভের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল। বর্তমানে পাকিস্তানে দিন দিন অর্থনৈতিক গতিপথ নিম্নমুখী হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশ শ্রীলঙ্কার অর্থনীতির ভয়াবহ অবস্থার কারণে বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ জনগণ একজোট হয়ে আন্দোলন শুরু করে।

ফলে ২০২২ সালের মে মাসে আন্দোলনের মধ্যে মাহিন্দা রাজাপাকসে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, রাজনৈতিক উত্থান-পতন দ্বারা একটি জাতির অর্থনৈতিক বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত হতে পারে, তেমনি অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলার কারণেও দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হতে পারে।

বর্তমানে বিশ্ব রাজনীতি এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে ক্ষমতার ভারসাম্য ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা দেশগুলোর আধিপত্য বিশ্বব্যবস্থাকে পরিচালিত করলেও বর্তমান সময়ে এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার উদীয়মান শক্তিগুলো নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করছে।

বৈশ্বিক সম্পর্কগুলো ধীরে ধীরে সমঝোতার চেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্কনীতি এবং আগ্রাসী পদক্ষেপ বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং গত সপ্তাহের মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত (যেমন খামেনির পরবর্তী পরিস্থিতি) নিঃসন্দেহে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলছে।

ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য ইরানের শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন। সংঘাতের এক সপ্তাহেও তারা সে লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। উল্টো ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর সৃষ্ট যুদ্ধের পরিধি ক্রমে ব্যাপ্ত হচ্ছে। হামলার জবাবস্বরূপ  তেহরান, মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালিয়েছে।

আশঙ্কাজনকভাবে এ যুদ্ধ সীমিত না হয়ে ক্রমে আরও ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৪৭ বছরের পুরোনো ইরানি শাসনব্যবস্থা ধ্বংসের চেষ্টা এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা আলি খামেনির মৃত্যু ভবিষ্যতে গোটা পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে পুরো বিশ্বে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

আরব দেশগুলোর অর্থনীতির চালিকাশক্তি উৎপাদিত জ্বালানি। ইতিমধ্যে কাতারের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস স্থাপনা এবং সৌদি আরবের অন্যতম বৃহৎ শোধনাগারে ড্রোন ছোড়া হয়েছে। এর ফলে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের শীর্ষ দেশ কাতার তাদের সরবরাহ ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে আরব দেশগুলো, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার চাপ দিচ্ছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম স্কাই নিউজ। এর কারণ একদিকে তারা অবকাঠামোগত ক্ষতির শিকার হচ্ছে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে দেশগুলো বিনিয়োগ সংকটে পড়তে পারে।

খুব কম সংখ্যক দেশই যখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের রোষানলে পড়ার ঝুঁকি নিতে রাজি না, তখন উল্টোপথে সামনে এসেছে স্পেন। যারা ইরানে অভিযানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। শ্রীলঙ্কার উপকূলে অবস্থানরত একটি ইরানি রণতরীতে সাবমেরিন হামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যার মধ্য দিয়ে পারস্য উপসাগরে ঝড়ের রেশ দক্ষিণ এশিয়ায়ও পৌঁছেছে।

আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রায় ৭.১ শতাংশ শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও ২০২৬ সালে তা কমে ৬.২ শতাংশ হতে পারে। এর মূল কারণ হিসেবে ভারতের রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ আমদানি শুল্কের প্রভাবকে দায়ী করা হয়েছে। এখন নতুন করে প্রভাব ফেলতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি।

উপরন্তু ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক হামলা এবং এর জবাবে মার্কিন ঘাঁটিগুলোয় পাল্টা আক্রমণের মধ্যেই ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করেছে। প্রায় ৭০৬টি ট্যাংকার আটকা পড়ে আছে। এর মধ্যে ৩৩৪টি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ, ১০৯টি ‘ডার্টি’ বা মিশ্রিত জ্বালানি পণ্যবাহী ট্যাংকার এবং ২৬৩টি ‘ক্লিন’ বা পরিচ্ছন্ন জ্বালানিবাহী জাহাজ (সূত্র: রয়টার্স এনডিটিভি)।

এই তেলের বেশিরভাগই যায় এশিয়ায়। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তা বিশ্ব তেল বাণিজ্যে চরম অস্থিরতা তৈরি করে। আর যদি এই পরিস্থিতি সপ্তাহজুড়ে চলতে থাকে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশ এমনকি পূর্ব এশিয়ার পরাশক্তি চীনের জন্যও বিপাকের কারণ হবে।

এরমধ্যে ইউরোপের দেশগুলোয় প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ডিজেলের দামও অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।

ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের বড় কোনো প্রভাব মক্কা-মদিনায় নেই। তবে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশের বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় দিন দিন মক্কা ও মদিনায় ওমরাহ হজযাত্রীর সংখ্যা কমছে।

ওমরাহ হজযাত্রী কমতে থাকায় হোটেল ব্যবসায়ীরা সংকটে পড়েছেন। মক্কার পবিত্র কাবা শরিফ ঘিরে আশপাশে ছোট-বড় সহস্রাধিক হোটেল রয়েছে। এসব হোটেলে রমজানের প্রথম দিকে কোনো কক্ষ খালি ছিল না। তবে যুদ্ধ শুরুর পর বিভিন্ন দেশ থেকে একের পর এক ফ্লাইট বন্ধ হতে থাকে। সেই সঙ্গে হাজির সংখ্যাও কমছে, অর্থনৈতিকভাবে পর্যটন ব্যবসার অবস্থা নিম্নমুখী।

টেকসই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, বিশ্বব্যাপী কৃষি ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। অর্থনৈতিক অস্থিরতা বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত কারণ এটি উৎপাদন খরচ এবং বাজার অ্যাক্সেস উভয়কেই প্রভাবিত করে।

যখন অর্থনীতি অস্থির থাকে, তখন কৃষকরা তাদের পণ্যের জন্য বাজারমূল্যের ওঠানামার মুখোমুখি হওয়ার সময় বীজ এবং সারের মতো উপকরণের ক্রমবর্ধমান খরচের সাথে লড়াই করতে পারে না। এই ভারসাম্যহীনতা খাদ্যের প্রাপ্যতা হ্রাস এবং দাম বৃদ্ধির কারণ হতে পারে, যা বিশ্বজুড়ে দুর্বল জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক অবস্থা বিপন্ন করে তোলে।

এই দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা সম্পদ নিয়ে সংঘাতের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে পারে, যা খাদ্য উৎপাদনকে আরও হুমকির মুখে ফেলতে পারে। ফলস্বরূপ, এটি দারিদ্র্য এবং খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার একটি চক্র তৈরি করে।

রাজনৈতিক অস্থিতিশীল অবস্থা স্টক মার্কেটের ওপরও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও এর বিরূপ প্রভাব পড়ে। বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার ফলে এইসব প্রতিষ্ঠানে তারল্য সংকট দেখা যায় ফলে বিনিয়োগ হ্রাস পায়।

নতুন বছরের ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি বৃদ্ধি অর্থনৈতিক মন্দা ও বিভাজন আরও প্রকট করতে পারে। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র আর চীন প্রযুক্তিগত ও সামরিক আধিপত্যের জন্য প্রতিযোগিতা করবে। ইউরোপ চলবে তাল মিলিয়ে। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৈশ্বিক অর্থনীতি ধীরগতির প্রবৃদ্ধির মুখোমুখি।

২০২৬ সালে তা ৩.৩ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩.২ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক অর্থনীতির সংকট ও চড়া পণ্যমূল্যের মাঝে বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও টেকসই প্রবৃদ্ধির সন্ধিক্ষণে রয়েছে।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি (জানুয়ারি ২০২৬-এ ৮.৫৮ শতাংশ), ধীরগতির বেসরকারি বিনিয়োগ এবং এলডিসি (LDC) উত্তরণের চ্যালেঞ্জের মধ্যে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কিছুটা কমলেও, অর্থনৈতিক সামষ্টিক অস্থিতিশীলতা এবং ঝুঁকি রয়ে গেছে।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় স্বাধীন অর্থনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের হিসাব অনুযায়ী বৈশ্বিক ঝুঁকি সূচকে ১৬৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৪১তম। চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমে ৪.৫ শতাংশ এবং আগামী বছর ৫.৭ শতাংশ হতে পারে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ শতাংশ। রাজনৈতিক অস্থিরতা, গণ-অভ্যুত্থানে পটপরিবর্তন, বিভিন্ন জেলায় ভয়াবহ বন্যা এবং বৈদেশিক চাহিদার মন্দা এতে ভূমিকা রেখেছে।

বর্তমান বিশ্ব অস্থিতিশীল ভূ-রাজনীতির মধ্য দিয়ে নতুন অর্থনৈতিক শক্তির সমীকরণে এগোচ্ছে, যেখানে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সার্বিকভাবে, ২০২৬ সাল একটি অস্থিতিশীল বছর যেখানে যেকোনো বড় ধরনের ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে নতুন সংকটে ফেলতে পারে।

বিশ্ব রাজনীতির পরিবর্তনের এই সময়ে বাংলাদেশের ভূমিকা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নতুন মেরুকরণের এই যুগে কেবল শক্তি নয়, বরং দক্ষ ও কৌশলী দেশগুলোই নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করতে পারবে। বাংলাদেশ যদি এই বাস্তবতা অনুযায়ী প্রস্তুতি নেয় তবে ভবিষ্যতে একটি উল্লেখযোগ্য শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে।

রুনা সাহা : সহকারী অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

সম্পর্কিত বিষয়:

আপনার মতামত দিন:

(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)
আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়