২২ বার আক্রমণের শিকার নুর, উদ্দেশ্য ছিল হত্যা : রিজভী
প্রকাশিত:
৩১ আগস্ট ২০২৫ ২০:১৯
আপডেট:
১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০০:১৯

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর চালানো হামলাকে পূর্বপরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ৫ আগস্টের পর নুরের ওপর এই বীভৎস ও পৈশাচিক আক্রমণ কেন হলো? আমার মনে হচ্ছে এটি পূর্বপরিকল্পিত। তাকে টার্গেট করা হয়েছে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে। যেভাবে আঘাত করা হয়েছে, সামান্য এদিক-ওদিক হলে আমরা তাকে জীবন্ত অবস্থায় পেতাম না।
রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুর পৌনে ২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
রিজভী জানান, নুরের ওপর অন্তত ২২ বার আক্রমণ হয়েছে। অসংখ্য আঘাত করা হয়েছে তাকে। বগুড়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলায় যেখানে গেছে, সেখানেই তিনি যেন ফ্যাসিবাদি সরকারের শিকার। উদ্দেশ্য ছিল একেবারে মেরে ফেলা।
তিনি আরও বলেন, নুরের ওপর হামলা ছিল একটি বৃহৎ ষড়যন্ত্রের অংশ। সে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছিল। সেখানে কোনো সন্ত্রাসী বা সহিংস ঘটনা ঘটেনি। এরপরও নির্মম আক্রমণ চালানো হয়েছে। নুর কখনো সহিংসতায় জড়িত নয়। গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের জন্য তার স্বীকৃতি আছে।
নুরের শারীরিক অবস্থা নিয়ে রিজভী বলেন, কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন নূর এখনো আশঙ্কা কাটিয়ে ওঠেনি। আরও কয়েক ঘণ্টা তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এরপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কেবিনে নেওয়া যাবে কিনা।
বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জানান, নুরের সংকটাপন্ন অবস্থা নিয়ে এখনই নির্দিষ্ট কিছু বলা সম্ভব নয়। মেডিকেল বোর্ডের ছয়জন চিকিৎসক জানিয়েছেন, ৭২ ঘণ্টা না গেলে তার অবস্থা কোন দিকে যাবে, তা বলা যাবে না।
রিজভী বলেন, গণঅধিকার পরিষদের অফিসে ঢুকে এভাবে রক্তাক্ত করা— এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পাঁচ আগস্টের পরাজিত শক্তিরাই আজ নানা কায়দায় তাদের বিষ দাঁত বসানোর চেষ্টা করছে।
জাতীয় পার্টি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জিএম কাদের সাহেবরা জড়িত কিনা জানি না। তবে তারা আজ রাজনীতি নিয়ে কথা বলছে, এটা অবাক করার মতো। শেখ হাসিনার আমলে নির্বাচনের জন্য তিনি ভারতে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে সাংবাদিকদের বলেছিলেন ভারতের অনুমতি ছাড়া কিছু বলা যাবে না। যে ব্যক্তি দেশের ওপরই বিশ্বাস করে না, সে আবার রাজনীতি করছে।
জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা দলীয় সিদ্ধান্ত। তবে আমার ধারণা, ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তাদের দোসররা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে স্থিতিশীল হতে দেবে না। তাদের হাতে পাচার হওয়া বিপুল অর্থ রয়েছে এবং এখনো সেদিকে টাকা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে পাচার হওয়া অর্থের একটি বড় অংশ শেখ হাসিনার হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আড়াই হাজার কোটি টাকা ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে এবং আরও দুই হাজার কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। সুতরাং তারা বসে নেই; চক্রান্তের নানা জাল তারা বুনে চলেছে।
রিজভী আরও বলেন, নুরুল হক নুরের ওপর হামলায় যারা জড়িত, তাদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শাস্তি দিতে হবে।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: