মঙ্গলবার, ১৭ই মার্চ ২০২৬, ৩রা চৈত্র ১৪৩২


অ্যালগরিদমের দৌড়ে বাড়ছে ক্ষতিকর কনটেন্ট

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

প্রকাশিত:১৭ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৬

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষতিকর কনটেন্ট বাড়তে দেওয়া হয়েছে— এমন অভিযোগ উঠেছে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে। হুইসেলব্লোয়াররা বলছেন, ব্যবহারকারীর সম্পৃক্ততা বাড়াতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে একাধিক বর্তমান ও সাবেক কর্মীর বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তাদের দাবি, ব্যবহারকারীদের ক্ষোভ বা উত্তেজনা বাড়ায়— এমন কনটেন্ট বেশি দেখানো হতো। কারণ এতে প্ল্যাটফর্মে সময় কাটানোর প্রবণতা বাড়ে।

মেটার এক প্রকৌশলী জানান, ব্যবস্থাপনা থেকে নির্দেশ ছিল ‘বর্ডারলাইন’ ক্ষতিকর কনটেন্ট বেশি দেখানোর। এ ধরনের কনটেন্টের মধ্যে নারীবিদ্বেষ, ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বা ঘৃণামূলক বক্তব্য থাকতে পারে। তার ভাষ্য, প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশেষ করে টিকটক–এর দ্রুত উত্থানের পর চাপ বেড়ে যায়।

একজন টিকটক কর্মীও বিবিসিকে অভ্যন্তরীণ তথ্য দেখিয়েছেন। সেখানে দেখা যায়, কিছু ক্ষেত্রে শিশুদের ক্ষতিকর কনটেন্টের অভিযোগের চেয়ে রাজনৈতিক বিষয় বেশি অগ্রাধিকার পেয়েছে।

তার দাবি, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাতে নিয়ন্ত্রণ বা নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি কমে।

হুইসেলব্লোয়াররা জানান, সহিংসতা, যৌন ব্ল্যাকমেইল বা সন্ত্রাসবিষয়ক কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে ঝুঁকি নেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

মেটা বলেছে, ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতিকর কনটেন্ট ছড়ানো হয়— এমন দাবি সঠিক নয়। অন্যদিকে টিকটক এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, টিকটকের অ্যালগরিদম দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পর প্রতিযোগিতা তীব্র হয়। এ সময় ইনস্টাগ্রামে ‘রিলস’ চালু করে মেটা। তবে এক সাবেক গবেষকের মতে, এই ফিচার পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া চালু করা হয়েছিল।

অভ্যন্তরীণ গবেষণায় দেখা গেছে, রিলসে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য ও হয়রানির হার তুলনামূলক বেশি। অ্যালগরিদম কীভাবে কাজ করে, তা সাধারণত স্পষ্ট নয়। একজন সাবেক প্রকৌশলী এটিকে ‘ব্ল্যাক বক্স’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তার ভাষ্য, অ্যালগরিদম মূলত ব্যবহারকারীর আচরণ দেখে কনটেন্ট সাজায়।কোনো কনটেন্ট বেশি প্রতিক্রিয়া পেলে সেটি আরও বেশি দেখানো হয়। এতে ক্ষতিকর কনটেন্টও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

প্রতিবেদনে কয়েকজন কিশোরের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, অপছন্দের কনটেন্ট বন্ধ করার অপশন থাকলেও তা সবসময় কার্যকর নয়।

একজন কিশোর দাবি করেন, অ্যালগরিদমের কারণে তিনি চরমপন্থী ও বিদ্বেষমূলক চিন্তাধারায় প্রভাবিত হয়েছিলেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের কনটেন্ট বাড়লে বাস্তব জীবনে তার প্রভাব পড়ে। মানুষ সহিংসতা বা ঘৃণার প্রতি সংবেদনশীলতা হারাতে পারে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা ও ব্যবসায়িক স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এই ভারসাম্য না থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় সামাজিক প্রভাব দেখা যেতে পারে।

সম্পর্কিত বিষয়:

আপনার মতামত দিন:

(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)
আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়