মঙ্গলবার, ১২ই মে ২০২৬, ২৯শে বৈশাখ ১৪৩৩
প্রতীকী ছবি
দেশে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ সরবরাহে বর্তমানে বা ভবিষ্যতে কোনো ঘাটতির আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি)। একই সঙ্গে সাবমেরিন ক্যাবল, ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি ও সম্ভাব্য ইন্টারনেট সংকট নিয়ে কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে বিভ্রান্তিকর ও বাস্তবতাবিবর্জিত বলে দাবি করেছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটি।
মঙ্গলবার (১২ মে) ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের আওতাধীন ও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান বিএসসিপিএলসি বর্তমানে SEA-ME-WE-4 এবং SEA-ME-WE-5 নামে দুটি ট্রাস্টেড সাবমেরিন ক্যাবল সিস্টেম সফলভাবে পরিচালনা করছে। এ দুই ক্যাবলের সম্মিলিত সক্ষমতা প্রায় ৭ হাজার ২০০ জিবিপিএস। এর মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ১০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ দেশে সরবরাহ করা হচ্ছে এবং আরও প্রায় ৩ হাজার ১০০ জিবিপিএস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, সম্প্রতি কিছু সংবাদমাধ্যম বিএসসিপিএলসির মতামত ছাড়াই সাবমেরিন ক্যাবল ব্যবস্থা ও ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিএসসিপিএলসির তথ্যমতে, মোট সক্ষমতার মধ্যে মাত্র ১০০ জিবিপিএস লোহিত সাগর হয়ে যায়, যা মোট সক্ষমতার ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এছাড়া হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিদ্যমান কোনো ক্যাবলের সংযোগ নেই। অবশিষ্ট ৭ হাজার ১০০ জিবিপিএসের মধ্যে সিঙ্গাপুরে ৬ হাজার জিবিপিএস এবং চেন্নাইয়ে ১ হাজার ১০০ জিবিপিএস সংযোগ রয়েছে, যা হরমুজ বা বাব আল-মান্দেব প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল নয়।
এ কারণে হুতি বিদ্রোহী বা ইরানের আঘাতে বাংলাদেশ ডিজিটাল অন্ধকারে পড়তে পারে ধরনের প্রচারণাকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, SEA-ME-WE-5 ক্যাবলের সক্ষমতা শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, সেটিও সঠিক নয়। বর্তমানে এই ক্যাবলের Lit-up Capacity ২ হাজার ২০০ জিবিপিএস, যার মধ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে ১ হাজার ৪৮৮ জিবিপিএস। ফলে এখনও ৭১২ জিবিপিএস অব্যবহৃত সক্ষমতা রয়েছে। ক্যাবলটির আয়ুষ্কাল ২০৩৭ সাল পর্যন্ত নির্ধারিত এবং প্রয়োজনে তা আরও বাড়ানো সম্ভব।
একইভাবে SEA-ME-WE-4 ক্যাবলকে শেষ পর্যায়ের পুরোনো ক্যাবল হিসেবে উপস্থাপন করেও অযথা আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে বিএসসিপিএলসি। বর্তমানে এই ক্যাবলের সক্ষমতা ৪ হাজার ৬৫০ জিবিপিএস এবং এর মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৫৯৫ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ সরবরাহ করা হচ্ছে। কনসোর্টিয়াম এর আয়ুষ্কাল ২০৩০ সাল পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে এবং তা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
ভবিষ্যৎ চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি SEA-ME-WE-6 নামে আরও একটি Trusted Submarine Cable System বাস্তবায়ন করছে বলেও জানানো হয়। ২০২৭ সালের শুরুতে এটি চালু হলে কক্সবাজার-সিঙ্গাপুর ও কক্সবাজার-মুম্বাই প্রান্তে প্রায় ৩০ হাজার জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ সরবরাহের সক্ষমতা তৈরি হবে। তখন রাষ্ট্রীয় সাবমেরিন ক্যাবলগুলোর মোট সক্ষমতা দাঁড়াবে প্রায় ৩৮ হাজার জিবিপিএস।
বিএসসিপিএলসি জানিয়েছে, দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ব্যান্ডউইডথ চাহিদা পূরণে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। পাশাপাশি বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদনে প্রভাবিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে দেশের ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় তথ্য অবকাঠামোর নিরাপত্তা রক্ষায় নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।