বুধবার, ২০শে মে ২০২৬, ৬ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ঢাকার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী পোস্তগোলা শ্মশানঘাট পশুর হাটে আসতে শুরু করেছে কোরবানির পশু। হাটের প্রস্তুতি ও ছাউনি নির্মাণের কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ না হলেও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খামারিরা ছোট-বড় নানা আকারের গরু নিয়ে হাজির হচ্ছেন।
বর্তমানে এই হাটে দুই মণ ওজনের ছোট গরুর দাম ৮০ থেকে ৮৫ হাজার টাকা এবং ১৬ থেকে ১৭ মণ ওজনের বড় গরুর দাম ৮ থেকে সাড়ে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। তবে হাটে পশু আনা শুরু হলেও এখনো ক্রেতাদের আনাগোনা কম থাকায় বেচাকেনা পুরোদমে জমেনি। বিক্রেতারা আশা করছেন ঈদের দুই-তিন দিন আগে বিক্রি জমজমাট হবে।
বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, পোস্তগোলার এমসি সড়কের মাথা থেকে শুরু করে শ্মশানঘাট হয়ে বুড়িগঙ্গা নদীর শেষ অংশ পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে এই হাটের অবস্থান। হাটে এখনো বাঁশ দিয়ে বিভিন্ন ছাউনি ও প্যান্ডেল নির্মাণের কাজ পুরোদমে চলছে। তবে হাটের আয়োজনের তুলনায় পশুর পরিমাণ এখনো কিছুটা কম।
৪ কোটি ১ লাখ টাকায় এই হাটটি ইজারা নিয়েছেন কাজী মাহবুব মওলা হিমেল। তিনি জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আরও প্রচুর কোরবানির পশু হাটে আসবে।
হাট কর্তৃপক্ষ জানায়, বিক্রেতাদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে হাটে ক্রেতাদের ভিড় কিছুটা কম।
ঈদের ঠিক দুই-তিন দিন আগে বিক্রি পুরোদমে জমজমাট হবে বলে আশা করছেন ইজারাদার ও ব্যবসায়ীরা।
চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা নাসিম নামের এক খামারি ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘আমরা গত সোমবার এখানে এসেছি। আমরা এলাকার কয়েকজন ভাই মিলে ৪০০টি গরু এনেছি। তবে এখনও একটি গরুও বিক্রি করতে পারিনি। দু-একজন দাম করতে এসেছিল।’
বড় একটি গরু দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘এই গরুটির দাম চাচ্ছি সাড়ে ৮ লাখ টাকা। এটাতে ১৬ থেকে ১৭ মণ ওজনের মাংস হতে পারে।’
কুষ্টিয়া থেকে গত সোমবার হাটে আসেন কালাম। তিনি বলেন, ‘আমরা ১০টি গরু নিয়ে এসেছি। সব পালের গরু। বাড়ি থেকে আনার সময় বাড়ির লোকজন কেঁদে ফেলেছে। আমাদের গরুগুলোর দাম চাচ্ছি সাড়ে ৪ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা। এসব গরুতে ৮ থেকে ৯ মণ মাংস হতে পারে।’
হাটে ঘুরতে ঘুরতে একসঙ্গে কিছু ছোট সাইজের গরুর দেখা মেলে। শরীয়তপুর থেকে এসব গরু এনেছেন কাজী ওয়াদুদ। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘আমাদের এলাকা থেকে মোট ৩৫টি গরু এনেছি সবাই মিলে। গরুগুলোর সাইজ ছোট। যারা একা বা ৩ জন মিলে ছোট গরু কোরবানি দিতে চান, তাদের জন্য ভালো। আমাদের গরুগুলো সাইজ অনুযায়ী ৬০ থেকে ৯০ হাজার টাকার মধ্যে। এসব গরুতে প্রায় ২ মণের মতো মাংস হতে পারে।’
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর দক্ষিণ সিটি এলাকায় ১১টি অস্থায়ী পশুর হাট বসবে। এর মধ্যে রয়েছে- উত্তর শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ ক্লাবের খালি জায়গা, পোস্তগোলা শ্মশানঘাটের পশ্চিম পাশের নদীর পাড়, রহমতগঞ্জ ক্লাবের খালি জায়গা, আমুলিয়া মডেল টাউন, শ্যামপুর, সিকদার মেডিকেল সংলগ্ন আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের খালি জায়গা, শ্যামপুর-কদমতলী ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকা, কাজলা ব্রিজ থেকে মাতুয়াইল মৃধাবাড়ী পানির পাম্প পর্যন্ত অব্যবহৃত স্থান, সাদেক হোসেন খোকা মাঠের দক্ষিণ পাশ, মোস্তমাঝি মোড় সংলগ্ন গ্রিন বনশ্রী হাউজিং এলাকা এবং গোলাপবাগ আউটফল স্টাফ কোয়ার্টারের উত্তর পাশের খালি জায়গা।
ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেছেন, ‘আমাদের ১১টি হাট বসবে। বিগত দিনের নিয়মেই হাটগুলো পরিচালিত হবে। তবে নির্ধারিত সময়ের একদিন আগেও কোনো হাট বসতে দেওয়া হবে না। প্রতিটি হাটে আমাদের পর্যবেক্ষণ থাকবে। নির্ধারিত জায়গার বাইরে কেউ যেতে পারবে না। এর ব্যত্যয় ঘটলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘হাট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু হবে। এ কাজে ইজারাদাররাও সহযোগিতা করবেন।’