বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন ২০২৬, ২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে নিখোঁজের দুই দিন পর ঘরের মেঝে খুঁড়ে মারুফা বেগম (৬০) নামে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) রাত ১২টার দিকে বড়ভিটা ইউনিয়নের উত্তর বড়ভিটা ময়দান পাড়া এলাকায় নিজ ঘর থেকে এ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মারুফা বেগম ওই এলাকার মৃত আশরাফ আলীর স্ত্রী ও তিন সন্তানের জননী।
নিহতের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মারুফা বেগমের ছোট ছেলে লাভিন মিয়া ঢাকায় চাকরি করেন। তিনি বড় ছেলে জুয়েল মিয়াসহ বাড়িতে থাকতেন। গত সোমবার সবাইকে জানানো হয় মারুফা বেগম নিখোঁজ হয়েছেন। পরে লাভিন মিয়া ঢাকা থেকে এসে তার মাকে খোঁজাখুঁজি করেও কোথাও সন্ধান পাননি। লাভিন মিয়ার স্ত্রী গতকাল নিজের ঘরের বিছানা গোছাতে গিয়ে রক্ত ও ঘরের মেঝেতে ফাটল দেখতে পেয়ে তাকে জানান। পরে লাভিন মিয়া থানায় এসে পুলিশকে বিষয়টি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিছানার তোশকের নিচে রক্ত ও ঘরের মেঝেতে ফাটল দেখতে পায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ঘরের মেঝে খুঁড়ে মারুফা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে এ ঘটনায় নিহতের ছোট ছেলের অভিযোগ, তার বড়ভাই জুয়েল তার মাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রেখেছেন।
লাভিন মিয়া বলেন, আমি ঢাকা থেকে এসে শুনি আমার মায়ের সঙ্গে বড়ভাইয়ের বউয়ের ঝগড়া হয়েছিল। পরে বড়ভাইয়ের বউ রাগ করে সেদিন তার বাবার বাড়িতে চলে যায়। সেদিন থেকে আমার মা নিখোঁজ। গতকাল আমার বউ ঘরে গিয়ে বিছানার তোশকের নিচে রক্ত ও ঘরের ভিতরে মেঝেতে ফাটল দেখতে পেয়ে আমাকে জানায়। পরে আমি বিষয়টি পুলিশকে জানাই। আমার মা নিখোঁজের পর থেকে আমার বড়ভাই আত্মগোপন রয়েছে। আমার ধারণা আমার বড়ভাই মাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রেখেছে।
এবিষয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, গতকাল নিহতের ছোট ছেলে থানায় এসে বিষয়টি জানালে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। ঘরের ভেতরে রক্ত ও মেঝেতে ফাটল দেখে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় মেঝে খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করি।
তিনি আরও বলেন, নিহত মারুফা বেগম দুই দিন ধরে নিখোঁজ ছিল। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি, তদন্ত শেষে এ ঘটনায় কে ওই বৃদ্ধাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রেখেছে মূল রহস্য জানা যাবে।