বুধবার, ১০ই জুন ২০২৬, ২৭শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ভারতীয় সীমান্তে একজনকে পুশইনের চেষ্টা করাকে কেন্দ্র করে সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। পতাকা বৈঠক করেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় সীমান্তে অবস্থান নিয়েছে বিজিবি ও স্থানীয়রা। বুধবার (১০ জুন) সকালে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার রামরামপুর এলাকায় ভারতীয় সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে এক ব্যক্তিকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় ভারতের নন্দীরচর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা। ওই ব্যক্তি ভারতের চেন্নাই এ বসবাস করতেন। বিষয়টি টের পেয়ে জামালপুর-৩৫ বিজিবির সদস্যরা ও স্থানীয় এলাকাবাসী প্রতিরোধ করে। বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে নো ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান নেয় প্রায় ৬০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি। এ নিয়ে সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দিলে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জামালপুর-৩৫ বিজিবির সহকারী পরিচালক ও ভারতের নন্দীরচর বিএসএফ ক্যাম্পের একজন পরিদর্শকের নেতৃত্বে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু বৈঠকে বিএসএফ ওই ব্যক্তিকে ফেরত না নিয়ে নো ম্যান্স ল্যান্ডে রেখেই চলে যায়। পরে বৈঠক সফল না হওয়ায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয় সীমান্তে। বিএসএফ বার বার ওই ব্যক্তিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলেও প্রতিরোধের মুখে ফিরে যাচ্ছেন ওই ব্যক্তি।
এ সময় বিএসএফের এক সদস্য বিজিবিকে বলেন- এখান থেকে আপনারা সরে না গেলে গুলি করবো। এ কথা শুনে বিজিবি সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন- আপনি কেন গুলি করার কথা বললেন? আপনি এটা কী বললেন, গুলি করবেন মানে। গুলি আপনার কাছে আছে, আমাদের কাছে নেই।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, বিএসএফ এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা করছে- এমন খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা বিজিবির সাথে সীমান্তে অবস্থান করছি। আমরা ভারত থেকে কোনো নাগরিককে বাংলাদেশে ঢুকতে দেবো না।
এ বিষয়ে জামালপুর-৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, কয়েক দিন ধরেই বিএসএফ সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পুশইনের চেষ্টা করছে। আজ সকালে ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে ভারত থেকে শূন্য রেখায় ঠেলে পাঠায়। এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের সদস্যরা সেখানে অবস্থান নিয়েছে। আমরা বিএসএফের সাথে পতাকা বৈঠকও করেছি। কিন্তু তারা ওই ব্যক্তিকে ফেরত না নিয়ে নো ম্যান্স ল্যান্ডে রেখে চলে যায়।