সোমবার, ১৮ই মে ২০২৬, ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


জ্বালানি সংকটের ধাক্কা সামলাতে ৩৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

অর্থনীতি ডেস্ক

প্রকাশিত:১৮ মে ২০২৬, ২১:০৫

ছবি ‍: সংগৃহীত

ছবি ‍: সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে জ্বালানির চরম অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব থেকে দেশের অর্থনীতিকে রক্ষা করতে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে বিশ্বব্যাংক। বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতের উৎপাদন সচল রাখতে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংস্থাটি বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ৩৫ কোটি মার্কিন ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন করেছে।

গত ১৫ মে বিশ্বব্যাংকের বোর্ড সভায় এই অতিরিক্ত অর্থায়ন অনুমোদন করা হয়, যা মূলত ‘এনার্জি সেক্টর সিকিউরিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট’ বা জ্বালানি খাত নিরাপত্তা বৃদ্ধি প্রকল্পের অধীনে দেওয়া হচ্ছে।

আজ (সোমবার) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস এ তথ্য জানায়।

বিশ্বব্যাংক জানায়, বাংলাদেশ তার অভ্যন্তরীণ বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো এবং শিল্প কারখানার চাকা সচল রাখতে বিপুল পরিমাণ আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এলএনজির দাম অস্বাভাবিক হারে ওঠানামা করছে এবং সরবরাহ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর বিশাল চাপ সৃষ্টি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে দেশে জ্বালানি ও সারের সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে, যার সরাসরি শিকার হবে দেশের দরিদ্রতম পরিবারগুলো। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাংকের এই অর্থায়ন বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে একটি সাশ্রয়ী অর্থায়ন প্রক্রিয়া গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা রাখবে।

সংস্থাটি জানায়, এই অতিরিক্ত অর্থায়নের ফলে পেট্রোবাংলা স্পট মার্কেট বা খোলা বাজার থেকে চড়া দামে এলএনজি কেনার নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় গ্যাস আমদানি নিশ্চিত করতে পারবে। রাষ্ট্রায়ত্ত এই প্রতিষ্ঠানটির এলএনজি আমদানির পেমেন্ট বা বিল পরিশোধের সক্ষমতা বাড়াতে এই তহবিল ব্যবহার করা হবে। এর ফলে দেশে সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হবে, যা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেসরকারি খাতের বিকাশ এবং সামগ্রিক অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সাহায্য করবে। এই অর্থায়ন ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন বা আইডিএর গ্যারান্টি-ব্যাকড ফাইন্যান্সিং ফ্যাসিলিটি হিসেবে দেওয়া হচ্ছে, যা স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) এবং স্বল্পমেয়াদি ক্রেডিট লাইনের মাধ্যমে এলএনজি আমদানির পেমেন্ট নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এই উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশ বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী নমনীয়তা বজায় রেখেই দীর্ঘমেয়াদি এবং অনুমানযোগ্য জ্বালানি আমদানির দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।

বিশ্বব্যাংক আরও জানায়, এর আগে গত বছরের অর্থাৎ ২০২৫ সালের ১৮ জুন বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক বোর্ড বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে প্রথম দফায় ৩৫ কোটি ডলারের মূল প্রকল্পটি অনুমোদন করেছিল। ২০৩১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারিত রয়েছে। নতুন করে যুক্ত হওয়া অতিরিক্ত ৩৫ কোটি ডলারের ফলে এই প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের সহায়তার পরিমাণ আরও দ্বিগুণ হলো।

এই অর্থায়ন প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের ডিরেক্টর জঁ পেসমে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এলএনজির দাম অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে এবং সরবরাহ চেইনকে ব্যাহত করেছে। একটি নিট জ্বালানি ও গ্যাস আমদানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে তার জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং অর্থনীতি সচল রাখতে বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের যে বিস্তৃত আলোচনা চলছে, তারই অংশ হিসেবে এই অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এটি বাংলাদেশকে এলএনজি আমদানির স্থিতিশীল সরবরাহ বজায় রাখতে সাহায্য করবে, যা দেশের অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষকে ব্যয়বহুল জ্বালানি সংকট থেকে রক্ষা করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ভরযোগ্য গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প কার্যক্রম সচল থাকবে, যা কর্মসংস্থান তৈরিতেও অবদান রাখবে।

প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার এবং বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র এনার্জি এক্সপার্ট ওলেয়িনকা এদেবীরি এই বিষয়ে জানান, অন্যান্য তরল জ্বালানির তুলনায় গ্যাস অনেক সাশ্রয়ী এবং কম কার্বন নিঃসরণকারী উৎস। তাই বাংলাদেশে জ্বালানি নিরাপত্তার মূল ভিত্তি হলো নিরবচ্ছিন্ন এলএনজি সরবরাহ। এই অর্থায়নের ফলে আমদানিতে চড়া দামের তরল জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে, যা সরকারের বড় অঙ্কের আর্থিক সাশ্রয় নিশ্চিত করবে।

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়