বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন ২০২৬, ২৮শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


নতুন অর্থবছরে স্বাস্থ্যখাতে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে সরকার

স্বাস্থ্য ডেস্ক

প্রকাশিত:১১ জুন ২০২৬, ১৯:৫২

ছবি ‍: সংগৃহীত

ছবি ‍: সংগৃহীত

চিকিৎসা শিক্ষা আধুনিকায়ন, দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী তৈরি ও ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ে জোর
 
চিকিৎসা শিক্ষার আধুনিকায়ন, দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী তৈরি, নার্সিং শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য একগুচ্ছ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
 
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা যায়।
 
বাজেট সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, চিকিৎসা শিক্ষাকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে পর্যায়ক্রমে বিভাগীয় শহরের মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের মেডিকেল কলেজগুলোতে সিমুলেশন ল্যাব ও ই-লাইব্রেরি স্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে চিকিৎসা শিক্ষা যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে পাঁচটি মেডিকেল কলেজে সিমুলেশন ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
 
স্বাস্থ্য খাতে ক্রমবর্ধমান চাহিদা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক দক্ষ চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও কেয়ারগিভার তৈরির কার্যক্রমও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি নার্সিং শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং দক্ষ নার্স গড়ে তোলার লক্ষ্যে উচ্চতর বিশেষায়িত কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
 
নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের আওতায় বর্তমানে পরিচালিত বিশেষায়িত কোর্সগুলো—যেমন ক্রিটিক্যাল কেয়ার, অনকোলজি, ইমার্জেন্সি ও ট্রমা, মেন্টাল হেলথ, জেরিয়াট্রিক এবং নবজাতক নার্সিং—আরও আধুনিক করা হবে। জাতীয় স্বাস্থ্য চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব কোর্সের পাঠ্যক্রমও হালনাগাদ করা হবে। একই সঙ্গে পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা, মাস্টার্স ও উন্নত ক্লিনিক্যাল সার্টিফিকেট কোর্সে আসনসংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
 
নারীস্বাস্থ্য সুরক্ষার অংশ হিসেবে ইলেকট্রনিক ডাটা ট্র্যাকিং ব্যবস্থার আওতায় ৩০ থেকে ৬০ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে ক্যানসার দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসার আওতায় আনার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
 
পরিবার পরিকল্পনা ও জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের আওতায় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী, ওষুধ ও মেডিকেল সরঞ্জাম সংগ্রহ, মজুদ ও সরবরাহ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হবে। পাশাপাশি নবদম্পতি ও সক্ষম দম্পতিদের পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণে উদ্বুদ্ধকরণ, মা ও শিশুস্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য এবং কৈশোরকালীন স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
 
গর্ভবতী মায়েদের সম্পূরক খাদ্য বিতরণ, মাতৃদুগ্ধপান প্রসার এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে।
 
দেশীয় চিকিৎসা শিক্ষার প্রসারের অংশ হিসেবে হোমিওপ্যাথিক ও ইউনানি-আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজগুলোতে আইটি ল্যাব স্থাপন করা হবে। এছাড়া গ্রামীণ পর্যায়ে চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ বাড়াতে অব্যবহৃত চারটি মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) এবং ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিকে (আইএইচটি) আরএফএসটি সেন্টারে রূপান্তরের জন্য প্রকল্প প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
 
অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে ১০টি মেডিকেল কলেজের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ১৯টি ছাত্রাবাস নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজে মোট তিনটি নতুন হোস্টেল নির্মাণ করা হবে।
 
সরকারের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং জনগণের জন্য আরও কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়