রবিবার, ২৮শে জুন ২০২৬, ১৪ই আষাঢ় ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
প্রায় ১৪ মাস পর দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন এর উদ্বোধন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। অন্ধত্ব প্রতিরোধসহ, শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূরীকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত এই বিশেষ ক্যাম্পেইন আজ সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে এবং বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী দুই কোটি ৩৫ লাখের বেশি শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
রোববার (২৮ জুন) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন হলে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করেন তিনি।
এ সময় গণমাধ্যমকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ালেই হবে না, মায়ের দুধও শিশুদের খাওয়াতে হবে। জন্ম পর শিশুকে মায়ের শাল দুধ খাওয়াতে হবে। শাল দুধের চেয়ে বড় ভিটামিন আর কিছু হতে পারে না। এছাড়া শিশুদেরকে পানি, মধু, চিনি ও সুষম খাবার বাচ্চাদেরকে খাওয়াতে হবে। এতে শিশুদের শরীরে পুষ্টি তৈরি হবে।
তিনি বলেন, ছয় থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়া হচ্ছে। ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। সেইসঙ্গে হামসহ নানা রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিগত সরকারের কাছ থেকে টিকা পর্যাপ্ত স্টক না পাওয়াতে হাম শিশুদের মারাত্মকভাবে আক্রমণ করেছিল। ক্ষমতাগ্রহণ করার পর আমাদের হাতে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলও ছিল না। ইউনিসেফের মাধ্যমে আমরা পর্যাপ্ত ভিটামিন ‘এ’ সংগ্রহ করেছি। আমাদের হাতে বর্তমানে লাল ও নীল দুই কোটি ৬০ লাখ ভিটামিন ‘এ’ রয়েছে। এই ক্যাম্পেইনে দুই কোটি ৫৫ লক্ষ শিশুকে খাওয়ানো হবে।
মান কেমন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টিকার মান অত্যন্ত ভালো। একটি কনফারেন্স করে এসেছি, সেখানে টিকার মান নিয়ে কথা হয়েছে ইউনিসেফের সঙ্গে। অত্যন্ত উন্নত মানের টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে আমরা দেশে টিকা এনেছি।
মন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সারাদেশে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়া হচ্ছে। প্রথম দিন কোনো শিশু বাদ পড়লে দ্বিতীয় দিন খাবে, দ্বিতীয় দিন বাদ পড়লে তৃতীয় দিন, তৃতীয় দিন বাদ পড়লে চতুর্থ দিন, এভাবে ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানোর কার্যক্রম চলবে।
এ সময় স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান ও অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীম এবং জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউসুফ আলীসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এবারের ক্যাম্পেইনে দুই কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার নয়শ ৭২টি শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ছয় মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২৮ লাখ ৩৮ হাজার সাতশ ৯৪ জন। ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) দুই কোটি পাঁচ লাখ ৭৬ হাজার একশ ৭৮ জন। তবে, ১২টি জেলার ৫৮টি উপজেলার ২৯০টি ইউনিয়নের ৭১৪টি ওয়ার্ডের দুর্গম অঞ্চলে ক্যাম্পেইন-পরবর্তী চার দিন ‘চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং’ কার্যক্রম চালানো হবে।