সোমবার, ২৯শে জুন ২০২৬, ১৫ই আষাঢ় ১৪৩৩


গর্ভে থাকাকালে শিশু কীভাবে শ্বাস নেয়?

স্বাস্থ্য ডেস্ক

প্রকাশিত:২৯ জুন ২০২৬, ১০:১৯

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, মায়ের গর্ভে শিশু যখন প্রায় নয় মাস অ্যামনিওটিক ফ্লুইডের (মাতৃগর্ভে ভ্রূণকে ঘিরে থাকা বিশেষ তরল) মধ্যে থাকে, তখন তারা কীভাবে শ্বাস নেয়? প্রকৃত অর্থে, গর্ভে থাকা অবস্থায় শিশুর শ্বাস নেওয়ার প্রক্রিয়া জন্মের পরের জীবনের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। চিকিৎসকদের মতে, এই সময় শিশুর ফুসফুস দিয়ে বাতাস টানার প্রয়োজনই হয় না।

অর্থাৎ, মায়ের গর্ভে নয় মাস শিশু ফুসফুসের মাধ্যমে কোনো শ্বাস নেয় না। বরং, এই দীর্ঘ সময় তারা মায়ের গর্ভনাড়ি এবং প্লাসেন্টার মাধ্যমে মায়ের রক্ত থেকে সরাসরি অক্সিজেন গ্রহণ করার সুযোগ পায় ও কার্বন ডাই-অক্সাইড বের করে দেয়। মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থায় তাদের ফুসফুস তরলে পূর্ণ থাকে। জন্মের পর প্রথম কান্নার সঙ্গেই ফুসফুসে বাতাস প্রবেশ করে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়া শুরু হয়।

গর্ভাবস্থায় জরায়ুর ভেতরে প্লাসেন্টা নামে একটি অস্থায়ী বিশেষ অঙ্গ তৈরি হয়। এই প্লাসেন্টার সঙ্গে গর্ভনালির (আম্বিলিক্যাল কর্ড) মাধ্যমে শিশুর সঙ্গে মায়ের সরাসরি সংযোগ থাকে। এর প্রধান কাজ হলো, মা যখন ক্রমবর্ধমান শ্বাস নেন, তখন তার রক্তে থাকা অক্সিজেন, পুষ্টি প্লাসেন্টা ও গর্ভনালির মাধ্যমে শিশুর শরীরে পৌঁছে যায়। একইসঙ্গে শিশুর শরীরে তৈরি হওয়া রক্ত থেকে বর্জ্য ও কার্বন ডাই অক্সাইড, এই পথেই মায়ের রক্তে ফিরে আসে।

পরে মা শ্বাস ছাড়ার সময় সেই কার্বন ডাই-অক্সাইড শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। অর্থাৎ, গর্ভে থাকা অবস্থায় শিশুর জন্য কার্যত ‘শ্বাস নেয়’ মায়ের শরীর।

বাস্তবে অনেকেই মনে করেন, গর্ভে শিশুর ফুসফুস সক্রিয় থাকে। কিন্তু আসলে তা ওই সময় কার্যত সক্রিয় থাকে না। এই সময় ফুসফুস বাতাসে নয়, অ্যামনিওটিক ফ্লুইড বা গর্ভের তরলে পরিপূর্ণ থাকে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, গর্ভাবস্থার প্রায় ১০ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে শিশুর ফুসফুস শ্বাস নেওয়ার অনুশীলন শুরু করে। তবে সেখানে বাতাসের বদলে অ্যামনিওটিক ফ্লুইডই ভেতরে থেকে বাইরে যায়। এতে অক্সিজেন পাওয়া না গেলেও ফুসফুসের পেশি ও ডায়াফ্রামের স্বাভাবিক বৃদ্ধি হয়। ফলে, জন্মের পরে বাইরের পৃথিবীতে প্রথম শ্বাস নেওয়ার জন্য শিশুর শরীর প্রস্তুত হয়ে ওঠে এবং জন্মের পর প্রথম কান্নার মাধ্যমেই শিশুর ফুসফুস খুলে যায় এবং তারা স্বাধীনভাবে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া শুরু করে।

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়