সোমবার, ১১ই মে ২০২৬, ২৭শে বৈশাখ ১৪৩৩


ইরানের জবাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত:১০ মে ২০২৬, ২২:৫৬

ছবি ‍: সংগৃহীত

ছবি ‍: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শান্তি আলোচনার প্রস্তাবের বিপরীতে পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে নিজেদের জবাব পাঠিয়ে দিয়েছে ইরান। রোববার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। একই সময়ে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি দিয়ে দুটি বিশাল জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে তেহরান।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের কাছে পাঠানো এই জবাবে ইরান সব ফ্রন্টে, বিশেষ করে লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়েছে। তবে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ কখন কিংবা কীভাবে পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে পরিষ্কার কোনও ইঙ্গিত দেয়নি তেহরান।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার আগে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের এই জবাবের প্রেক্ষিতে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এখনো কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত সপ্তাহে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের পর গত ৪৮ ঘণ্টা পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও রোববার কয়েকটি উপসাগরীয় দেশের আকাশে ‘শত্রু পক্ষের’ ড্রোন শনাক্ত হয়েছে। এক মাস আগে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও এসব ড্রোন ওই অঞ্চলের নিরাপত্তাহীনতাকে সামনে এনেছে।

জাহাজ চলাচলের তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার বলছে, রোববার কাতার এনার্জির ‘আল খারাইতিয়াত’ নামের একটি জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে পাকিস্তানের কাসিম বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর পর এটিই প্রথম কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী জাহাজ; যা ওই প্রণালি অতিক্রম করল।

গ্যাসের অভাবে পাকিস্তানে বিদ্যুৎ সংকটের প্রেক্ষাপটে এই সরবরাহ দেশটিকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতার ও পাকিস্তানের সঙ্গে আস্থা তৈরির অংশ হিসেবে ইরান এই জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে।

এ ছাড়া পানামার পতাকাবাহী ও ব্রাজিলগামী একটি পণ্যবাহী জাহাজও ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর নির্ধারিত রুট ব্যবহার করে সফলভাবে প্রণালি পার হয়েছে। এর আগে ৪ মে জাহাজটি পার হওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিল।

• চীন সফরের আগে যুদ্ধ বন্ধের চাপে ট্রাম্প

চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের কথা রয়েছে। তার আগেই যুদ্ধ বন্ধের জন্য ব্যাপক আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি হয়েছে। এই যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে; যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দুই পক্ষের মধ্যে অচলাবস্থা নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা এবং দুটি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হলেও সমুদ্রপথ এবং আঞ্চলিক অর্থনীতির ওপর ঝুঁকির শঙ্কা এখনও কাটেনি।

রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরান থেকে আসা দুটি ড্রোন প্রতিহতের দাবি করেছে। অন্যদিকে, আবুধাবি থেকে আসা একটি পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কাতার। কুয়েতও তাদের আকাশসীমায় শত্রু ড্রোন প্রবেশের পর তা মোকাবিলার কথা জানিয়েছে।

যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ করা হতো। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরান এই সংকীর্ণ জলপথ অবরুদ্ধ করে রেখেছে; যা যুদ্ধের অন্যতম প্রধান চাপ তৈরির হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শনিবার মিয়ামিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা নিয়ে আলোচনা করেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল-থানি। পরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে ফোন করে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিকে ‘চাপ তৈরির হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করলে সংকট কেবল আরও ঘনীভূত হবে।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আল-থানি ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নৌ-চলাচলের স্বাধীনতায় কোনোভাবেই হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও আরাঘচির সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন।

এদিকে, ইরানের আইনপ্রণেতারা হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনার জন্য একটি নতুন আইনের খসড়া তৈরি করছেন। সেখানে ‘শত্রু রাষ্ট্র’ সমূহের জাহাজ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিধান রাখা হচ্ছে।

গত এক মাসের যুদ্ধবিরতির মধ্যে হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে কয়েক দিনে বড় ধরনের সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার আমিরাতে পুনরায় হামলা হয়েছে এবং প্রণালিতে ইরানি বাহিনী ও মার্কিন জাহাজের মধ্যে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, গত ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে লড়াই চলছে। আগামী ১৪ মে ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে পরবর্তী দফার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়