বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন ২০২৬, ২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ফাইল ছবি
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড নিয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে জড়িয়ে বক্তব্য দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি বলেছেন, হাদির দুই হত্যাকারীকে পশ্চিমবঙ্গের নিরাপত্তাবাহিনী গ্রেপ্তারের পর তাকে ফোন করেন অমিত শাহ। এ সময় এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি চেপে যেতে বলেছিলেন তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এক প্রতিবেদনে বলেছে, মমতার এ মন্তব্য বাংলাদেশের অন্যতম স্পর্শকাতর একটি বিষয়কে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। আর এমন সময় বিষয়টি সামনে এসেছে যখন বাংলাদেশ-ভারত আবারও নিজেদের মধ্যে আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছে।
গত পরশু কলকাতার এক রাজনৈতিক সভায় হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মমতার করা মন্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে সবার নজরে চলে আসে। কারণ মমতার বক্তব্য বোঝাচ্ছে— হাদির হত্যাকারীদের ব্যাপারে ভারত তথ্য জানত। কিন্তু তারা সবকিছু লুকিয়ে রেখেছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে যখন হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয় তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সারাদেশে তার হত্যার বিচারের দাবি ওঠে।
হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মমতা যে অভিযোগ করেছেন, তারপর বেশ কিছু প্রশ্ন এখন উঠেছে। টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া বলেছে, মমতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওঠা প্রশ্নগুলো এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
যদি তার অভিযোগটি সত্য হয় তাহলে প্রমাণিত হবে ভারত হাদির হত্যাকারীদের সম্পর্কে জানত।
কিন্তু যদি তার তার অভিযোগটি অসত্য হয় তাহলে হাদি হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি আরও বেশি রাজনীতিকরণ হবে। যা ইতিমধ্যে বাংলাদেশের অন্যতম স্পর্শকাতর ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
মমতার বিস্ফোরক মন্তব্যের পর অমিত শাহ এবং ভারত সরকার কেউই এখন পর্যন্ত পাল্টা মন্তব্য করেনি।
টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া বলেছে, এমন সময় এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলো যখন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক নাজুক অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশই বলেছে তারা নিজেদের মধ্যে আস্থা অর্জন করতে চায়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী করতে চায় এবং নিরাপত্তা সম্পর্ক রাখতে চায়।
এসবের মধ্যে মমতার মন্তব্য যে পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে তা দুই দেশের কেউই চাইবে না। ভারতের রাজনীতিবিদরা হাদির হত্যাকারীদের সম্পর্কে জানে এমন যে কোনো কথা বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে সন্দেহ আরও তীব্র করবে। কারণ অনেকেই মনে করেন ভারত বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে হস্তক্ষেপ করে।
সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে মমতার বক্তব্যে যেন উত্তেজনা আর না বাড়ে। এ কারণে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ মমমতার বক্তব্যকে সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছেন।