রবিবার, ১৪ই জুন ২০২৬, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ফাইল ছবি
হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের জেরে পাল্টপাল্টি হামলার পর চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, রোববার ইরানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। ট্রাম্পের এমন ঘোষণার পর তেহরান সফর করেছে কাতারের প্রতিনিধি দল। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরান চুক্তি নিয়ে নানা কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
রোববার (১৪ জুন) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের সাক্ষাৎকারে ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের চূড়ান্ত খসড়ায় তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে শুরু করে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের তেলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উভয় পক্ষ চুক্তিতে সম্মত হওয়ার পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হবে।
তিনি বলেন, খসড়ায় ইরান অবিলম্বে সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নৌ বন্দরগুলোর উপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করবে। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পরপরই এই অবরোধ প্রত্যাহারের কাজ শুরু হবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে তা সম্পন্ন হবে।
ইরানের এ কর্মকর্তা বলেন, চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর নতুন করে কোনো নিষেধাজ্ঞা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া চুক্তির পর নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী ইরানের ওপর থেকে মার্কিন ও জাতিসংঘ সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে।
তিনি বলেন, ইরানের তেলের ওপর থেকে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে। এ সময়ে তেহরান তেল বিক্রির আয় গ্রহণ করতে পারবে।
খসড়ায় ইরানের জব্দ করা ২৫ বিলিয়ন ডলার সম্পদ অবমুক্ত করতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া চুক্তি হলে ওয়াশিংটন আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের জন্য পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। এটি তেহরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তেহরানের সঙ্গে সমন্বয় করে চূড়ান্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বর্তমান অবস্থা বজায় রাখবে।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম এবং উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হবে। এসব বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে।