যুদ্ধের কারণ যাই হোক না কেন, মানবিক আইন মানতে হবে : নিকোলাস ফ্লুরি
প্রকাশিত:
২৯ আগস্ট ২০২৫ ১৯:১৫
আপডেট:
২৯ আগস্ট ২০২৫ ২১:০৪

আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) বাংলাদেশ ডেলিগেশনের হেড অব ডেলিগেশন নিকোলাস ফ্লুরি বলেছেন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সশস্ত্র সংঘাতে ন্যূনতম মানবিকতার মানদণ্ড নির্ধারণ করে, যা অবশ্যই মেনে চলা উচিত। যুদ্ধের কারণ বা উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন, এর নিয়মসমূহ সব পক্ষের জন্য প্রযোজ্য।
শুক্রবার ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে ১৬তম হেনরি ডুনান্ট মেমোরিয়াল মুট কোর্ট প্রতিযোগিতার জাতীয় রাউন্ডের উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা ইতিহাসের এমন এক সময়ে আছি যখন যুদ্ধ এবং সংঘাত বেড়েই চলেছে। এই পরিস্থিতিতে সশস্ত্র সংঘাতের আইনগুলোর পুনর্মূল্যায়ন করা আগের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই আইনগুলোই প্রতিটি দেশকে সংঘাতের ক্ষতিকর প্রভাব সীমিত করতে সাহায্য করবে।
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) ও আইইউবির যৌথভাবে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেছে। আইএইচএলের প্রতি আইনের তরুণ শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা ও আগ্রহ তৈরি করা এবং তাদের অ্যাডভোকেসির দক্ষতা বাড়ানোই হচ্ছে এই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য।
আগামী দুই দিন শিক্ষার্থীরা আইএইচএলের ওপর একটি কাল্পনিক কেসস্টাডি বিষয়ে তাদের আইনি যুক্তি উপস্থাপন করবে। যা দেশে আইন শিক্ষার অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন (আইএইচএল) প্রচারের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক।
আইইউবি-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. তামিম বলেন, আপনারা আপনাদের মন, মানসিকতা ও চোখ খুলে রাখুন। এমনকি প্রতিযোগীদের কাছ থেকেও শিখুন। এটি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে আপনারা মানবতার প্রতি সহানুভূতি এবং আইনের দৃঢ়তার মাধ্যমে জটিল মানবিক বিষয়গুলোর মোকাবিলা করবেন। আমরা অত্যন্ত গর্বিত যে, আইসিআরসি-এর সঙ্গে কাজ করে এমন এক প্রজন্মের আইনজীবী তৈরি করছি, যারা সমাজে পরিবর্তন আনবে।
রেডক্রসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হেনরি ডুনান্টের নামে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার সূচনা হয় ২০০১ সালে। শুরু থেকেই এটি ধারাবাহিকভাবে বিকশিত হয়েছে এবং বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্ব অন্তর্ভুক্ত করছে। এ বছর অংশগ্রহণকারীরা সশস্ত্র সংঘাত ও মানবাধিকার সম্পর্কিত জটিল আইনি যুক্তি নিয়ে বিতর্কে অংশগ্রহণ করবেন। বিজয়ী দল আগামী বছর হংকং-এ অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া-প্যাসিফিক পর্বে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবে।
দুই দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় দেশের শীর্ষস্থানীয় ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অংশগ্রহণকারী দলগুলো বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞদের সামনে তাদের যুক্তি উপস্থাপন করেন। প্রতিযোগিতাটি শিক্ষার্থীদের গবেষণা, বিশ্লেষণ, অ্যাডভোকেসি ও জনসমক্ষে বক্তব্য প্রদানের দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: