১. অল্প খাওয়া
দ্রুত ওজন কমানোর জন্য অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ বন্ধ করে দেওয়া নারীদের একটি বড় ভুল। যদিও প্রথমে মনে হতে পারে এটি কাজ করছে, কিন্তু আসলে এটি তাদের মেটাবলিজমকে ধীর করে দিতে পারে। সেইসঙ্গে ক্ষুধার্ত করে তুলতে পারে এবং অনেক বেশি খেতে উৎসাহিত করতে পারে। পাশাপাশি পেশী ক্ষয় করতে পারে। তাদের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে ও সারাক্ষণ ক্লান্ত করে রাখতে পারে। দীর্ঘস্থায়ীভাবে ওজন কমানোর জন্য খাওয়া প্রয়োজন, নিজেকে অনাহারে রাখা নয়।
২. পর্যাপ্ত প্রোটিন না খাওয়া
অনেক নারীই শুধু কার্বোহাইড্রেট বা ফ্যাট কমানোর দিকে মনোযোগ দেন। তাঁরা প্রোটিনের কথা ভুলে যান। প্রোটিন পেশী শক্তিশালী রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রোটিনযুক্ত খাবার খেলে তা দীর্ঘ সময় পেট ভরিয়ে রাখে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতেও কাজ করে। যে কারণে হরমোন এবং মেটাবলিজমকে ভালোভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। তাই প্রতি বেলার খাবারে কিছু প্রোটিন রাখা উচিত, যেমন ডিম, ডাল, পনির, দই, টোফু, মাছ, মুরগির মাংস বা বাদাম।
৩. স্বাস্থ্যকর বলে দাবি করা অনেক প্যাকেটজাত খাবার খাওয়া
কোনো খাবারে ডায়েট-বান্ধব বা কম-ফ্যাটযুক্ত লেখা থাকলেই যে তা আপনার জন্য সত্যিই ভালো হবে, এমনটা নয়। অনেক প্যাকেটজাত খাবারে লুকানো চিনি, অতিরিক্ত লবণ, কৃত্রিম মিষ্টি, অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং অ্যাডিটিভ থাকতে পারে। তাই প্রচুর পরিমাণে প্যাকেটজাত খাবার খাওয়ার পরিবর্তে নারীদের উচিত গোটা, অপ্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার চেষ্টা করা।
৪. অপর্যাপ্ত ঘুম এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ
ওজন কমানো শুধু আপনি কী খাচ্ছেন এবং কতটা ব্যায়াম করছেন তার ওপরই নির্ভর করে না। মানসিক চাপ এবং অপর্যাপ্ত ঘুম আপনার মেটাবলিজম এবং হরমোনের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। খুব বেশি মানসিক চাপে থাকলে তা শরীরকে কর্টিসল তৈরি করতে বাধ্য করতে পারে। তখন ক্ষুধা না থাকা সত্ত্বেও আপনাকে খেতে উৎসাহিত করতে পারে। শরীরের পেটের চারপাশে চর্বি জমাতে পারে। তাই নির্বিঘ্ন ঘুমের দিকে মনোযোগী হওয়া জরুরি।
৫. খুব দ্রুত ওজন কমানোর ইচ্ছা
অনেক নারীই দ্রুত হতাশ হয়ে পড়েন। এর ফলে তারা এমন কিছু চেষ্টা করতে পারেন যা তাদের জন্য ভালো নয়। যেমন তারা অতিরিক্ত কঠোর উপায়ে ডায়েট শুরু করতে পারেন, ডিটক্স বা ক্লিনজিং করেন বা প্রয়োজনীয় খাবারও বাদ দিয়ে দেন। এগুলো কখনো সঠিক ফল আনতে পারে না। তাই ওজন কমাতে চাইলে এ ধরনের ভুল এড়িয়ে চলতে হবে।
