মঙ্গলবার, ১৯শে মে ২০২৬, ৫ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


অর্থমন্ত্রী

১ জুলাই থেকে নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:১৯ মে ২০২৬, ১৭:১১

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

আগামী ১ জুলাই থেকে নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে বাজেট সীমাবদ্ধতার কারণে বেতন কমিশনের সব সুপারিশ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মঙ্গলবার (১৯ মে) নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আগামী অর্থবছরের শুরু থেকেই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। কীভাবে সবচেয়ে কার্যকর উপায়ে এটি বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়ে কাজ চলছে। তবে বাজেটের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অর্থনীতির পরিস্থিতিও কঠিন। জিডিপির তুলনায় রাজস্ব আহরণের অবস্থাও সন্তোষজনক নয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে কাটছাঁট করতে হচ্ছে। তারপরও নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকে নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য এরই মধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ জন্য আগামী জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হতে পারে।

তবে পুরো সুবিধা একবারে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী তিন অর্থবছরে এটি বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা চলছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আগামী ২১ মে বৈঠকে বসবে বাস্তবায়ন কমিটি।

প্রায় ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো চালু হতে যাচ্ছে। তবে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী পূর্ণ সুবিধা একসঙ্গে দেওয়া হচ্ছে না। প্রথম ধাপে আগামী বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিচার বিভাগ এবং বিভিন্ন বাহিনীর চাকরিজীবীরা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবেন। বাকি অংশ পরবর্তী দুই অর্থবছরে কার্যকর করা হবে।

দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি কার্যকর হবে। আর তৃতীয় ধাপে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে অন্যান্য ভাতা ও অতিরিক্ত সুবিধা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত পেনশন বাবদ আরও প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা লাগতে পারে। সব মিলিয়ে সম্ভাব্য ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

এর আগে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানর নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন গত ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসর কাছে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশসংবলিত প্রতিবেদন জমা দেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। কমিশনের প্রস্তাব বাস্তবায়নে অতিরিক্ত আরও প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে।

পরে বেসামরিক কর্মচারী, জুডিশিয়াল সার্ভিস ও সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামো বিশ্লেষণ করে বাস্তবায়ন সুপারিশ তৈরির জন্য গত মাসে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে সরকার।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। গ্রেড আগের মতো ২০টিই রাখা হয়েছে। নতুন কাঠামোয় ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাতও ১:৯ দশমিক ৪ থেকে কমিয়ে ১:৮ নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়