সোমবার, ১৭ই জুন ২০২৪, ৩রা আষাঢ় ১৪৩১


ঢাকার বড় অংশই যখন হিট আইল্যান্ডে পরিণত


প্রকাশিত:
২১ মে ২০২৩ ১৭:২০

আপডেট:
১৭ জুন ২০২৪ ০৬:৫৮

ছবি সংগৃহিত

গ্রামাঞ্চলের তুলনায় শহরে গরম বেশি পড়ে। এটা সর্বজনস্বীকৃত। কেন শহরেই বেশি গরম পড়তে দেখা যায়? বিশেষ করে শহরের কেন্দ্রে বেশি গরম অনুভূত হয়, কিন্তু শহরের চারপাশের গ্রামাঞ্চলে তুলনামূলক কম গরম পড়ে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ বলছে, ঢাকায় ২০২৩ সালে এপ্রিলের ২৫ দিনই দাবদাহ বয়ে গেছে। দাবদাহ বছরের এই সময়ের বৈশিষ্ট্য। বৃষ্টি না হলে এই সময় তাপপ্রবাহ তৈরি হয়। এবার বৃষ্টিপাত কম হওয়ার কারণে তাপপ্রবাহ বেড়েছে। তাপপ্রবাহের সঙ্গে আর্দ্রতা বাড়ার কারণে মানুষের মধ্যে অস্বস্তি বেশি হচ্ছে।

দুই-তিনদিন ধরে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়েছে। ফলে ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। রাতের তাপমাত্রাও কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু এখন রাতের তাপমাত্রা ও বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে।

আগামী আগস্টেও একই ধরনের তাপপ্রবাহ দেশজুড়ে বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে জীবিকার তাগিদে রাস্তায় নামতে হচ্ছে লাখো মানুষকে। এতে ‘হিট স্ট্রোকের’ শঙ্কা বাড়াচ্ছে চলমান তাপমাত্রা।

চলমান দাবদাহের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে কুয়াশার মতো যা দেখা যাচ্ছে, তাকে আসলে আবহাওয়া বিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘লো ক্লাউড’ বা নিচু মেঘ। মূলত সারাদিন প্রচণ্ড দাবদাহের কারণে দেশের ভেতরের জলাশয় ও নদ-নদী থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প তৈরি হচ্ছে।

ভোরের দিকে সূর্যের আলো পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসে থাকা ওই অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প কুয়াশার মতো করে ভাসতে থাকে, যা দেখে নিচু মেঘের মতো মনে হয়েছে। যেখানে তাপমাত্রার ওঠানামা বেশি, সেখানেই কুয়াশা তৈরির সুযোগ বেশি থাকে।

তাপপ্রবাহের পর রাজধানীতে বায়ুদূষণেও রেকর্ড করেছে গেল এপ্রিল মাস। এই সময়ের গড় বায়ুদূষণের তুলনায় এবার এপ্রিলে বায়ুদূষণ বেড়েছে প্রায় ২৬.৯৩ শতাংশ। গবেষণায় দেখা যায়, ২০০১ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ঢাকা শহরের ভূপৃষ্ঠ এলাকা ২৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ সম্প্রসারিত হয়েছে। একই সময়ে জনসংখ্যা বেড়েছে ৭৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ। বসবাসের উপযোগিতার দিক থেকে ঢাকার অবস্থান ক্রমাগত তলানিতে নেমে এসেছে।

ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ১৪০টি শহরের ওপর জরিপ চালিয়ে শহরগুলোর বসবাস উপযোগিতার যে তালিকা করেছিল বছর দুয়েক আগে তাতে ঢাকার অবস্থান ছিল শেষ দিক থেকে চার নম্বরে। ওই তালিকায় ১৩৭ নম্বরে ছিল ঢাকার অবস্থান।

ইদানীং দেখা যাচ্ছে বৃষ্টি হলেও গরম কমছে না ঢাকায়। আশপাশের জেলাগুলোর তুলনায় ঢাকার তাপমাত্রা সব সময়ই ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকতে দেখা গেছে। ঢাকায় ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রা হলেও বাস্তবে এটি অনুভব হচ্ছে আরও ৬-৭ ডিগ্রি বেশি। গবেষকেরা বলছেন, ঢাকার সঙ্গে শহরের বাইরের গরমের অনুভূতির এই পার্থক্যের মূলে রয়েছে তাপীয় দ্বীপ (হিট আইল্যান্ড)। ঢাকার মূল বসতি ও বাণিজ্যিক এলাকার একটা বড় অংশ তাপীয় দ্বীপে পরিণত হয়েছে। ফলে ঢাকার ঠিক বাইরের প্রাকৃতিক পরিবেশ সমৃদ্ধ এলাকার সঙ্গে রাজধানীর তাপের পার্থক্য তৈরি হয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়, ঢাকার উষ্ণতম স্থানের সঙ্গে শহরের বাইরের শীতলতম স্থানের দিন-রাতের ভূপৃষ্ঠীয় তাপমাত্রার পার্থক্য যথাক্রমে ৭ ও ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিষয়টি অনেকটা এমন, ঢাকার অদূরে সাভার বা মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে যখন তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকছে, তখন রাজধানীর তেজগাঁও-ফার্মগেট এলাকার ভূপৃষ্ঠীয় তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবার ঢাকার ভেতরেও ভূপৃষ্ঠীয় তাপমাত্রার পার্থক্য দেখা যায়। যেমন দিনের সবচেয়ে উত্তপ্ত সময়ে মিরপুরের চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকার তাপমাত্রা গুলশানের চেয়ে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম। শাহবাগ মোড় থেকে ঠিক দুই বা তিনশ মিটার ভেতরে জাতীয় জাদুঘর। সেখানে গেলেই তাপমাত্রা ২-৩ ডিগ্রির কম অনুভব হয়। ঢাকায় বেশি গরম অনুভূতের অন্যতম কারণ বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন ও স্থানীয় দূষণগুলো।

পরিবেশবিদেরা জানাচ্ছেন, শহরে প্রাকৃতিক ভূরূপ যত কংক্রিটে ছেয়ে যায়, তত তাপ ধরে রাখতে শুরু করে। আর তার ফলে হয় এমনটা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এয়ার টাইট উঁচু উঁচু ভবন, অপরিকল্পিত ইট-কংক্রিটের স্থাপনা, যানবাহন ও জনসংখ্যার ঘনত্বের সঙ্গে নানা রকম দূষণ, বায়ু, মিথেন, পানি, নদী ও জলাশয় ভরাট করার ফলে শহরাঞ্চলে তাপমাত্রা বেশি অনুভূত হচ্ছে। রাজধানীকে কংক্রিটের শহর বানানো হয়েছে। এর ফলে কী ধরনের পরিস্থিতি হচ্ছে এখনের পরিবেশই তার জ্বলন্ত উদাহরণ।

অবাধে গাছপালা কেটে ফেলা, প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করে নগরায়ণের জন্য কাঠামো/স্থাপনা তৈরি ও খোলা জায়গা না থাকার ফলে ভবন, কংক্রিট, পিচ, রাস্তা, ঘনবসতি, চুলা, পরিবহন প্রভৃতি থেকে ও মানুষের কর্মের কারণে নির্গত তাপ ক্রমশ ঢাকাকে এক একটি তাপীয় দ্বীপের ‘হিট বোম্ব’-এ পরিণত করছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

শুধুমাত্র কলকব্জা কিংবা গাড়ির ধোঁয়া বা কারখানার চিমনি থেকে নির্গত দূষিত পদার্থ শহরাঞ্চলে গরমের জন্য দায়ী নয়। কোনো কিছু তৈরিতে আমরা যে উপাদান ব্যবহার করে থাকি, সেই উপাদানগুলোর কারণেও গরম বৃদ্ধি পেতে পারে এবং সবকিছু মিলে একটি জায়গায় যে উষ্ণতার সৃষ্টি হয় সেই উষ্ণতাপ্রবণ এলাকাকেই বলা হয় হিট আইল্যান্ড।

রাজধানীতে এয়ার টাইট উঁচু উঁচু ভবনগুলো কাচে আচ্ছাদিত। সঙ্গে উচ্চমাত্রার এয়ারকন্ডিশন লাগানো। এগুলো উল্টো তাপ উৎপাদন করে। আবার যেসব নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয় তাও তাপ উৎপাদন করে। তাপদাহে অতিষ্ঠ মানুষ গরম থেকে বাঁচতে এয়ার কন্ডিশন ব্যবহার করছে। এই এয়ার কন্ডিশনগুলো পাশের বাসায় তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। তার মানে এখানেও তাপমাত্রার বৈষম্য।

শহরের মধ্যে ভবন নির্মাণের সময় মাঝখানে কোনো গ্যাপ রাখা হয় না। ফলে ভবনের মাঝখানে বায়ু প্রবাহ চলাচল করতে পারে না। উঁচু উঁচু কংক্রিটের দালানকোঠাগুলো বাতাসের প্রবাহকে শুধু বাধাই দেয় না, এই দালানগুলোর অবস্থানের কারণে বাতাস প্রবাহের একটি চ্যানেল তৈরি হয়ে যায়। এসব কারণে কোনো একটি গোটা এলাকা ঠাণ্ডা না হয়ে বিশেষ কয়েকটি স্থান একটু একটু ঠাণ্ডা বাতাস পেয়ে থাকে।

গরমের কারণে বাষ্পীভবনের মাত্রা বেড়ে যায়, কিন্তু তাপশক্তির ক্ষয় কম হয়। শহরে বৃষ্টির পানি ড্রেন দিয়ে বের হয়ে যায়। পিচ ঢালা রাস্তা এবং দালানকোঠা তৈরির উপাদানগুলো খুব সহজেই তাপ শোষণ করে ফেলতে পারে। যদি আমরা ধরে নেই যে শহরে দালানগুলোর উচ্চতা প্রায় একইরকম এবং শুধুমাত্র রাতেই এরা নিজেদের শোষিত তাপগুলো ছাদ দিয়ে বাইরে বের করে দেয় তাহলে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ তাপীয় ফাঁদের অবস্থার সৃষ্টি হয়। সেই অবস্থাটি হচ্ছে একই সারির উঁচু দালানের ওপর একটি ঠাণ্ডা বাতাসের স্তর তৈরি হয়ে যায়।

ভূমি থেকে উঠে আসা গরম বাতাসকে এই স্তর বাধা দেয় এবং গরম বাতাসের একটি ফাঁদ তৈরি করে। একই সময়ে যদি পুরো শহরে বায়ুদূষণের পরিমাণ বেশি হয় এবং বাতাসে দূষিত পদার্থের উপস্থিতি বেশি থাকে, তাহলে এরকম তাপীয় ফাঁদের ফলে তৈরি অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে উঠতে পারে। এই গরম রাতের বেলা যদিও বাইরে চলে যেতে পারে তবুও গ্রামাঞ্চলের মতো ঠাণ্ডা পরিবেশ শহরে কখনোই পাওয়া যাবে না।

শুধু ২০২৩ সালই নয়, এক দশকে ধীরে ধীরে রাজধানী ও গ্রামের ঋতুর ব্যাপ্তি, বৈশিষ্ট্য ও তাপমাত্রার একটা বিরাট পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এটা আরও তীব্র হবে। অনুমতি ছাড়া যেসব ভবন নির্মাণ হচ্ছে সেগুলোয় এক ফুট কখনো একই দেয়ালে দুই ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব ভবন এক ধরনের জ্বলন্ত বাম্প হয়ে থাকে।

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, একটি আদর্শ শহরের জন্য কমপক্ষে ৪০ শতাংশ জায়গা ছেড়ে দিতে হয়। কিন্তু রাজধানীতে ১০ শতাংশ জায়গা ছাড়ার প্রমাণ পায়নি বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা। একটি নগরায়ণে ২৫ ভাগ সবুজ এবং ১৫ ভাগ ওয়াটার বডি (জলাশয়)-সহ মোট ৪০ ভাগ জায়গা ছেড়ে দিতে হয়। কিন্তু ২০২০ সালে এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার মোট ভূমির শতকরা ৮২ ভাগ কংক্রিটে আচ্ছাদিত। আর জলাশয় তো নেই বললেই চলে।

দুই দশকে পরিবেশবিদেরা বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও উন্নয়নের নামে সড়ক ও পরিকাঠামো নির্মাণ, নগরায়ণ, শিল্পায়নের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে চলেছে অপরিণামদর্শী ও পরিকল্পনাহীন যথেচ্ছাচার। দুই দশকে প্রাকৃতিক শক্তির মধ্যে বজ্রপাতের পরেই সব থেকে প্রাণঘাতী গরম। অধিকাংশ মৃত্যু ৩০-৪৫ বছরের পুরুষের, যারা মূলত খোলা জায়গায় কাজ করা শ্রমিক। একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের বিশেষ করে স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী মানুষ, বস্তিবাসী, অভিবাসী এবং নারী ও শিশুদের শরীর স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে তাপপ্রবাহ, আরেকদিকে তেমনই দেশের আর্থিক এবং সামগ্রিক উন্নয়নেও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।

তাই নগরে তাপ বৃদ্ধির সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা, তার সমাধান বের করা, সবুজায়নের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা এবং এসব কাজের মাধ্যমে ঢাকার তাপমাত্রাকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে আসার প্রয়োজন। শহরের তাপ হ্রাস করার জন্য কৌশল গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

এরমধ্যে রয়েছে শহরের তাপমাত্রা সর্বোচ্চ, এমন এলাকাগুলো চিহ্নিত করা। এই এলাকাগুলোর সবুজ অবকাঠামো, যেমন—পার্ক, গাছ, ছাদ ও ফুটপাত ব্যবহার ও সংস্কার করে সেখানকার তাপ কমানো এবং আবর্জনাস্থলে পরিণত হতে চলা জলাভূমিগুলো ফিরিয়ে আনা গেলে তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি কমিয়ে আনা সম্ভব।

সভ্যতা ও প্রযুক্তির উদ্ভাবন জীবনযাত্রা যেমন সহজ করছে, তেমনি প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করা, নদী, সমুদ্র ইত্যাদি দূষণ করা আমাদের জীবনকে শঙ্কাগ্রস্ত করে তুলেছে। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়ন না হলে মানুষ এবং অন্য সব জীববৈচিত্র্যের ধ্বংস অনিবার্য। এজন্য আশু করণীয় ঠিক করার এখনই উপযুক্ত সময়।

১. যেকোনো আবহাওয়াজনিত দুর্যোগের জন্য আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম থাকা উচিত যেমন—‘হিট ওয়েভ আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম’ এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে বন্যা, ভূমিকম্প পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ পদ্ধতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

২. সস্তা জনপ্রিয়তার পরিবর্তে টেকসই পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা উচিত।

৩. প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশের যেকোনো ধ্বংস সাধন প্রকারান্তরে দুর্যোগকে আমন্ত্রণ জানানো—এই সচেতনতা তৈরি করা।

৪. তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে নানান কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণসহ তাপ ঝুঁকি/প্রচণ্ড গরমের ঝুঁকির সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং অতিরিক্ত তাপের সময় কীভাবে নিরাপদ থাকতে হয় সেই সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচার প্রচারণা চালানো জরুরি।

৫. দূষণ ও দখলের মতো কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে আমাদের প্রজন্ম পঙ্গু করে দেবে এই বোধের জাগরণ জরুরি।

৬. বিজ্ঞান গবেষণা, বিজ্ঞানী ও গবেষকদের উৎসাহ দান এবং দেশে যথাযথ বিজ্ঞান গবেষণার পরিবেশ তৈরি করা।

আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঘটনা বুঝতে এবং বিশ্লেষণের জন্য আধুনিক পর্যবেক্ষণ যন্ত্রপাতি, গাণিতিক মডেল এবং সর্বোপরি সক্ষম ও দক্ষ মানব সম্পদ প্রয়োজন। তাহলে যেকোনো দুর্যোগে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী পূর্বাভাসের সমন্বিত ব্যবস্থা দ্বারা উপকৃত হবে।

বিজ্ঞান ব্যবহার করে আমাদের প্রয়োজন সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং একটি পরিকল্পনা তৈরি করা যেটার উপর নির্ভর করে পুরো কাজটি করা হবে। এতে করে সব দিকেই সাশ্রয় হবে এবং একটি সুন্দর সমাজ এবং সুন্দর পরিবেশ তৈরি হবে।

পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে যে ক্ষতি হওয়ার তা হয়েই গিয়েছে। যে ভুলগুলোর কারণে এমনটি হয়েছে সেটা আর শোধরানোর কোনো উপায় নেই, কিন্তু ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা এবং পরিবেশ আইন প্রণয়ন করলে অনেকটাই ক্ষতি কমিয়ে আনা যাবে।

ড. মো. আনোয়ার খসরু পারভেজ ।। অধ্যাপক ও গবেষক, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১১ তলা) ৫১-৫১/এ, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৭১১-৯৫০৫৬২, ০১৯১২-১৬৩৮২২
ইমেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক: মো. জেহাদ হোসেন চৌধুরী

রংধনু মিডিয়া লিমিটেড এর একটি প্রতিষ্ঠান।

Developed with by
Top