বুধবার, ৩রা জুন ২০২৬, ২০শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
শহিদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার, খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ঘটনার পেছনের দেশি-বিদেশি চক্রান্ত উদ্ঘাটনের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইনকিলাব মঞ্চ।
সংগঠনটির দাবি, এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় তারা আন্দোলন জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে সংগঠনটি দ্রুত বিচার নিশ্চিত এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনের সামনে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এ কর্মসূচী ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, ওসমান হাদি হত্যার বিচারকে বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের ট্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে। ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশের ভেতরে যারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্তদের আড়াল করার বা নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছে, তারাও এই হত্যার সঙ্গে জড়িত। পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে আমাদের ধারণা হয়েছে যে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে বাংলাদেশের এমন কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে, যার পরিচয় প্রকাশ হলে দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে।
তিনি আরও বলেন, ওসমান হাদিকে শুধু আওয়ামী লীগবিরোধী অবস্থানের কারণে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে করলে ভুল হবে। বরং অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে ভারতের কোনো ভূমিকা ছিল কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। কারণ, হত্যার পরপরই সীমান্ত সিল করার কথা থাকলেও তা করতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে খুনিরা পালিয়ে গেছে বলে যে তথ্য এসেছে, তা নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টদের জবাব দিতে হবে। সন্ধ্যার পরপরই সীমান্ত বন্ধ করার কথা থাকলেও তা করতে রাত ১০টা-১১টা পর্যন্ত সময় লেগেছে।
সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, একটি বেসরকারি অনুসন্ধানী সংস্থা হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সম্ভাব্য খুনিদের পরিচয় প্রকাশ করলেও রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো খুনিরা দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর বিষয়টি সামনে এনেছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একজন প্রার্থীকে রাজধানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় গুলি করে হত্যার পর খুনিরা ১০ থেকে ১১ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছেড়ে চলে গেলেও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে পারেনি।
আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করে জাবেন বলেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যোগে মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল করা হবে। একই দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালনেরও ঘোষণা দেওয়া হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় একাধিকবার পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় আর কোনো বিলম্ব মেনে নেওয়া হবে না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে খুনিদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের বক্তব্যকে ধোঁয়াশাপূর্ণ। তাই খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণার দাবিও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ইনকিলাব মঞ্চের প্রকাশনা সম্পাদক ফাহিম মীর, সদস্য হাবিবুল্লাহ মিসবাহসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।