বুধবার, ৬ই মে ২০২৬, ২৩শে বৈশাখ ১৪৩৩
ফাইল ছবি
রিদপুরের বোয়ালমারীতে মোটরসাইকেল নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার জেরে রবিউল ইসলাম (৩৬) নামের এক যুবককে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। হত্যার পর লাশ বস্তাবন্দী করে প্রাইভেট কারে গুম করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি খাদে পড়ে গেলে ঘটনা জানাজানি হয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করে দুজনকে আটক করে পুলিশে দেন।
গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে বোয়ালমারী উপজেলার ময়না ইউনিয়নের হাটখোলারচর গ্রামের সাতৈর-মহম্মদপুর সড়কের বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রবিউল ইসলাম মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার সিন্ধাইন গ্রামের গোলাম সরোয়ার শেখের ছেলে। পেশায় পাওয়ার ট্রিলারের চালক ছিলেন তিনি।
পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বোয়ালমারীর হাটখোলারচর গ্রামের শহিদুল শেখের সঙ্গে দুই বছর আগে মহম্মদপুর উপজেলার সিন্ধাইন গ্রামের সাহিদুল ইসলামের মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে দাম্পত্য কলহ চলছিল। সম্প্রতি শহিদুল তাঁর শ্যালকের একটি মোটরসাইকেল নিয়ে বন্ধক রাখেন, যা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।
নিহত রবিউলের মামা মুসা মোল্যার ভাষ্য, প্রতিবেশী সাহিদুলের অনুরোধে গতকাল দুপুরে রবিউল মোটরসাইকেল আনতে তাঁর সঙ্গে বোয়ালমারীতে যান। রবিউল ড্রাইভিং জানায় তাঁকে সঙ্গে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে মোটরসাইকেল ফেরত নেওয়া নিয়ে শহিদুল ও তাঁর পরিবারের লোকজনের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয়। বিবাদের পর তাঁরা ফিরে আসছিলেন। পথে কল করে মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার জন্য আবার ডেকে নেওয়া হয়। পরে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটানো হয়। যাঁরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, তাঁদের সঙ্গে তাঁর ভাগনের আগে কোনো পরিচয় বা শত্রুতা ছিল না।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা একটি ভাড়া করা প্রাইভেট কারে লাশ তুলে সেটিকে গুম করার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে গেলে তাঁরা সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে স্থানীয় লোকজন গাড়ি উদ্ধার করতে গিয়ে ভেতরে বস্তাবন্দী গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান। এ সময় গাড়িতে থাকা পাঁচজনের মধ্যে তিনজন পালিয়ে গেলেও শাহজাদা (২৩) ও তপু সাহাকে (২২) আটক করে পুলিশে দেন লোকজন।
শাহাজাদা বোয়ালমারী উপজেলার আন্দারকোঠা গ্রামের বাসিন্দা এবং তপু একই উপজেলার পঙ্কজ সাহার ছেলে।
রবিউলের বাবা গোলাম সরোয়ার শেখ বলেন, ‘আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই হত্যার বিচার চাই।’
ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) মো. আজম খান বলেন, নিহত রবিউলের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন আছে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে মূল অভিযুক্ত শহিদুল শেখ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা পলাতক। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)