মঙ্গলবার, ৫ই মে ২০২৬, ২২শে বৈশাখ ১৪৩৩
ফাইল ছবি
ইসলামে নারীর মর্যাদা কেমন? তাদের ভূমিকা কী? মুসলিম নারীরা কি আসলেই অবহেলিত বা নির্যাতিত? আধুনিক যুগেও এমন অনেক প্রশ্ন মানুষের মনে উঁকি দেয়। কিন্তু ইসলাম নারী ও পুরুষ উভয়কে যথাযথ সম্মান দিয়েছে তবে ইসলামের দৃষ্টিতে নারী ও পুরুষের দায়িত্ব ও কর্তব্যের ধরনে রয়েছে কিছু সুন্দর বৈচিত্র্য।
একজন পুরুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে নারীর প্রভাব। জীবনের শুরুতেই মা হিসেবে নারীর স্নেহ পায় একজন পুরুষ। পরিণত বয়সে স্ত্রী ও জীবন সঙ্গী হিসেবে পাশে থাকে নারী। বাবা হিসেবে পুরুষের নয়নের মণি কন্যা সন্তান। একজন পুরুষের জীবনে যত রূপেই নারীর আগমন ঘটুক, সব রূপেই ইসলাম নারীকে দিয়েছে বিশেষ সম্মান ও মর্যাদা। নারীকে পূর্ণাঙ্গ সম্মান জানানোর মাধ্যমে একজন পুরুষের জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে ইসলামে।
কন্যা সন্তান রহমতের প্রতীক
ইসলামী পরিবারে কন্যা সন্তানের জন্মকে রহমত হিসেবে দেখা হয়। লোকমুখে প্রচলিত আছে, ছেলে সন্তান জন্ম নিলে পরিবারে একটি নূর বা আলো আসে, আর কন্যা সন্তানের জন্ম হলে আসে দুটি নূর।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি তার কন্যাদের ভালোবাসবে এবং তাদের সুন্দরভাবে লালন-পালন করে সুপাত্রে দান করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব করে দেবেন।
মহানবী (সা.)-এর নিজের চারজন কন্যা ছিল। তিনি তাদের অত্যন্ত ভালোবাসতেন। তিনি বলতেন, ফাতেমা আমার কলিজার টুকরো। যারা কন্যাসন্তানকে বোঝা মনে করেন, তাদের জন্য ইসলামের এই আদর্শ এক বিরাট শিক্ষা।
স্ত্রী ঘরের রানী
একজন নারী যখন বিয়ের পিঁড়িতে বসেন, সেখানেও তার পূর্ণ সম্মতি থাকা বাধ্যতামূলক। ইসলামে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার কোনো স্থান নেই। বিয়ের পর একজন স্ত্রী মানেই ঘরের বন্দি কোনো দাসী নয়। আরবে স্ত্রীদের বলা হয় রাব্বাইতুল বাইত বা ঘরের রানি। ইসলামী বিধান অনুযায়ী, ঘরের কাজে স্ত্রীকে সাহায্য করা স্বামীর জন্য সওয়াবের কাজ। স্বামী-স্ত্রী একে অপরের পরিপূরক।
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, পুরুষরা নারীদের রক্ষক ও ভরণপোষণকারী।
রাসুল (সা.) বলেছেন, কোনো নারী যদি তার স্বামীকে সন্তুষ্ট রেখে মৃত্যুবরণ করেন, তবে তিনি জান্নাতে প্রবেশ করবেন। স্ত্রী হিসেবে একজন নারী তার সম্মান, মতামত প্রকাশের অধিকার এবং স্বামীর সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণকারী হিসেবে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী।
মায়ের পায়ের নিচে জান্নাত
পরিবারের মূল ভিত্তি হিসেবে মায়ের ত্যাগ ও ভালোবাসার কোনো তুলনা হয় না। ইসলামে মায়ের মর্যাদাকে সর্বোচ্চ স্থান দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে মায়ের গর্ভধারণ ও প্রসবের কষ্টের কথা উল্লেখ করে সন্তানদের মায়ের প্রতি সদয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত বেহেশত— রাসুল (সা.)-এর সেই বিখ্যাত হাদিস আমাদের সবার জানা। মহান আল্লাহ মায়ের অবাধ্য হওয়াকে হারাম ঘোষণা করেছেন। একজন নারী যখন মা হন, তখন তিনি শুধু একজন ব্যক্তি নন, বরং একটি প্রজন্মের নির্মাতা হিসেবে স্বীকৃত হন।
অধিকার ও ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার
ইসলামে নারীর গুরুত্ব এতটাই বেশি যে, পবিত্র কোরআনে সূরা আন-নিসা নামে নারীদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ সূরা নাজিল হয়েছে। ইসলামের ইতিহাসে প্রথম শহীদ সুমাইয়া (রা.) ছিলেন একজন নারী। মহানবী (সা.)-এর ওপর প্রথম বিশ্বাস স্থাপনকারী খাদিজা (রা.)-ও ছিলেন একজন নারী। শিক্ষা, স্বাধীনতা, বিয়ে, মর্যাদা এবং উত্তরাধিকার—সবক্ষেত্রেই নারীকে সুনির্দিষ্ট অধিকার দিয়েছে ইসলাম।
ইসলামে নারী কোনোভাবেই অববেলিত নয় বরং কন্যা হিসেবে সে জান্নাতের চাবিকাঠি, স্ত্রী হিসেবে সে দ্বীনের অর্ধেক এবং মা হিসেবে সে জান্নাতের ছায়া। মুসলিম নারী হিসেবে জন্ম নেওয়া তাই এক গর্ব ও বিশেষ সৌভাগ্যের বিষয়।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)