বুধবার, ২০শে মে ২০২৬, ৬ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
হজ ও ওমরাহর গুরুত্বপূর্ণ আমল তাওয়াফ। হজের সময় কাবা তাওয়াফ করা ফরজ। ওমরাহর সময় তাওয়াফ করা ওয়াজিব। ওমরাহর ইহরাম বাঁধার পর পবিত্র কাবাগৃহ সাতবার প্রদক্ষিণ করতে হয়। আর হজের সময় ইহরাম বেঁধে, মিনা, মুজদালিফা এবং আরাফার ময়দানে অবস্থানের পর ১০ জিলহজ ভোর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত যেকোনো সময় কাবাঘর তাওয়াফ বা সাতবার প্রদক্ষিণ করা ফরজ।
পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘আর আমি ইবরাহিম ও ইসমাঈলকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম যে তোমারা আমার ঘরকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী ও রুকু-সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র করো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১২৫)
তাওয়াফের ফজিলত সম্পর্কে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, বাইতুল্লাহর চারদিকে তাওয়াফ করা নামাজ আদায়ের অনুরূপ। তবে তোমরা এতে (তাওয়াফকালে) কথা বলতে পারো। সুতরাং তাওয়াফকালে যে ব্যক্তি কথা বলে সে যেন ভালো কথা বলে। (তিরমিজি, হাদিস : ৯৬০)
আরেক হাদিসে হজরত আবদুল্লাহ বিন ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.) কে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করল এবং দুই রাকাত নামাজ পড়ল, তা একটি ক্রীতদাসকে দাসত্বমুক্ত করার সমতুল্য।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৯৫৬)
সাত চক্কর শেষ হওয়ার পর মাকামে ইবরাহীমের পেছনে দাঁড়িয়ে বাইতুল্লাহ শরিফের অভিমুখী দু’রাকাত নামাজ আদায় করা হয়। তাওয়াফের এই দুই রাকাত নামাজ হানাফী মাজহাব মতে ওয়াজিব।
মাকামে ইবরাহীম থেকে পেছন দিকে পড়া সুন্নত। তবে সেখানে পড়া সম্ভব না হলে হারাম শরীফের যেকোনো জায়গায়, সাফা মারওয়ায়, দ্বিতীয় তলায়, তৃতীয় তলায় কিংবা ছাদের উপরেও পড়া যাবে। এমনকি কেউ যদি মাকরূহ ওয়াক্তে তাওয়াফ শেষ হওয়ার কারণে অথবা ভুলের কারণে মসজিদে হারামের মধ্যে এই নামাজ না পড়ে, হোটেলে গিয়ে আদায় করে তাতেও অসুবিধে নেই। এ কারণে কোনো জরিমানা দিতে হবে না।
আতা রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,যে ব্যক্তি বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করার পর তাওয়াফের দুই রাকাত নামাজের কথা ভুলে গিয়ে চলে যায় সে পরবর্তীতে স্মরণ হওয়া মাত্র ওেই দুই রাকাত নামাজ পড়ে নেবে। আর এ কারণে তার ওপর কোনো জরিমানা আসবে না।