শনিবার, ১৩ই জুন ২০২৬, ৩০শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ফাইল ছবি
নামাজের বাহিরে ও ভেতরে ১৩টি ফরজ রয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম হলো পবিত্র কাপড় পরিধান করা ও সতর ঢাকা। বিশেষ প্রয়োজনের মুহূর্ত, যেমন কোনো কারণে কাপড় পাওয়া না গেলে নামাজ আদায়ের জন্য অন্তত সতর ঢাকা পরিমাণ কাপড় পরতে হবে। স্বাভাবিক সময়ে নামাজ আদায়ের জন্য শালীন ও পুরো শরীর ঢেকে রাখা যায় এমন কাপড় পরিধান করা জরুরি।
যেকোনো ধরনের শালীন পোশাকে নামাজ আদায় করা যাবে। শালীন পোশাকের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ নির্দেশনা নেই। জার্সি এবং এ জাতীয় শালীন পোশাকেও নামাজ আদায় করা যাবে। এতে নামাজ হয়ে যাবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে জার্সিতে যেন কোনো প্রাণীর ছবি না থাকে। প্রাণীর ছবি থাকলে সেই জার্সি পরে নামাজ আদায় করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
ইসলামী শরিয়ত মতে, কোনো প্রাণীর ছবিযুক্ত পোশাক পরিধান করা হারাম। তবে প্রাণহীন বস্তু যেমন, বৃক্ষ, পাহাড়, ঝরনা ইত্যাদির ছবি বৈধ। প্রাণীর ছবিযুক্ত পোশাক পরার ক্ষেত্রে নামাজ ও নামাজের বাইরের বিধান একই।
একজন মুসলিম নামাজের সময় কেমন পোশাক পরিধান করবেন এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, হে আদম সন্তান! প্রত্যেক নামাজের সময় সুন্দর পোশাক পরিচ্ছদ গ্রহণ কর... (সুরা আল আরাফ, আয়াত : ৩১)
এই আয়াতে পোশাককে ‘যীনাত’ বা ‘সাজ-সজ্জা’ শব্দের মাধ্যমে ব্যক্ত করা হয়েছে। এর কারণ হলো, সালাতে শধু গুপ্ত অঙ্গ আবৃত করা ছাড়াও সামথ্য অনুযায়ী সাজ-সজ্জার পোশাক পরিধান করা উত্তম।
হাসান (রা.) নামাজের সময় ভালো পোশাক পরিধানে অভ্যস্ত ছিলেন। তিনি বলতেন, আল্লাহ্ তায়ালা সৌন্দর্য পছন্দ করেন, তাই আমি প্রতিপালকের সামনে সুন্দর পোশাক পরে হাজির হই।
সতর বা যে গুপ্ত-অঙ্গ সর্বাবস্থায় বিশেষত, নামাজ ও তাওয়াফে আবৃত করা ফরজ, তার সীমা কতটুকু? কুরআনুল কারীম সংক্ষেপে গুপ্ত-অঙ্গ আবৃত করার নির্দেশ দিয়ে এর বিবরণ রাসূলুল্লাহ (সা.) বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন যে, পুরুষের গুপ্তাঙ্গ নাভী থেকে হাটু পর্যন্ত এবং মহিলাদের গুপ্তাঙ্গ মুখমন্ডল, হাতের তালু এবং পদযুগল ছাড়া পুরো দেহ।
নামাজে শুধু গুপ্ত অঙ্গ আবৃত করাই কাম্য নয়; বরং সাজ-সজ্জার ও উত্তম পোশাক পরিধান করতেও বলা হয়েছে। যেমন সাদা পোশাক, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের পোশাকের মধ্যে সাদা পোশাক পরিধান কর। কারণ, পোশাকের মধ্যে তাই উত্তম পোশাক। আর এতে তোমাদের মৃতদেরকে কাফনও দাও। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৮৭৮)