সোমবার, ১৫ই জুন ২০২৬, ১লা আষাঢ় ১৪৩৩
ফাইল ছবি
প্রতি বছরের মতো এবারও কিসওয়া বা কাবার গিলাফ পরিবর্তন হবে হিজরি নববর্ষে। এই পুরো প্রক্রিয়ার পেছনে জড়িয়ে আছে সৌদি আরব প্রশাসনের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা এবং আধুনিক কারিগরি দক্ষতা ও নিখুঁত কারুকার্যের এক অনন্য মেলবন্ধন।
কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্সে এই নতুন গিলাফ তৈরির কাজ শুরু হয় মূলত কয়েক মাস আগেই। সেখানে একদল বিশেষজ্ঞ কারিগর সম্পূর্ণ খাঁটি প্রাকৃতিক রেশম দিয়ে এই কিসওয়া তৈরি করেন। এরপর অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সোনা ও রুপার প্রলেপ দেওয়া সুতো দিয়ে চলে এর নান্দনিক এমব্রয়ডারির কাজ।
কিসওয়া পরিবর্তনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, পবিত্র মসজিদুল হারামের ভেতরে প্রস্তুতিও তত জোরালো হচ্ছে। নতুন কিসওয়ার বিভিন্ন অংশ এরই মধ্যে নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শেষ মুহূর্তের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। গিলাফের গায়ে থাকা এমব্রয়ডারি, ইসলামিক নকশা এবং পবিত্র কোরআনের আয়াতগুলো নিখুঁত আছে কি না, তা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দেখে নেওয়া হচ্ছে। আর এই পুরো গুরুদায়িত্ব পালনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয়েছে একটি বিশেষ কারিগরি ও প্রকৌশলী দলকে, যাদের কাজ হবে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই গিলাফ প্রতিস্থাপন করা।
মূল প্রক্রিয়াটি শুরু হবে কাবা শরিফের বর্তমান গিলাফে থাকা সোনার প্রলেপ দেওয়া অলঙ্করণ এবং এমব্রয়ডারি করা অংশগুলো সাবধানে খোলার মধ্য দিয়ে। এরপর পুরনো গিলাফটি একে একে নামিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চার কোণে নতুন কিসওয়া জুড়ে দেওয়া হবে। পুরো কাজটি করা হয় একটি নির্দিষ্ট ধারাবাহিকতা মেনে, যাতে কাবার চারপাশের প্রতিটি অংশ একেবারে নিখুঁত ও সমান্তরালভাবে বসে।
একই রাতে কাবা শরিফকে ঘিরে থাকা এমব্রয়ডারি করা বেল্ট বা হিজাম এবং কাবার দরজার ওপরের বিশেষ পর্দাটি লাগানো হবে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে সোনা ও রুপার কারুকাজ করা চমৎকার সব নকশা, যা কিসওয়ার সৌন্দর্যকে আরও ফুটিয়ে তোলে।
গিলাফ তৈরির এই পুরো কর্মযজ্ঞে সৌদি বিশেষজ্ঞদের অনবদ্য ভূমিকা এবং দক্ষতার বিষয়টি বারবার সামনে আসে। ঐতিহ্যবাহী ইসলামিক শিল্পকলাকে অক্ষুণ্ণ রেখে বুনন, এমব্রয়ডারি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে সৌদি আরব এখন এই শিল্পে বিশ্বমানের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।
কিসওয়া বা গিলাফ পরিবর্তনের এই পুরো বিষয়টি শুধু ধর্মীয় দিক থেকেই নয়, বরং মুসলিম সভ্যতার এক বিশাল ঐতিহ্য বহন করে। এটি প্রমাণ করে বিশ্ব মুসলিমের হৃদয়ে কাবা শরিফের স্থান কতটা উঁচুতে। একই সঙ্গে পবিত্র দুটি মসজিদের প্রতি সৌদি কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিনের সেবা, যত্ন এবং আন্তরিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এটি।
পহেলা মহররমের ভোরের আলো ফোটার আগেই কাবা শরিফ তার নতুন পোশাকে পুরোপুরি সেজে উঠবে, যা মুসলিম উম্মাহর জন্য নিয়ে আসবে এক নতুন হিজরি বছরের বারতা। যুগের পর যুগ ধরে চলে আসা এই ঐতিহ্য আজও বিশ্ববাসীর কাছে এক অনন্য ও আবেগঘন মুহূর্ত হিসেবে অম্লান হয়ে আছে।