মঙ্গলবার, ১৬ই জুন ২০২৬, ২রা আষাঢ় ১৪৩৩


বিশ্বকাপের সবচেয়ে মজলুম দল ইরান, বললেন ইরানের কোচ

খেলা ডেস্ক

প্রকাশিত:১৬ জুন ২০২৬, ১৬:৩৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করে যখন মাঠ ছাড়ছিল ইরান দল, তখন মাঠের লড়াইয়ের ক্লান্তি ভুলে খেলোয়াড়দের মাথায় চেপে বসে ভিন্ন এক চিন্তা। ম্যাচ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই তাঁদের নির্দেশ দেওয়া হয় তল্পিতল্পা গুটিয়ে দ্রুত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার। এমন চরম বৈরী এবং অপেশাদার আচরণের পর আর নিজের ক্ষোভ চেপে রাখতে পারেননি ইরানের প্রধান কোচ আমির ঘালিনোই। সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করে ইরানকে এবারের “বিশ্বকাপের সবচেয়ে মজলুম বা নিপীড়িত দল” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

পূর্বে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ইরান দলের ধারণা ছিল, ম্যাচের পর অন্তত মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত তারা লস অ্যাঞ্জেলেসের হোটেলে অবস্থান করতে পারবে। কিন্তু হঠাৎ করেই ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই তাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ কোচ আমির ঘালিনোই সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারা আমাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে দেরি করিয়েছে। এখন ম্যাচ শেষ হতে না হতেই খেলোয়াড়দের রিকভারি (ক্লান্তি দূর করার বিশ্রাম) করার সময়টুকু না দিয়েই জোর করে দ্রুত মেক্সিকোতে ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছে।’

হঠাৎ এই প্রস্থান সূচি পরিবর্তনের কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা মার্কিন প্রশাসন বা ফিফার পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি উল্লেখ করে কোচ আরও বলেন, “তারা আমাদের পরিস্থিতি দিন দিন আরও কঠিন করে তুলছে, আমাদের সামনে আরও বেশি বাধা তৈরি করছে। কিন্তু এসব কোনো কিছুই আমাদের নিজেদের সেরাটা দেওয়া থেকে বিরত রাখতে পারবে না।”

দলের সাথে করা এমন আচরণকে সরাসরি “বিপর্যয়” বলে উল্লেখ করেছেন ইরানের পোস্টার বয় ও তারকা স্ট্রাইকার মেহেদি তারেমী। ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি ফিফার ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন, ‘এটি খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং দলের সাথে থাকা প্রত্যেকের জন্য চরম মানসিক চাপ। আমাদের পাশে কোনো সমর্থন নেই। আমার মনে হয়, এই পরিস্থিতিতে ফিফার উচিত আমাদের আরও অনেক বেশি সাহায্য ও সহযোগিতা করা।’

অবাক করার বিষয় হলো, ম্যাচটি শুরু হওয়ার মাত্র এক দিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধের একটি ঐতিহাসিক ‘স্থায়ী শান্তি চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়। তবে এই কূটনৈতিক বরফ গলার সুফল মাঠের ফুটবলে বা ইরান দলের লজিস্টিক সাপোর্টে একটুও পড়েনি।

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর ভিসা নীতির কারণে ইরান তাদের পূর্বপরিকল্পিত অ্যারিজোনার টুকসন ক্যাম্প বাতিল করে একদম শেষ মুহূর্তে মেক্সিকোর টিজুয়ানাতে বেস ক্যাম্প করতে বাধ্য হয়েছিল। এখন গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোর (২২ জুন বেলজিয়াম এবং ২৭ জুন মিশর) জন্যও ইরান দলকে একইভাবে মেক্সিকো থেকে ‘ফ্লাই-ইন, ফ্লাই-আউট’ করে ম্যাচ খেলতে আসতে হবে।

মাঠের বাইরে একের পর এক এই মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে যেভাবে ২-২ গোলে লড়াই করে ইরান পয়েন্ট ছিনিয়ে এনেছে, তা ফুটবল মহলে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে। তবে খোদ ফিফার নাকের ডগায় একটি দলের সাথে এমন আচরণ বিশ্বকাপের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়