শুক্রবার, ৮ই মে ২০২৬, ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
আজ ২৫ বৈশাখ (৮ মে)। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে কবির স্মৃতিবিজড়িত কুষ্টিয়ার শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে ৩ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে কুঠিবাড়ির মূলমঞ্চে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগিতায় তিন দিনব্যাপী উৎসবের আয়োজন করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন, কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাংসদ সদস্য আফজাল হোসেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, রবীন্দ্র কুঠিবাড়িকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এ বিষয়ে যৌথভাবে সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা হচ্ছে। কুঠিবাড়ি বাংলাদেশে সংস্কৃতিতে অনন্য জায়গা দখল করে আছে।
তিনি আরও বলেন, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অন্তর্ভুক্ত যতদর্শনীয় জায়গা আছে, সেসব স্থানগুলোকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বর্তমান সরকার কাজ করছে। পরে বিশ্বকবি রচিত জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়।
এদিকে তিনদিনের এই জন্ম উৎসবকে ঘিরে রবীন্দ্রপ্রেমী ও দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর এখন কুঠিবাড়ি প্রাঙ্গণ। এবারের আয়োজনকে ঘিরে তাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানমালার মধ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিতা আবৃতি ও নৃত্য পরিবেশনা করা হয়। আর এই উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে কয়েকস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন।
জমিদারি আর ব্যবসার প্রয়োজনে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বার বার ফিরে আসতেন শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে। পদ্মার তীরের এই নিভৃত জনপদেই কেটেছে তার জীবনের বহু গুরুত্বপূর্ণ সময়। এখানেই রচিত হয়েছে ‘গীতাঞ্জলি’সহ অসংখ্য কালজয়ী সাহিত্যকর্ম। সাহিত্যজগতে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যের জন্য তিনি অর্জন করেন নোবেল পুরস্কার। শুধু তাই নয়, শিলাইদহে অবস্থানকালেই তিনি রচনা করেন বহু গান, কবিতা ও গল্প। আজও কুঠিবাড়ির প্রতিটি কোণে সংরক্ষিত আছে কবিগুরুর স্মৃতিচিহ্ন। ব্যবহৃত আসবাব, লেখার টেবিল, নৌভ্রমণের স্মৃতি আর বসতঘর যেন এখনও বহন করে তার সৃষ্টিশীল সময়ের সাক্ষ্য।
দর্শনার্থীদের সুযোগ সুবিধাসহ কুঠিবাড়িতে উৎসবের তিনদিনই উন্মুক্ত থাকবে ঠাকুরের কুঠিবাড়ি। মঞ্চে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে তুলে ধরা হবে কবির কর্মময় জীবনী। গবেষক ভক্ত অনুরাগীদের মিলন মেলায় পরিণত হবে ঠাকুর বাড়ি, আশা আয়োজকদের।
রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, দর্শন ও মানবিক চেতনার আলো আজও ধারণ করেই প্রতি বছরের মতো এবারও কুষ্টিয়ার শিলাইদহে পালিত হতে যাচ্ছে বিশ্বকবির জন্মবার্ষিকী।