মঙ্গলবার, ২রা জুন ২০২৬, ১৯শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন আরিফুল ইসলাম (৩০)। দীর্ঘ ১১ বছর পর দেশে ফিরছিলেন। বিমানবন্দরে নেমে গ্রামের বাড়ি ফেরার পাশাপাশি ঈদ আনন্দে মেতেছিল পুরো পরিবার। কিন্তু সেই ফেরা আর পূর্ণতা পেল না। বাড়িতে পৌঁছানোর আগেই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মা, ভাই ও বোনকে নিয়ে চিরবিদায় নিলেন তিনি।
আরিফুল ইসলাম যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে। আরিফুলের পাশাপাশি এ ঘটনায় নিহতরা হলেন- আরিফুলের মা নুরজাহান বেগম, বোন আয়েশা আক্তার (৩২) ও ছোট ভাই রাকিবুল ইসলাম (১৮)। একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান প্রাইভেটকারের চালক জাহিদ হোসেন। তিনি পার্শ্ববর্তী মনিরামপুর উপজেলার গৌরপুর গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন আরিফুলের বোনের মেয়ে মোছা. তাসফিয়া (৩) ও ছেলে মো. হুসাইন (৬)।
ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে সংঘটিত ওই দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্না আর প্রতিবেশীদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
এলাকাবাসী জানায়, এ পরিবারের শুধুমাত্র একজনই বেঁচে আছেন। তিনি হলেন- আরিফুলের বাবা শহিদুল ইসলাম। আরিফুলের বিয়ের জন্য আগামীকাল মেয়ে দেখতে যাওয়ার কথা ছিল পরিবারের। তবে সে সবই এখন যেন বেদনাস্মৃতি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় এক দশক ধরে মালয়েশিয়ায় ছিলেন আরিফুল ইসলাম। গতকাল দিবাগত রাতে তিনি দেশে ফেরেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নিয়ে যশোরের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। পথে ভোরে ভাঙ্গার মালিগ্রাম এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তাদের বহনকারী প্রাইভেটকার।
বাঁকড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিস-উর রহমান বলেন, আরিফুলের মা নুরজাহান বেগম সংরক্ষিত ইউপি সদস্য পদে নির্বাচন করায় এলাকায় বেশ পরিচিত ছিলেন। সড়ক দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে খোশালনগর-বালিয়াডাঙ্গা গ্রাম শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। এই পরিবারে এখন মাত্র একটি সদস্য বেঁচে আছেন। তিনি হলেন- আরিফুলের বাবা শহিদুল ইসলাম।