রবিবার, ১৪ই জুন ২০২৬, ৩০শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক ১২ জনকে পুশইনের ঘটনায় বিজিবি-বিএসএফ পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে পতাকা বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
শনিবার (১৩ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় দৌলতপুরের বিলগাথুয়া ১৫০/৩ এস সাব পিলার সংলগ্ন এলাকায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। ২০ মিনিট ধরে চলা বৈঠকটি সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়।
বৈঠকে বিজিবির পক্ষে কুষ্টিয়া বিজিবি ৪৭ ব্যাটেলিয়ানের সহকারী পরিচালক নুরুল হুদার নেতৃত্বে ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল ও বিএসএফের পক্ষে রাণীনগর ক্যাম্পের এসি সুনীল কুমার যাদবের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।
বিজিবি একটি সূত্র জানায়, আনুষ্ঠানিক এ বৈঠকে বিএসএফ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের প্রাগপুর সীমান্ত দিয়ে ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের অভিযোগ অস্বীকার করে শূন্যরেখায় অবস্থানরত ১২ জনকে নিজেদের হেফাজতে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এ অবস্থায় বিজিবি প্রতিবাদ জানালে বিএসএফ বিষয়টি সময় চেয়ে তদন্ত করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানাতে চায়। ফলে আপাতত ওই ১২ জনকে শূন্যরেখায় অবস্থান করতে হচ্ছে।
বর্তমানে আনুষ্ঠানিক এ বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় প্রাগপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় ১৪৮/৩-এস সীমান্ত পিলারের ভারতের অভ্যন্তরে ৫০ গজ ভেতরে পুশইনের শিকার ১২ জন অত্যন্ত মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। এদের মধ্যে রয়েছে ৪ জন নারী, ৪ জন পুরুষ ও ৪ শিশু রয়েছে।
কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, বিএসএফ তাদের পুশইন করেছে। এটা অবৈধ অনুপ্রবেশ। আমরা কোনোভাবে এটা সমর্থন করি না। আমাদের একটাই কথা, যারা অবৈধ অনুপ্রবেশ করেছে তাদের বিএসএফকে দেশে ফিরিয়ে নিতে হবে।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার (১২ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বিলগাথুয়া সীমান্ত দিয়ে পুশইন করে বিএসএফ। এ সময় টহলরত বিজিবি সদস্যরা টের পেয়ে তাদেরকে পুনরায় ভারত সীমান্তে ফেরত পাঠায়। তখন থেকেই সীমান্তের শূন্যরেখায় ১৪৮/৩-এস সীমান্ত পিলারের ভারতের অভ্যন্তরে ৫০ গজ ভেতরে পাটক্ষেতের মধ্যে পুশইনের শিকার ১২ জন অত্যন্ত মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। এদের মধ্যে রয়েছে ৪ জন নারী, ৪ জন পুরুষ ও ৪ শিশু রয়েছে । বর্তমানে সীমান্তে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।