রবিবার, ১৪ই জুন ২০২৬, ৩০শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফনের তারিখ ঘোষণা করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (১১ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানসূচি এবং দাফনের বিবরণ প্রকাশ করেছে।
এতে বলা হয়, আগামী ৪ জুলাই রাজধানী তেহরানে প্রথম জানাজা ও তিন দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। পরে ৭ জুলাই দেশটির পবিত্র শহর কোমে আরেকটি জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদন এবং শোক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
পরবর্তীতে ৯ জুলাই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জন্ম স্থান এবং শিয়া মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র শহর মাশহাদে আরেক দফা জানাজার পর ইমাম রেজার মাজারে তাকে সমাহিত করা হবে। সেখানেই তার বাবার কবরও রয়েছে।
এর আগে ইরানের সরকার জানিয়েছিল, ইসলামী বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররমের প্রথম ১০ দিনের মধ্যে তিন দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠান আয়োজন করার পরিকল্পনা করেছিল, যা চলতি জুন মাসের মাঝামাঝি সময়।
তবে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) তেহরানের মেয়র আলীরেজা জাকানি জানান, ইরানিদের ইমাম হোসেন (রা.)-এর স্মরণে পবিত্র আশুরার ধর্মীয় রীতি পালনের সুযোগ দিতে রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠানটি মহররমের প্রথম ১০ দিন পর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথমদিনে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার নিহত হন প্রায় ৩৬ বছর ইরানের নেতৃত্ব দেওয়া আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। একই হামলায় নিহত হন তার পরিবারের আরও অনেক সদস্য। এছাড়াও তার পুত্র ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিও এই হামলায় আহত হন।
মূলত, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা আয়োজনের প্রক্রিয়াটি বারবার পিছিয়ে যায়। এর আগে এপ্রিল মাসে তার স্মরণে একটি সংক্ষিপ্ত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হলেও তা পূর্ণাঙ্গ জানাজা ছিল না।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, একটি জমকালো অনুষ্ঠান আয়োজনে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা সার্বিক নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রায় ২ কোটি মানুষের সমাগম ঘটবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।