মঙ্গলবার, ৩০শে জুন ২০২৬, ১৬ই আষাঢ় ১৪৩৩


তিস্তায় কমছে পানি বাড়ছে ভাঙন, ঝুঁকিতে সেতু রক্ষা বাঁধ ও সড়ক

রংপুর থেকে

প্রকাশিত:৩০ জুন ২০২৬, ১১:৪১

ছবি ‍: সংগৃহীত

ছবি ‍: সংগৃহীত

তিস্তার পানি কমতে শুরু করলেও দুর্ভোগ কমেনি। নদী তীরবর্তী কয়েক হাজার পরিবার এখনো পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা। পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আবারও পানি বাড়ার শঙ্কা থাকায় উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন তিস্তা তীরবর্তী চরাঞ্চলের বাসিন্দারা।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ৬টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫১ দশমিক ৮৫ মিটার, যা বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গত ১২ ঘণ্টায় এ পয়েন্টে পানি ১৩ সেন্টিমিটার কমেছে। এখানে বিপৎসীমা ধরা হয় ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। একই সময়ে কাউনিয়া তিস্তা সেতু পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

এর আগে গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার দুই সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। একই সময়ে ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে পানি কমে বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

এদিকে, হঠাৎ তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা সেতু রক্ষাবাঁধ ও ডানতীর সংরক্ষণে নির্মিত গ্রোয়েন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি কোলকোন্দ ও লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে বেশ কয়েকটি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তলিয়ে গেছে পাট, চিনাবাদাম ও আমনের বীজতলা।

চলতি মৌসুমে গত ২৩ জুন প্রথমবারের মতো তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে পরদিনই তা বিপৎসীমার নিচে নেমে আসে। এরপর ২৯ জুন সন্ধ্যায় আবারও পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে।

গঙ্গাচড়ায় পানিবন্দি ৪ হাজার পরিবার

তিস্তা নদীর পানি কখনো বাড়ছে আবার কমছে। এ পরিস্থিতিতে গঙ্গাচড়া উপজেলার নিম্নাঞ্চলে নদীর কোলঘেষা অন্তত ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে মহিপুর এলাকায় দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু রক্ষা বাঁধে নতুন করে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে।

উপজেলার কোলকোন্দ, আলমবিদিতর, নোহালী, সদর, লক্ষ্মীটারী ও মর্ণেয়া ইউনিয়নের অন্তত ২০টির বেশি গ্রামের নিম্নাঞ্চল পানি ঢুকে পড়েছে। এতে করে বাগডহরা, মিনারবাজার, আনন্দবাজার, বিনবিনা, চর মটুকপুর, চিলাখাল, বাগেরহাট, চর শংকরদহ, কাশিয়াবাড়ী, ইচলি ও চর ছালাপাকসহ বিভিন্ন এলাকার শত শত বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গ্রামীণ সড়ক ও ফসলি জমি এখন হাঁটু পানির নিচে। আমন ধানের বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাসহ গবাদি পশু খাদ্যের সংকট, বিশুদ্ধ খাওয়ার পানিসহ খাদ্য সংকটে পড়েছে এসব এলাকার মানুষ।

সেতু রক্ষা বাঁধের ১৫০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন

গত বছর ভাঙনের পর স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করে অস্থায়ীভাবে বাঁশের পাইলিং (স্পার) নির্মাণ করা হয়। যা কার্যকর না হওয়ায় সরকারের ১৪ লক্ষ টাকা গচ্ছায় গেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, বাঁশের পাইলিং বসানোর ছয় মাসও হয়নি। চলতি বর্ষা মৌসুমের প্রথম ধাপেই পানির চাপ ও তীব্র স্রোতের মুখে বাঁশের পাইলিংয়ে ধসে গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, ইতোমধ্যে প্রায় ১৫০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু, রংপুর–কাকিনা আঞ্চলিক সড়ক এবং আশপাশের কয়েক হাজার মানুষের বসতভিটা ঝুঁকিতে পড়েছে।

চর শংকরদহ গ্রামের কৃষক আব্দুল হালিম বলেন, রাতারাতি পানি বাড়ল, ঘরবাড়ি ডুবে গেল। এখন পানি কিছুটা নামছে, কিন্তু নদী ভাঙনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা গৃহবধূ রহিমা বেগম বলেন, বাড়িতে পানি উঠেছে। শিশু আর গবাদিপশু নিয়ে খুব কষ্টে আছি। এখনো কোনো ত্রাণ পাইনি।

কোলকোন্দ এলাকার কৃষক সালাম উদ্দিন বলেন, দেড় একর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। গবাদিপশুর খাদ্য নিয়েও সংকটে আছি। ধান বীজতলা নষ্ট হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

একই অবস্থা কাউনিয়া উপজেলা তিস্তা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের গ্রামগুলোতে। সেখানকার পাঞ্চরভাঙ্গা গ্রামের আরমান বলেন, কয়েক দিন ধরে পানি বাড়া-কমা করছিল। পানি বেশি হলে তো সমস্যা। স্ত্রী-সন্তান ও গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি নিয়েও উচুঁ স্থানে আশ্রয় নিতে হবে।

সেতুর সংযোগ সড়কে গর্ত ও ফাটল সৃষ্টি

গঙ্গাচড়া উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা মহিপুরে নির্মিত দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু। কিন্তু বিগত সময়ের মতো এবারো বর্ষা মৌসুমে এই সেতুর সংযোগ সড়কের বিভিন্ন অংশে ধস দেখা দিয়েছে। সড়কের একাধিক স্থানে বড় বড় গর্ত ও ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন যাত্রী, পথচারী ও বিভিন্ন যানবাহন।

জানা যায়, দ্বিতীয় তিস্তা সেতুটি রংপুর-লালমনিরহাটের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজীকরণের অন্যতম মাধ্যম। এই সেতুটি রংপুরের বুড়িরহাট ও মহিপুর হয়ে লালমনিরহাটের কাকিনা, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম ও তুষভাণ্ডার অতিক্রম করে বুড়িমারী স্থলবন্দর পর্যন্ত সংযোগ তৈরি করেছে। আঞ্চলিক ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর উত্তরপ্রান্তে সংযোগ সড়কের অন্তত ১৫টি স্থানে ধস ও বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও পিচ উঠে গিয়ে সড়ক দেবে গেছে। এতে ভারি যানবাহনের পাশাপাশি ছোট যান ও মোটরসাইকেল চালকদের জন্যও চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সেতু সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর মিয়া বলেন, কয়েকদিনের বৃষ্টির পর হঠাৎ করেই রাস্তার কয়েক জায়গা দেবে যেতে শুরু করে। এখন বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন এত মানুষ চলাচল করে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

পথচারী মাহমুদ মিয়া বলেন, সড়কটির অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। কয়েক জায়গায় ধসে গেছে। আরও বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, ধসের বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্টদের পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। মেরামত কাজ শুরুর প্রস্তুতি চলছে।

ভেঙে যাচ্ছে স্বেচ্ছাশ্রমের বাঁধ

উপজেলার বড়াইবাড়ি খেয়াঘাট থেকে নদীর ওপারে তাকালেই দেখা যায় মাটির দীর্ঘ বাঁধ। তবে সরকারি কোনো প্রকল্প নয়, ঠিকাদারের নির্মাণও নয়। দিনমজুর, কৃষক, জেলে আর চরবাসীর শ্রমে গড়ে ওঠা এ বাঁধ তিন বছর ধরে পাঁচটি গ্রামের মানুষের বেঁচে থাকার শেষ ভরসা। কিন্তু উজানের ঢল আর তিস্তার পানি বাড়া-কমার সঙ্গে সেই বাঁধের বিভিন্ন অংশে এখন দেখা দিয়েছে ভাঙন। ফলে ১২ হাজার পরিবারের মধ্যে নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে উৎকণ্ঠা।

স্থানীয়রা বলছেন, তিন বছর আগে বন্যায় বাগডোহরা চরের নিচাপাড়ার তিন শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যায় তিস্তায়। সে সময় বারবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে গেলেও নেয়নি কার্যকর কোনো উদ্যোগ। শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা না করে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেন বাঁধ নির্মাণের। চাঁদা তোলা হয় গ্রামের মানুষের কাছ থেকে। কেউ টাকা দিয়েছেন, কেউ শ্রম। দিনের কাজ শেষে রাতভর মাটি কেটেছেন অনেকে।

বৈরাতি থেকে বাগডোহরা মিনার বাজার পর্যন্ত নির্মাণ করা হয় প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বাঁধ। পরে উজানে চরনোহালী এলাকায় গড়ে তোলা হয় আরও প্রায় দুই কিলোমিটার সহায়ক বাঁধ। গত বছরের বন্যায় দুই শতাধিক একর কৃষিজমি নদীতে চলে গেলেও এই বাঁধের কারণে রক্ষা পেয়েছিল ঘরবাড়ি। আশঙ্কা করা হচ্ছে, সহায়ক বাঁধটি টিকতে না পারলে থাকবে না মূল বাঁধও। ইতোমধ্যে ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধে ২০০ ব্যাগ জিও ব্যাগ ফেলেছে।

ভাঙনরোধে সময়মতো ফেলা হয়নি জিও ব্যাগ

গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদী বলেন, চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে পানিবন্দি মানুষের পাশে দ্রুত সহায়তা পৌঁছানো এবং নদী ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। আমরা খোঁজখবর রাখছি এবং প্রশাসনকে সবকিছু অবগত করতেছি।

তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয় তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে যখন প্রথম ভাঙন শুরু হয়েছিল, তখন সময়মতো অল্প কিছু জিও ব্যাগ ফেললেও পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হতো না। গত বছর থেকেই বরাদ্দের কথা শুনে আসছি, কিন্তু কোনো বরাদ্দ আসেনি। পরে বিশেষজ্ঞের পরামর্শে বাঁশের পাইলিং করা হলেও পানির বৃদ্ধির শুরুতেই প্রথম চাপেই সেটি ভেঙে গেছে। এতে প্রায় ১৪ লাখ টাকার কাজ ধ্বংস হয়ে গেছে।

কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনছার আলী জানান, উজানের ঢলে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে তার ইউনিয়নের নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোতে বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, পানি বৃদ্ধির ফলে একদিকে নদীপাড়ের মানুষরা নির্ঘুম রাত কাটায়। অন্যদিকে পানি কমে যাওয়ার পর নদী ভাঙন দেখা দিবে।

একই কথা জানান টেপামধুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, দিনের বেলায় পানি বৃদ্ধি পেলে তীরবর্তী এলাকায় সমস্যা কম হয়। কিন্তু রাতের বেলায় পানি বৃদ্ধি পেরে নদীপাড়ের মানুষের কষ্টের শেষ থাকে না। এছাড়া সৃষ্ঠ বন্যায় নদী তীরবর্তী আবাদি জমিগুলো তলিয়ে বাদামসহ বিভিন্ন শাক-সবজি ক্ষেতের ক্ষতি হবে।

ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করছে প্রশাসন

স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন, শুধু দ্রুত ত্রাণ বিতরণ নয়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন এবং তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা জরুরি।

এ ব্যাপারে উপজেলা ত্রাণ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সজিবুল করীম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে এবং দ্রুত সহায়তা কার্যক্রম শুরু করা হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হুসেন জানান, প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ২০ হেক্টর আমন ধান, ১ হেক্টর মাসকলাই, ২ হেক্টর বীজবাদাম ও আধা হেক্টর সবজির জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে।

সরকারিভাবে বন্যা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা জানান, উজানে ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে চরঢুষমারা গ্রামের কিছু অংশে পানি ঢুকে পড়েছে। ওই গ্রামের নদীর তীরবর্তী কিছু অংশে ভাঙনও দেখা দিয়েছি। পানি বৃদ্ধির ফলে যেন বন্যার কেউ ক্ষতিগ্রস্থ না হয়, সেজন্য জনপ্রতিনিধিদের নদীপাড়ের খোঁজখবর নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারিভাবে সকল ধরনের আগাম প্রস্তুতি নেয়া আছে।

রংপুর অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, দেশের অভ্যন্তরে রংপুর বিভাগ ও এর উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে আরও দুদিন ভারী থেকে অতিভারী এবং পরবর্তী তিনদিন মাঝারী ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, তিস্তা নদীর পানি আগামী তিন দিন বৃদ্ধিসহ বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। বন্যা সংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়