শনিবার, ৩রা ডিসেম্বর ২০২২, ১৯শে অগ্রহায়ণ ১৪২৯


চড়া ডিমের দাম, অস্বস্তিতে ক্রেতারা


প্রকাশিত:
১ অক্টোবর ২০২২ ১৭:৫৭

আপডেট:
৩ ডিসেম্বর ২০২২ ০৯:৪৪

ছবি সংগৃহীত

ডিম সাশ্রয়ী দামে প্রোটিনের অন্যতম বড় উৎস। কিন্তু সেই প্রোটিনের উৎস প্রায় হাতের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষকে বেশি ভোগাচ্ছে তা। গত আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে প্রতি ডজন ডিমের দাম ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায় গিয়ে দাঁড়ায়। এরপর তৎপর হয় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বিভিন্ন আড়ত ও বাজারে অভিযান চালিয়ে একাধিক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করে। সংস্থাটির অভিযানে ডিমের ডজন ১১৫-১২০ টাকায় নেমে আসে।

সেই সময় অভিযোগ ওঠে কারসাজি করে ডিমের বাজার থেকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বাড়তি মুনাফা করেছে কিছু অসাধু প্রতিষ্ঠান। ডিমের বাজার কিছুদিন স্থিতিশীল থাকলেও সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে আবারও অস্থিতিশীল হতে শুরু করেছে বাজার। পর্যাপ্ত জোগান থাকলেও প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়। আর প্রতি পিস ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩ থেকে ১৪ টাকায়।

মিরপুরের মুসলিম বাজারের ডিম ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান বাচ্চু জানান, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহের আগে ডিমের ডজন ছিল ১৩৫ টাকা। ২৩ তারিখের পর সেটা আবার ১০ টাকা বেড়ে যায়। এখন কিছুদিন ধরে ১৪৫ টাকা আছে। কখন যে আবার দাম বাড়ে বলা যাচ্ছে না। প্রতি পিস ডিম বিক্রি করছেন ১৩ টাকায়। তবে ডজনে কিনলে ক্রেতারা ১১ টাকা কমে কিনতে পারেন।

শনিবার (১ অক্টোবর) মিরপুরের একাধিক বাজারের চিত্র, মুরগির ডিমের মতই চড়া হাঁসের ডিম। প্রতি ডজন হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায়। আর কোয়েল পাখির ডিম ডজন প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৫ টাকায়। অন্যদিকে ভাঙা ডিম বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস ১০ থেকে ১২ টাকায়।

এদিন মিরপুরের শেওড়াপাড়ার আলিম স্টোরে ডিম কিনতে আসেন নিরোধ চন্দ্র সাহা। এক ডজন ডিমের দাম ১৪৫ টাকা শোনার পর তিনি বিক্রেতাকে দাম কমানোর অনুরোধ করেন। তবে বিক্রেতা সীমিত লাভের কথা উল্লেখ করে দাম কমাননি।

তিনি জানান, অভিযান পরিচালনা করলে যদি ডিমের দাম কমে, তাহলে আবার অভিযান শুরু করা প্রয়োজন।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, একটি ডিমের দাম ১৩ টাকা কোনোভাবেই হতে পারে না। এই দাম অস্বাভাবিক। একটা ডিমের উৎপাদন খরচ ৫-৬ টাকা হলে উৎপাদনকারী সর্বোচ্চ ৮ টাকায় বিক্রি করতে পারেন। সরবরাহ একটু কমে গেলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী, ফার্মের মালিক, হ্যাচারি মালিক নানা ষড়যন্ত্র করে ডিমের দাম বাড়িয়ে দেন।

বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন হাওলাদার জানান, খামারিরা ১২ মাসই লস দিচ্ছেন। যখন কোম্পানির প্রচুর ডিম উৎপাদন হয় তখন তারা কম রেটে বিক্রি করেন। যেহেতু তার উৎপাদন খরচ কম। আর যখন উৎপাদন কমে যায় তখন কোম্পানি দাম বাড়িয়ে দেয়। সবাই এখন কোম্পানির দাম ফলো করে। সেই দামেই চলে। গত আগস্টে অভিযানের কারণে কোম্পানি দাম কমায়। কিন্তু দেখা যায়, খামারির উৎপাদন খরচ ৯ টাকা কিন্তু তাদের বিক্রি করতে হচ্ছে ৮ টাকায়। কোম্পানি একদিকে ডিমের দাম কমায়, অন্যদিকে মুরগির খাবারের দাম বাড়িয়ে দেয়। কোম্পানি এখন আবার ডিমের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

তবে ডিমের সিন্ডিকেট ভাঙতে খামারিরা প্রচলিত বাজার ব্যবস্থা ভাঙার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন এই ব্যবসায়ী। তারা অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে সপ্তাহ খানেকের ভেতরে ঢাকায় ডিমের একটি পাইকারি মার্কেট খুলছেন। যেখানে সারাদেশের খামারিদের পণ্য বিক্রি করা যাবে সরাসরি। সেখান থেকে ভোক্তা ও পাইকাররা ডিম, মুরগী কিনতে পারবেন। এখানে প্রফিট খুব কম হবে, কোনো কমিশন থাকবে না। উৎপাদন খরচের সঙ্গে শুধুমাত্র পরিবহন খরচ যোগ হবে। এখান থেকে অন্য বাজারেও পণ্য দেয়া যাবে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১১ তলা) ৫১-৫১/এ, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৭১১-৯৫০৫৬২, ০১৯১২-১৬৩৮২২
ইমেইল : editordailymail@gmail.com, newsroom.dailymail@gmail.com
সম্পাদক: মো. জেহাদ হোসেন চৌধুরী

রংধনু মিডিয়া লিমিটেড এর একটি প্রতিষ্ঠান।

Developed with by
Top