আশুলিয়ায় ৬ লাশ পোড়ানোর মামলার রায় ৫ ফেব্রুয়ারি
প্রকাশিত:
১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:৩০
আপডেট:
১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:২৯
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোর ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা করা হবে ৫ ফেব্রুয়ারি।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায়ের জন্য এই দিন নির্ধারণ করেন।
প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এর আগে গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে।
মামলাটিতে মোট ১৬ জন আসামি রয়েছেন। তাদের মধ্যে আটজন গ্রেফতার হয়েছেন। পলাতক আছেন আরও আটজন।
গ্রেফতাররা হলেন- ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, ঢাকা জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, আবজাল ও কনস্টেবল মুকুল। তবে সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) সাইফুলসহ আটজন এখনো পলাতক।
আসামিদের মধ্যে শেখ আবজালুল হক রাজসাক্ষী হয়ে শহীদদের পরিবারসহ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে জবানবন্দি দেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীদের ওপর হামলা করেছিল পুলিশ ও আওয়ামী নেতাকর্মীরা। এ সময় বেশ কয়েকজন নিহত হন। আহত হয় আরও অনেকে। রাতে আশুলিয়া থানার অদূরে নবীনগর থেকে চন্দ্রাগামী মহাসড়কের এক পাশে ‘পুলিশ’ লেখা পিকআপ ভ্যানের আগুনে ভস্মীভূত অন্তত দুটি লাশ দেখেন পথচারীরা। এছাড়া থানার সামনে অগ্নিদগ্ধ আরেকটি লাশ ছিল। পদচারী সেতুতে উল্টো করে ঝোলানো ছিল ক্ষত-বিক্ষত দুই পুলিশ সদস্যের লাশ। তখন স্থানীয় লোকজন আগুনে ভস্মীভূত একাধিক লাশ পিকআপভ্যানে থাকতে পারে বলে ধারণা করেছিলেন।
এ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়। গত বছরের ২১ আগস্ট এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। ওই সময় উপস্থিত আট আসামির সাতজনই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তবে দোষ স্বীকার করেন এসআই শেখ আবজালুল হক। একইসঙ্গে রাজসাক্ষী হয়ে জবানবন্দিও দিয়েছেন তিনি।
একই বছরের ২ জুলাই প্রসিকিউশনের জমা দেওয়া ফরমাল চার্জ আমলে নেন আদালত। আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সঙ্গে অন্যান্য তথ্যসূত্র হিসেবে ৩১৩ পৃষ্ঠা, সাক্ষী ৬২, দালিলিক প্রমাণাদি ১৬৮ পৃষ্ঠা ও দুটি পেনড্রাইভ যুক্ত করে প্রসিকিউশন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: