বুধবার, ১লা জুলাই ২০২৬, ১৭ই আষাঢ় ১৪৩৩
ফাইল ছবি
মাঠের সবুজ ঘাসে ফুটবল পায়ে ভেলকি দেখানোর পর এবার নিউইয়র্কের বহুতল ভবনের ফাঁকে স্পাইডারম্যানকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন লিওনেল মেসি! ফুটবল বিশ্বের এই জীবন্ত কিংবদন্তি, যাকে ভক্তরা ভালোবেসে ‘গোট’ বলে ডাকেন, এবার নিজেই হাজির হয়েছেন মার্ভেলের দুনিয়ায়। সনি পিকচার্স এন্টারটেইনমেন্টের প্রকাশ করা মাত্র ৪০ সেকেন্ডের একটি প্রোমোশনাল ভিডিওতে দেখা গেছে এই অবিশ্বাস্য দৃশ্য।
ভিডিওর শুরুতে দেখা যায়, টম হল্যান্ডের চরিত্র ‘পিটার পার্কার’ একটি কফি শপে বসে ফোনে নিজের জীবনের নানা সমস্যা নিয়ে কথা বলছেন। ঠিক তখনই নিজের ফোনের জিপিএস ট্র্যাকার ধরে সেই কফি শপে প্রবেশ করেন লিওনেল মেসি। মূলত ‘স্পাইডি’কে খুঁজতেই সেখানে যান তিনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই পিটার পার্কার তার চেনা স্পাইডারম্যানের পোশাকে হাজির হন। আর ভিডিওর একদম শেষ দৃশ্যে দেখা যায়, নিউইয়র্কের আকাশ চিরে স্পাইডারম্যানের সাথে জাল ধরে দুলছেন স্বয়ং মেসি!
আসন্ন ৩০ জুলাই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে মার্ভেল ইউনিভার্সের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। ছবিটির প্রচারণার অংশ হিসেবেই এই বিশেষ প্রমো তৈরি করা হয়েছে। মার্ভেল তাদের সিনেমায় বিভিন্ন ইস্টার এগ বা গোপন ইঙ্গিত লুকাতে ভালোবাসে।
ছবিতে মেসির হাতের সেই ‘স্পাইডি ট্র্যাকার’ সিনেমা মহাবিশ্বে নতুন হলেও কমিকসপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত। ১৯৬৪ সালের ‘দ্য অ্যামেজিং স্পাইডার-ম্যান’ কমিকসে পিটার পার্কার নিজেই এই ট্র্যাকারটি তৈরি করেছিলেন, যা তার ওয়েব-শুটারের সাথে যুক্ত থাকত। কমিকসে ডক্টর অক্টোপাসের অবস্থান শনাক্ত করতে প্রথম এটি ব্যবহার করা হয়েছিল।
মেসির হাতের সেই ট্র্যাকারের স্ক্রিনে খেয়াল করে ভক্তরা আরও একটি বড় চমক আবিষ্কার করেছেন। সেখানে একের বেশি লাল বিন্দু দেখা গেছে, যা ইঙ্গিত করছে যে মাল্টিভার্স বা অন্য কোনো সমান্তরাল মহাবিশ্ব থেকে আরও স্পাইডারম্যান এই সিনেমায় যুক্ত হতে পারেন। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। এর আগে ২০২১ সালের ‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’ সিনেমায় টোবি ম্যাগুইয়ার, অ্যান্ড্রু গারফিল্ড এবং টম হল্যান্ডকে একসাথে দেখা গিয়েছিল।
‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সিনেমার গল্পটি মূলত ‘নো ওয়ে হোম’-এরপর থেকে শুরু হবে। যেখানে পুরো পৃথিবী ভুলে গেছে যে পিটার পার্কারই আসলে স্পাইডারম্যান। এমনকি তার আপনজনরাও তাকে আর চিনতে পারছে না। একাকী পিটারের এই নতুন মিশনে এবার নিউইয়র্ক শহরকে এক অদৃশ্য শত্রুর হাত থেকে বাঁচাতে তার সাথে যোগ দেবেন ‘দ্য পানিশার’ এবং ‘হাল্ক’। আর সিনেমার প্রমোশনে ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির এই উপস্থিতি অবমুক্ত হতেই বিশ্বজুড়ে সিনেমাপ্রেমী ও ফুটবল ভক্তদের মাঝে উন্মাদনা এখন তুঙ্গে।