বুধবার, ২০শে মে ২০২৬, ৬ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


জনসংখ্যার ২০ শতাংশ মানুষ থাইরয়েডজনিত রোগে আক্রান্ত

স্বাস্থ্য ডেস্ক

প্রকাশিত:২০ মে ২০২৬, ১২:১১

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

দেশে জনসংখ্যার প্রায় ২০ ভাগ মানুষ থাইরয়েড গ্রন্থির নানা রোগে ভুগছেন। প্রতি ৭ জন রোগীর মধ্যে ৫ জনই নারী। আক্রান্তদের ৬০ শতাংশ চিকিৎসা সেবার আওতার বাইরে। আর প্রতি ২ হাজার ৩০০ শিশুর মধ্যে ১ জন জন্মগত থাইরয়েড সমস্যায় ভোগে।

বিশ্ব থাইরয়েড দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৯ মে) বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির (বিএমইউ) ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসের (নিনমাস) কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

থাইরয়েড গ্রন্থির নানা রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, রোগ নির্ণয় ও আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে জনমনে ইতিবাচক ধারণা তৈরির লক্ষ্যে এ আয়োজন করে বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটি ও বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ)।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির সভাপতি ও নিনমাসের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী। সেমিনারে জানানো হয়, সাইজে ছোট, কাজে বড় থাইরয়েড গ্রন্থি। থাইরয়েড সমস্যা দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা করালে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব। কিন্তু বিলম্ব হলে মানবদেহের বড় ক্ষতি হয়, প্রাণহানিরও শঙ্কা থাকে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়—দেশের কোটি কোটি মানুষ থাইরয়েডের সমস্যা ও রোগে আক্রান্ত হয়েও নিজের অজ্ঞাতেই রয়েছেন।

অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, থাইরয়েড দেহের একটি ভাইটাল অর্গান। থাইরয়েডজনিত সমস্যা শনাক্তকরণ ও চিকিৎসায় নিউক্লিয়ার মেডিসিন ও অ্যালায়েড সায়েন্সেস বিষয়গুলো বিরাট অবদান রাখছে। এ ধরনের আয়োজন থাইরয়েড রোগের চিকিৎসায় সর্বশেষ জ্ঞান সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সবার জানার সুযোগ তৈরি করে, পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি পায়।

অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী বলেন, থাইরয়েড গ্রন্থি টি৩, টি৪ হরমোন নিঃসরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা শরীরের বিপাক হার, হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ, ওজন ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এই ছোট গ্রন্থিতে জটিলতা দেখা দিলে নানা গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে সমস্যা হয়। হাইপোথাইরয়েডিজম, হাইপারথাইরয়েডিজম, গলগন্ড, থাইরয়েড ক্যানসারসহ নানা জটিলতা এই গ্রন্থিকে কেন্দ্র করে তৈরি হতে পারে। মা-বাবার থাইরয়েডজনিত সমস্যা থাকলে সন্তানের ৭০ শতাংশ পর্যন্ত থাইরয়েড রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আক্রান্ত ব্যক্তির ৬০ শতাংশ চিকিৎসা সেবার আওতায় নেই। ৬ শতাংশ রোগী সাব-ক্লিনিক্যাল হাইপোথাইরয়েডিজমে ভুগছেন, যার অধিকাংশই জানেন না। নীরব ঘাতক থাইরয়েড শারীরিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোগের শুরুতে থাইরয়েড শনাক্ত করে সফল চিকিৎসা সম্ভব।

তিনি বলেন, জীবনে চারটি সময়ে—জন্মের পরপরই, বয়ঃসন্ধিকালে, গর্ভধারণের পূর্বে এবং বয়স ৫০ হওয়ার পরপরই—থাইরয়েড স্ক্রিনিং জরুরি। থাইরয়েড চিকিৎসায় নতুন পদ্ধতি রেডিওফ্রিকোয়েন্সি ও মাইক্রোওয়েভের মাধ্যমে টিউমার অপসারণ করা যায়, যেখানে কোনো কাটাছেঁড়া ছাড়াই শুধু সুইয়ের মাধ্যমে টিউমার অপসারণ করা হয়। এতে রোগীকে অজ্ঞান করতে হয় না, হাসপাতালে থাকতে হয় না, বড় ধরনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই এবং খরচ কম।

অন্যান্য বক্তব্যে বিএমইউর ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন, অধ্যাপক ডা. ফরিদুল আলম, অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান তরফদার, অধ্যাপক ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস ও ডা. ফারিয়া আফসান গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন। গোলটেবিল বৈঠকে সাংবাদিকসহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা থাইরয়েডজনিত সমস্যা শনাক্তকরণ ও চিকিৎসায় আরও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন।

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়