মুসলিম ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করলো যুক্তরাষ্ট্র
প্রকাশিত:
১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ১৪:৪১
আপডেট:
১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ১৬:৫৩
মধ্যপ্রাচ্যের বহুল আলোচিত রাজনৈতিক সংগঠন 'মুসলিম ব্রাদারহুড'কে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করলো যুক্তরাষ্ট্র। হামাসকে সমর্থন এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের স্বার্থের পরিপন্থী কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অভিযোগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশেই নেয়া হয়েছে এমন সিদ্ধান্ত। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানায়।
মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট জর্ডান ও মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুডকে 'বিশেষ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী' এবং লেবাননের সংগঠনকে 'বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন' (এফটিও) হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে সমর্থন দেওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের স্বার্থবিরোধী কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানায় ট্রাম্প প্রশাসন।
মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট একটি বিবৃতিতে জানায় 'মুসলিম ব্রাদারহুডের শাখাগুলো সামাজিক সংগঠন হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করলেও, আদতে তারা স্পষ্টভাবে হামাসের মতো সন্ত্রাসী সংগঠনকে সমর্থন করে।'
যদিও ট্রাম্প প্রশাসনের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুডের কার্যনির্বাহী প্রধান সালাহ আবদেল হক জানায়, 'এই সিদ্ধান্ত অবৈধ এবং এটি বিশ্বের বহু মুসলিমের জন্য ক্ষতিকর। আমরা আইনগতভাবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লড়ে যাব।'
তিনি আরো জানান মুসলিম ব্রাদারহুড কখনোই কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনকে অর্থ এবং অন্যান্য সহায়তা দিয়ে সাহায্য করেনি। ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের চাপই ট্রাম্প প্রশাসনকে এই পদক্ষেপ নিতে প্রভাবিত করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
ওয়াশিংটনের এই ঘোষণার পর উক্ত সংগঠনগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া বর্তমানে নিষিদ্ধ। এছাড়া তাদের আয়ের উৎসও বন্ধ করার জন্য অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। এফটিও তালিকাভুক্ত লেবাননের সংগঠনের ক্ষেত্রে আরও কঠোর শাস্তি হিসেবে এর সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
উল্লেখ্য, মিশরসহ বেশ কয়েকটি দেশে 'ব্ল্যাক লিস্টেড' মুসলিম ব্রাদারহুড। ১৯২৮ সালে মুসলিম স্কলার হাসান আল-বান্না প্রতিষ্ঠা করেন সংগঠনটি। রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক সংগঠন আকারে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে শাখা-প্রশাখা রয়েছে সংগঠনটির।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: