বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন ২০২৬, ৪ঠা আষাঢ় ১৪৩৩
ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির আগে থেকেই জব্দ করা অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়ে আসছে ইরান। দেশটির বলেছে, জব্দ করা অর্থ ছাড় করা ব্যতিত কোনো ধরনের চুক্তি হবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পর দেশটির জব্দ করা অর্থ কোথায় আটকে আছে, তা নিয়ে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন ও ইরাকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে কাতার এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সংরক্ষিত তহবিল পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলার আটকে রয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা, মুদ্রাস্ফীতি এবং দীর্ঘদিনের বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে অন্তত ২৪ বিলিয়ন ডলার ছাড় দেওয়ার দাবি করেছে ইরান। তেহরান বলছে, বিভিন্ন দেশে অন্তত ১০০ বিলিয়ন ডলার আটকে রয়েছে। যদিও বিভিন্ন দেশের হিসাবে কিছুটা কম বলা হয়েছে।
পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্তকরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু ও আটকে থাকা অর্থ ফিরে পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এরমধ্যে অর্থছাড়ের বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, ইরানের আটকে থাকা সম্পদের বড় অংশ চীনে রয়েছে। সংবাদমাধ্যমটিসহ অন্যান্য সংস্থার তথ্য বলছে, দেশটিতে আটকে থাকা অর্থের পরিমাণ ২০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে। এসব অর্থের বেশিরভাগ চীনে তেল বিক্রির মাধ্যমে এসেছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পরও দেশটি ইরানের তেলের অন্যতম ক্রেতা।
আন্তর্জাতিকভাবে জ্বালানি লেনদেন ডলারের মাধ্যমে হওয়ায় তেহরান এসব অর্থের নাগাল পাচ্ছে না। এর কিছু অর্থ চীনা পণ্য ও যন্ত্রপাতি কেনাার জন্য ব্যবহৃত হলেও বড় অংশই এখনও আটকে রয়েছে।
ইরানের এসব অর্থের বেশিরভাগ তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিক্রির আয় থেকে এসেছে। কিন্তু মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ব্যাংক ও সরকার এসব অর্থ তেহরানে স্থানান্তর করতে পারছে না। কিছু তহবিল কেবল খাদ্য ও ওষুধের জন্য ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে। এমনকি মার্কিন ডলারের পরিবর্তে স্থানীয় মুদ্রায়ও কিছু অর্থ রাখা রয়েছে।
বর্তমানে এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় ইরান ২৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের দাবি জানিয়েছে। কারণ এসব অর্থ নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাঞ্চল্য আনতে পারে। এই অর্থ পেলে তেহরান তাদের মুদ্রার মান স্থিতিশীল করতে, আমদানি ব্যয় মেটাতে এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে পারবে।
ইরাক, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া
ইরানের বিদ্যুৎ ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিক্রির প্রায় ১০ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার ইরাকে আটকে রয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে এসব অর্থ দেশে আনতে পারছে তেহরান।
ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রত্যেকের কাছেও প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার করে আটকে আছে। এ দুটি দেশ ২০১৮ সালে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আগে ইরানের তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা ছিল। সেসব লেনদেনের অর্থ পরবর্তীতে স্থানীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আটকে রয়েছে।
কাতারে সংরক্ষিত বিলিয়ন ডলার
২০২৩ সালে মার্কিন-ইরান বন্দি বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার কাতারে স্থানান্তর করা হয়েছিল। চুক্তিতে এসব অর্থ মানবিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের কথা ছিল। কিন্তু ২০২৩ সালের অক্টোবরে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামীদের সংগঠন হামাস ইসরায়েলে হামলার পর এই তহবিলের ব্যবহার আরও কঠোর করা হয়েছে। এছাড়া জাপান, ওমান এবং লুক্সেমবার্গেও ইরানের বেশকিছু অর্থ আটকে রয়েছে।
ইরানের জন্য ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় এই অর্থ ছাড় সবচেয়ে বড় দর কষাকষির সুযোগ। এ অর্থ ছাড় করতে পারলে ইরান তাদের অর্থনীতিতে দ্রুত বৈদেশিক মুদ্রার জোগান দিতে পারবে।
গত সপ্তাহে রয়টার্সের এক প্রতিবেদন বলা হয়েছে, ইরান প্রাথমিকভাবে ৬ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন মধ্যস্থতাকারীরা মানবিক ব্যয় এবং ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি রক্ষার শর্তে পর্যায়ক্রমে অর্থ ছাড়ের কথা বলে আসছেন।