তিন পার্বত্য জেলায় ই-লার্নিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন
প্রকাশিত:
২৭ জানুয়ারী ২০২৬ ১৭:৪১
আপডেট:
২৭ জানুয়ারী ২০২৬ ১৮:৫০
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম জনপদে শিক্ষার আলো আরও ছড়িয়ে দিতে ১২টি বিদ্যালয়ে ই-লার্নিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এই উদ্যোগের মাধ্যমে পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা এখন থেকে ইন্টারনেটের সহায়তায় দেশ-বিদেশের মানসম্মত শিক্ষা ও শিক্ষকদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা থেকে ভার্চুয়ালি তিনটি প্রাথমিক ও নয়টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মতবিনিময়কালে প্রধান উপদেষ্টা এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সারা পৃথিবীতে ইন্টারনেট পৌঁছে গেছে অথচ তোমাদের ওখানে পৌঁছায়নি। এটা যে এতদিনেও হয়নি এজন্য সরকার দায়ী। আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। আজকে শুরু করলাম মাত্র ১২টা স্কুল নিয়ে। অথচ এটা সাড়ে তিন হাজার স্কুলে শুরু হওয়ার কথা। আমাদের খুব তাড়াতাড়ি সে লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে।’
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমাদের এত সুন্দর জায়গা, পৃথিবীতে এত সুন্দর জায়গা কয়টা আছে? অথচ ওখানে ভালো শিক্ষকরা যেতে চায় না। ইন্টারনেটের মজা হলো এখন আর এক শিক্ষকের ওপর নির্ভর থাকতে হবে না। শিক্ষক পৃথিবীর যেখানে আছে সেখান থেকেই তোমাকে পড়াবে। শিক্ষকের অভাবে তোমাদের শিক্ষার মান কমবে না।’ ইন্টারনেটের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও সহজ হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অধ্যাপক ইউনূস আরও বলেন, ‘আমরা সবাই এদেশের নাগরিক। অন্য নাগরিক যে অধিকার পায়, তোমরাও সে অধিকার পাবে। বঞ্চিত থাকার কোনো কারণ নেই। এটা দিতে না পারা হলো সরকারের অযোগ্যতা, এই অযোগ্যতা থেকে আমরা যেন বের হয়ে আসতে পারি।’
আজ থেকে রাঙামাটির রাণী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয়, কাপ্তাই আল-আমিন নূরীয়া দাখিল মাদ্রাসা, ফারুয়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ইসলামাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়; খাগড়াছড়ির কমলছড়ি পাইলট হাই স্কুল, হাজাছড়ি জুনিয়র হাইস্কুল, মানিকছড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও পুজগাং মুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বান্দরবানের বালাঘাটা আইডিয়াল স্কুল, হাজী ফিরোজা বেগম ওয়ামি একাডেমি, তিন্দু জুনিয়র হাই স্কুল ও বগামুখ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ই-লার্নিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পর্যায়ক্রমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিন পার্বত্য জেলায় নির্বাচিত ১৪৯টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এই কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, ‘আজ এই কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে সরকার তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করল। সরকার পার্বত্য অঞ্চলের মানুষদের পেছনে রাখতে চায় না। আমরা চাই পার্বত্য চট্টগ্রামের সাথে পুরো বাংলাদেশ ও গোটা বিশ্ব আরও সংযুক্ত হোক।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন– প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: