বৃহস্পতিবার, ১৬ই এপ্রিল ২০২৬, ৩রা বৈশাখ ১৪৩৩


‘বল প্রয়োগের মাধ্যমে চলছে হকার উচ্ছেদ, পুনর্বাসন ছাড়া এটা চলবে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২০

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ চলবে না, উল্লেখ করে হকাররা বলছেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ঢাকাসহ সারাদেশে ফুটপাতের হকারদের বিরুদ্ধে চলছে এক নির্মম ও নিষ্ঠুর অভিযান। তারা বলেন, উচ্ছেদের নামে প্রতিদিন ব্যাপক ভাঙচুর, মালামাল নষ্ট, লুটপাট চালানো হচ্ছে।

হাজার হাজার স্বল্প পুঁজির হকার মালামাল হারিয়ে, রুটি-রুজির জায়গা থেকে বিতাড়িত হয়েছে। এই মানুষগুলো সর্বস্বান্ত অবস্থায় পরিবার, পরিজন নিয়ে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। এই দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া মানুষগুলো আজ প্রতিরোধ সংগ্রামে নেমেছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের ব্যানারে আয়োজিত এক সমাবেশ হকাররা এ কথা বলেন।

তারা বলেন, হকারদের জীবন বাঁচাতে অবিলম্বে জীবিকা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে। দেশের শহরাঞ্চলে চাকচিক্য দিন দিন বাড়ছে। অন্যদিকে কর্মসংস্থান নেই। শহরের চাকচিক্যের জন্য যে তোড়জোড় তার নাম দেওয়া হয়েছে ‘উন্নয়ন’। এই কর্মসংস্থানহীনতা ও চাকচিক্যের উন্নয়নে নানান আক্রমণে দেশের শ্রমজীবী মানুষ আজ দিশেহারা। সর্বত্র নির্মম বল প্রয়োগের মাধ্যমে চলছে হকার উচ্ছেদ। গরিব মানুষের ওপর জবরদস্তি ছাড়া উন্নয়ন হয় না, এটা যাদের ভাবনা, তাদের কাছে কয়েক লক্ষ হকার, বস্তিবাসী, নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ, এমনকি মাঝারি পুঁজির ব্যবসায়ীদের কান্না ও আর্তনাদের কোনো মূল্য নেই।

হকাররা বলেন, বহু প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে চলছে হকারদের ১০ দফা দাবির আন্দোলন। নিরীহ হকারদের বিরুদ্ধে সিটি কর্পোরেশন ও প্রশাসনের এই নিষ্ঠুর উচ্ছেদ অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করা, মামলা-গ্রেপ্তার ও নির্যাতন বন্ধ করা এবং পুনর্বাসনের যথাযথ ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত ফুটপাতের চার ভাগের এক ভাগ জায়গায় হকার বসতে দেওয়ার দাবিতে সারা দেশের সব হকারকে একত্রিত হয়ে আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে হকারদের অধিকার আদায়ের সংগঠন বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন।

এসময় হকাররা জীবন-জীবিকা রক্ষার ১০ দফা দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ করা চলবে না, হকারদের অর্থনৈতিক অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে। জীবিকা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে। হকারদের নিকট থেকে চাঁদাবাজি বন্ধ করে রাজস্ব আদায়, হকারদের ওপর মামলা-গ্রেপ্তার, দমন-পীড়ন-নির্যাতন বন্ধ, প্রকৃত হকারদের তালিকা প্রণয়ন করতে হবে।

এছাড়া দখল করা সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করে হকারদের বরাদ্দ দিয়ে হকারদের পুনর্বাসন, ৫ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ, জাতীয় বাজেটে হকারদের জন্য বরাদ্দ, হকার্স মার্কেটগুলোতে প্রকৃত হকারদের নামে বরাদ্দ দিতে হবে।

সমাবেশে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল হাশিম কবির, সাধারণ সম্পাদক হযরত আলীসহ ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হকাররা অংশ নেন।

সম্পর্কিত বিষয়:

আপনার মতামত দিন:

(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)
আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়